টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোমাঞ্চের হাতছানি সেন্টমার্টিন !

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজার অফিস **

চারদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। এর মাঝেই ছোট্ট একটি দ্বীপ। উত্তাল সাগরের একটানা বাতাসে সারাক্ষণই দুলছে দ্বীপ ছেয়ে থাকা নারিকেল গাছের পাতা। মূল ভূখণ্ড থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অপার সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চ নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে থাকা দ্বীপটির নাম সেন্টমার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ। স্বচ্ছ জলবেষ্টিত দ্বীপটির প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে রোমাঞ্চপিয়াসী পর্যটকদের। পর্যটন মৌসুম শীতকালে মাত্র চার মাস চালু থাকে দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের জাহাজ চলাচল। তখন নারিকেল
জিঞ্জিরা
নামের দ্বীপটিতে উপচেপড়া ভিড় থাকে পর্যটকের। প্রতিবছরই তাদের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটন মৌসুমে ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক ঘুরতে যান দেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে সাগরে অবস্থান সেন্টমার্টিনের। টেকনাফ থেকে জাহাজে দুই ঘণ্টায় সাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়া পর্যটকদের জন্য এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। সকালে গিয়ে বিকেলেও ফিরে আসা যায়। দ্বীপে রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও রয়েছে। ছোট-বড় অর্ধশত হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস গড়ে উঠেছে। তবে মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সেন্টমার্টিনে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ১০ লাখের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণে যান। সাগরের বুকে নীল জলবেষ্টিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মারামারি নেই। এটিকে ফৌজদারি অপরাধমুক্ত এলাকা বলা যায়। নয়নাভিরাম এই দ্বীপের প্রতি পর্যটকদের আকৃষ্ট হওয়ার পেছনে এটিও একটি বড় অনুষঙ্গ।
দ্বীপটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এবং অনেকটা ডাম্বেল আকৃতির। এর প্রধান দুটি অংশ হলো উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া। মাঝখানের সংকীর্ণ অংশের নাম গলাচিপা। সর্বদক্ষিণে রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্যের আরেকটি দ্বীপ ছিরাদিয়া। যা জোয়ারের সময় মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনটি খুব ছোট দ্বীপের রূপ ধারণ করে। দ্বীপের উত্তর-পূর্বাংশ ছাড়া প্রায় সম্পূর্ণ অংশই পাথরময়।
সেন্টমার্টিনের মোট ভূমির পরিমাণ ৮০১ একর। দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এর মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার। বাকিরা ব্যবসা বা চাকরিসূত্রে এখানে বাস করেন। দ্বীপের অভ্যন্তরীণ যানবাহন কেবল রিকশাভ্যান। দ্বীপবাসীর প্রধান পেশা মাছ ধরা। দ্বীপটিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল জন্মে। পাথুরে কাঁকড়া, সন্ন্যাসী কাঁকড়া, লবস্টার, সমুদ্র শশা, ঝিনুক ও শামুক পাওয়া যায় এখানে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, সেন্টমার্টিনের আদি নাম ছিল ‘নার্জিল জাজিরা’। জাজিরা আরবি শব্দ, অর্থ উপদ্বীপ। নার্জিল শব্দের অর্থ নারিকেল। স্থানীয়রা জানায়, কোনো এক সময় আরব বণিকদের জাহাজ এই দ্বীপে যাত্রাবিরতি করত। তাদের কারণে দ্বীপের নাম হয় নার্জিল জাজিরা। দ্বীপে নারিকেল গাছের আধিক্যই এমন নামকরণের কারণ। পরে জাজিরা নামটি স্থানীয় অধিবাসীদের মুখে জিঞ্জিরা হয়ে যায়।দ্বীপের প্রবীণ বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান শামশুল ইসলাম জানান, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৮ সালে সিএস জরিপে এ দ্বীপের নামকরণ হয় মার্টিন নামক এক ব্রিটিশ সাধুর নামে। এরপর থেকে সরকারি বালামে নারিকেল জিঞ্জিরা হয়ে যায় সেন্টমার্টিন। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয় বলে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুধু শীতকালেই পর্যটকরা সেখানে যেতে পারেন। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত পর্যটকের উপস্থিতি ময়লা-আবর্জনায় বিপন্ন করে তোলে দ্বীপটিকে। পর্যটনের অপার সম্ভবনাময় দ্বীপটিকে ঘিরে এখনও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন মৌসুমে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে দ্বীপটিতে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে। তবে তার পরও থেমে নেই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। দ্বীপে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ তা মানছে না। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, দ্বীপে এখন লোকসংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এর মধ্যে আড়াই হাজার ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে বাইরে থেকে আসা। দ্বীপে পর্যটক উপস্থিতি প্রতি বছরই বাড়ছে। মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। তিনি বলেন, দ্বীপে নেই কোনো পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। বর্জ্য-ময়লা-উচ্ছিষ্টে দূষিত হয়ে পড়ছে ভূগর্ভস্থ পানি। সংশিল্গষ্ট দপ্তর এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। দ্বীপে যত্রতত্র গড়ে উঠছে হোটেল, গেস্টহাউস, রেস্তোরাঁ। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশিল্গষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। দ্বীপের পাথর তুলে তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। একটি চক্র পাথর তুলে অন্যত্র পাচারও করছে। দ্বীপের পরিবেশকর্মী রফিকুল ইসলাম জানালেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর চালানোয় এর শব্দে সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজনন এবং বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শতাধিক জেনারেটরের কালো ধোঁয়ায় পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হবে। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আগামীতে পর্যটকের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT