টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

bnp-press-brif-bg20130515001754ঢাকা: আগামী ১৯ মে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। বুধবার জোটটির ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, রাজবন্দীদের মুক্তি, হেফাজতের ওপর হামলা এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে এ হরতাল আহবান করা হয়েছে।

বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ১৮ দলের এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি ১৮ দলীয় জোট। সেদিন সংবাদ সম্মেলন ডেকে কর্মসূচির তারিখ বদলে বুধবার একই সময় একই স্থানে হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু বুধবারের সমাবেশেরও অনুমতি না পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আবারও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হরতালের কর্মসূচি দেয় জোট।

সংবাদ সম্মেলনে দুদু বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে, রাজবন্দীদের মুক্তি দাবিতে এবং হেফাজতের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছিলাম। একবার তারা ১৪৪ ধারার পরিস্থিতি তৈরি করে। আর এবার নিরাপত্তার কথা বলে টিভিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো।”

তিনি বলেন, “এই নিরাপত্তা কার? গণতন্ত্রের? যারা অধিকারের কথা বলবে, তাদের গলা টিপে ধরার নিরাপত্তার কোনো দরকার নাই।”

এক ব্যক্তি পদত্যাগ করলেই দেশে হরতাল, সংঘর্ষ, সভা, সমাবেশ, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন শামসুজ্জামান দুদু।

সরকার দলীয়দের উদ্দেশ্যে দুদু বলেন, “যার নেতৃত্বে আগামীতে নির্বাচনের খায়েশ করছেন, প্রত্যাশা করছেন, ওই একজন না থাকলে হরতাল, সংঘর্ষ থাকবে না। তিনি পদত্যাগ করলে দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হবে।”

এই ‘এক ব্যক্তি’ বলতে দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন বলেও স্পষ্ট করেন।

দুদু বলেন, “বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ যে ব্যক্তির নেতৃত্বের কথা বলেছেন তিনি পদত্যাগ করলে সভা, সমাবেশ, প্রতিবাদ বিক্ষোভ কোনোটিই করা লাগবে না।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত হরতালবিরোধী সমাবেশে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই আলোচনা হবে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে। আর এ সরকারের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

সংবাদ সম্মেলনে দুদু আরও বলেন, “সংলাপের কথায়, জাতিসংঘের প্রতিনিধির সংলাপ বিষয়ক পরামর্শে আমরা নেতাকর্মীরা আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু আজ (বুধবার) আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না দেওয়ায় প্রমাণ হলো, সরকার সংলাপ চায় না।”

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও সহিংসতার সমাধানের জন্য দ্রুত সংলাপে বসা প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানের জন্য এই (সংলাপের) সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

দুদু বলেন, “সরকার আলোচনা চান কি না, সংলাপ পছন্দ করেন কি না স্পষ্ট করে বলতে হবে।”

কর্মসূচি পালনের অনুমতি না দেওয়ায় দুদু বলেন, “যে দল কিছুদিন আগেও দেশ পরিচালনা করেছে, সেই দল কেনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। দেশে কি সেই দল এখন নিষিদ্ধ কি না, জানতে চাই সরকারের কাছে।”

দলের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দুদু।

তিনি বলেন, “সরকার কোনোভাবে শান্তির জন্য কাজ করছে না। দেশটাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে তারা।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকতুল্লাহ বুলু, নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবুদস সালাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT