টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

রংপুর সিটির প্রথম মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হলেন নাগরিক কমিটির প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টু।

বৃহস্পতিবার দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পর ভোররাতে বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম।

শরফুদ্দিন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার চেয়ে ২৮ হাজার ৪৫০ ভোট বেশি পেয়েছেন।

মোট ১৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটির ফলাফলে দেখা যায়, মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে নাগরিক কমিটি প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট। হাঁস প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ও তৃণমূল জাতীয় পার্টির জেলা আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট।

শীতের রাতে নগরীর পুলিশ কমিউনিটি হলে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বেসরকারি ফল ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েন শরফুদ্দিন সমর্থকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ হয়। এতে অংশ নেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ভোটার।

জাতীয় পার্টির এক সময়ের নেতা শরফুদ্দিন ও মোস্তফা দুজনই সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। ফল যাই হোক, তারা তারা মেনে নেবেন।

তবে গণমঞ্চের প্রার্থী বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সন্ধ্যায় নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন।

নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবের আমেজে ভোট হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।”

কনকনে শীতে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়।১১ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ নিয়েও উৎস্যুক ছিলেন ভোটাররা।

তবে নির্বাচনী এলাকার ৭০টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় প্রতিটি কেন্দ্রে তিনটি করে চার্জার লাইট দিয়ে ভোটগ্রহণ হয় বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান।

সকালে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহেন্দ্রপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেন।

এছাড়া আর কোথাও বড় কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৯ হাজার ১২৮ জন এবং নারী ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৪ জন।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী না থাকলেও এই নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৪০৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মেয়র পদের অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত এবং তৃণমূল জাতীয় পার্টির মহানগর আহ্বায়ক আব্দুর রউফ মানিক, নাগরিক মঞ্চের কাজী মাজিরুল ইসলাম লিটন, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু।

এছাড়া ছিলেন ফিরোজ কবির চৌধুরী গুঞ্জন, ফারুখ আজিজ শাহীন, আলী হায়দার দুলু, মেহেদী হাসান বনি ও সাফিউর রহমান সফি।

সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১৭ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নিজের এলাকায় এই মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন। দলীয় কোন্দলে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এরশাদ নিজের এলাকার এই নির্বাচনে দলের কাউকে সমর্থন দেননি।

মেয়র নির্বাচিত হলে কী কী কাজ করবেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীহ নেতা শরফুদ্দিন ভোটগ্রহণের আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জীবনের পড়ন্ত বেলায় নিজেকে জনগণের সেবায় উৎসর্গ করতে চান তিনি। একটি সুন্দর পরিকল্পিত নগরী নির্মাণের স্বপ্ন রয়েছে তার।

নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নের আগে সেখানো কোনো করারোপ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

শরফুদ্দিন বলেছিলেন, “মেয়র নির্বাচিত হলে গ্যাস সরবরাহের আন্দোলন শুরু করব। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নগরীর চার লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করব। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখব।”

১৮৬৯ সালের ১ মে গোড়াপত্তন হয় রংপুর পৌরসভার। ৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় তখন ওয়ার্ড ছিল ১৫টি। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন রংপুরের কালেক্টর ই জি গ্লেজিয়ার। সর্বশেষ চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুর রউফ মানিক, যিনিও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করেন।

চলতি বছরের ২৮ জুন রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়। পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ২০৩ বর্গকিলোমিটার করে ৩৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা নতুন সিটি করপোরেশনকে।

করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কাজী হাসান আহমেদ। তিনি এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি শরফুদ্দিনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT