টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে বিএমএসএফের কমিটি অনুমোদন সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগর থেকে ৫ লাখ ইয়াবাসহ ৭ জন আটক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী বিদায় শতাব্দীর মহাজাগরণের প্রতীক: মাদ্রাসা পরিচালনায় নতুন কমিটি আল্লামা আহমদ শফী হুজুরের জানাজা সম্পন্ন, লাখো মানুষের ঢল ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ আসছে পৃথিবীতে: ক্ষুধায় মরবে কোটি মানুষ শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া বাজার কমিটির উদ্যোগে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আল্লামা শাহ শফীর জানাজা শনিবার দুপুর ২টায় হাটহাজারীতে টেকনাফে গোদারবিলের জাফর আলম ও ফারুক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৪

যে মেয়র সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন না

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
  • ২৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম আমান উল্লাহ আমান:::দেশে এখনো ভাল মানুষ আছেন। একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্ণধার হয়েও সেই প্রতিষ্ঠানের সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন না তিনি। সরকারী প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার র্পাসেন্টেজ তো দূরের কথা, অফিস খরচ, যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কোনটিই তিনি গ্রহণ করেন না। সরকার নির্ধারিত তাঁর মাসিক সম্মানী ভাতা উত্তোলন করে গরীব অসহায়দের মাঝে বন্টন করে দেন তিনি। প্রতি মাসে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে অর্ধশত অসহায় গরীব নারী-পুরুষকে গত ৫বছর ধরে ভাতা দিয়ে আসছেন তিনি। হ্যাঁ, এতক্ষণ যার কথা বলছি তিনি হলেন সীমান্ত শহর টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মুহাম্মদ ইসলামের কথা। টেকনাফের টাকাওয়ালা এবং ক্ষমতাবান অনেকের ব্যাপারে অনেক কথা শুনা গেলেও হাজী মুহাম্মদ ইসলাম সম্পর্কে এধরণের কোন কথা শুনা যায়নি। অবশ্যই বলতে হয় আজকের দিনে আমাদের এই সমাজে তিনি একজন ব্যতিক্রম মেয়র, আদর্শ দরদী জননেতা।
গত ৩১ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ পেশাগত কারণে টেকনাফ গিয়েছিলাম। এসময় দুর্দশাগ্রস্থ শাহপরীর দ্বীপবাসীর খোঁজ খবর নেয়ার সুযোগ হয়। কাজ শেষে গিয়েছিলাম টেকনাফ পৌরসভায়। ওই দিন ডায়মন্ড প্যালেসের সত্ত্বাধিকারী আলহাজ আবুল কাসেম সিকদার টেকনাফ যাওয়ার সময় আমিও তাঁর সফর সঙ্গী হয়েছিলাম। এতে আমার যাতায়াতটা সহজ হয়।
বিগত ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে টেকনাফে যাওয়া হয়েছে হাতে গুনা কয়েকবার। যদিও ১৯৮১-১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয়ে আমি পড়া-লেখা করেছি। তখন ছাত্র বলে কোন কথা ছিলনা, ইসলাম প্রচার ও তাবলীগের কাজ করতাম সকলের কাছে। এসুবাদে টেকনাফের প্রায় শিক্ষিত লোকজন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আলেম ওলামাদের সাথে ছিল আমার ভাল সম্পর্ক ও পরিচিতি। ঘনিষ্টতা ছিল এমপি আব্দুল গফুর, এমপি আব্দুল গণি, উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন, (এমপি াাব্দুর রহমান বদির পিতা) উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এজাহার মিয়া কোম্পানী, হৃীলা বড় মাদ্রদাসার মুহতামিম আলহাজ আবুল মঞ্জুর ফকির, টেকনাফ বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শফিক আহমদ ও চেয়ারম্যান মোস্তাকের সাথে, তাঁরা কেউ এখন আর বেঁেচ নেই। শিক্ষাবিদ মমতাজ স্যার, মোস্তাক স্যার, আব্দুর রাজ্জাক স্যার, (তিনজনই টেকনাফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন) মুজহের স্যার, জুলফিকার স্যার, শাকের আহমদ স্যার, বিমল স্যার, খলিলুর রহমান স্যার, মাওলানা নূরুল হক স্যার সবাই আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের অনেকেই এখন চলেগেছেন পরপারে। ভাল জানাশুনা ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রফিক, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার মিয়া, এডভোকেট আমির হোছাইন, উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার ও চেয়ারম্যান মির কাশেম, মরহুম মাওলানা নুরুল আলম চৌধুরী ও মরহুম মেম্বার মাওলানা আমির আহমদ এর সাথে। কিছুটা পরিচয় ছিল বর্তমান টেকনাফ পৌর মেয়র হাজি মুহাম্মদ ইসলামের সাথেও। অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী সাহেবের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তিনি এমপি হওয়ার পরে। যখন দৈনিক হিমছড়ি প্রকাশ করে আমি সাংবাদিকতায় অত্ম নিয়োগ করি।
সহপাঠীদের মধ্যে এমপি আব্দুর রহমান বদি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন কাদেরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. মুহাম্মদ আলী, (এমপি সাহেবের ভগ্নিপতি) প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন, (ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যাল টেকনাফ কলেজ) প্রফেসর শামসুল আলম, মরহুম প্রফেসর শামসুল আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র টেকনাফ পৌরসভা মুহাম্মদ ইসমাঈল, কক্সবাজার কোর্টের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা, চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, এড. আব্দুল আমিন, ব্যংকার মুহাম্মদ ইলিয়াছ, প্রবাসী মুহাম্মদ তারেক (এখন দেশে আছেন), ইয়াকুব, রুহুল কাদের, শিক্ষক এইচ এম কামাল ও মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য।
সেদিন পৌরসভা অফিসে ঢুকতেই দেখি পুলিশের কড়া পাহারা। জানতে পারলাম বড় একটা টে-ার ড্রপিং ও ওপেনিং আছে, তাই যে কোন অকারেন্স এড়াতে এই ব্যবস্থা। মেয়রের কক্ষে ঢুকতেই দেখি বেশ জমজমাট অবস্থা। পৌরসভার ৫কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার ড্রপিং এর কাজ চলছে। কাউন্সিলার, বিভিন্ন ঠিকাদার, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও পৌরসভার কর্মকর্তারা ভীড় করছে। সরকার দলের অনেক নেতা-কর্মীরাও সেখানে আছেন। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে জনাব হাজী মুহাম্মদ ইসলাম মেয়র হওয়ার পর থেকে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি। মনে মনে ভাবছিলাম ৩০/৩১ বছর পরে মেয়র সাহেবের সাথে দেখা হচ্ছে তিনি আমাকে চিনবেন কি না। এটা ওটা ভাবতে ভাবতে আমি দরজায় একটি চেয়ারে বসে পড়লাম। কিন্তু মেয়র সাহেব আমাকে দেখেই বললেন ওখানে বসে থাকলে হবে না, কাছে আসেন। অনেকটা জোর করে ডেকে নিয়ে তাঁর পাশে বসালেন। সেখানে প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আলহাজ্ আবুল কাসেম শিকদার (প্রকাশ ডায়মনন্ড কাসেম), প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী, যুবলীগ নেতা সোহাগ ও ব্যবসায়ী জহিরসহ পরিচিত অনেকেই ছিলেন।
টেন্ডার ড্রপিং এর এই আয়োজন দেখে সত্যিই আমি একটু ভাবনায় পড়ে গেলাম। কারণ মেয়র সাহেব এমপি আব্দুর রহমান বদির চাচা। এমপি সাহেবের আপন ভাই, ভগ্নিপতিসহ অনেক দলীয় লোক ও আত্মীয় স্বজন সেখানে ঠিকাদারী কাজ করেন। এমপি সাহেব ইশারা করলেই মেয়র সাহেবের কোন আপত্তি থাকবে না। ৫কোটি টাকার এত বড় একটি কাজ তাঁর আত্মীয় স্বজনরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে পারেন। এভাবে পুলিশ দিয়ে টেন্ডার ড্রপকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রকাশ্যে টেন্ডার ড্রপিং এর কোন প্রয়োজন পড়ে না। এতে কারো আপত্তি করার সাহস ও সুযোগ থাকবে না। এব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র সাহেব বলেন ‘তিনি কোন ধরণের অনিয়ম করতে চান না। একশত ভাগ সচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করতে চান। গত তিন বছরে পৌরসভায় বাস্তবায়িত ১২২টি প্রকল্পে ২৫ কোটি, ৭৪ লাখ, ৬১ হাজার ৮৩০ টাকার কাজ হয়েছে। এসব কাজে কোন ধরণের অনিয়ম তিনি করতে দেননি। এসব কাজ থেকে পার্সেন্টেজ তো দূরের কথা, নুন্যতম কোন সুবিধাও তিনি ভোগ করেননি’। এই প্রকল্পটিতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান তিনি। এই কথা বলতে বলতে পৌরসভায় ‘গত তিন বছরে যা হয়েছে’ নামে প্রকাশিত একটি বুকলেট আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন মেয়র। এসময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ‘নিয়ম নীতির মধ্য দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানই কাজ পাক আমার কোন আপত্তি নাই। তবে কাজে কোন ধরণের ফাঁিক দেয়া যাবে না। তাঁর অফিসের পাশেই কবরস্থানের দিকে ইশারা করে বলেন, এই চেয়ারে বসে ভাল মন্দ ভুলে গেলে চলবে না। ওখানে গেলে সব হিসাব দিতে হবে’। এসময় সালাতুজ জুহুরের আজান হচ্ছিল। আজান শুনে তিনি এক্সিএনকে বলেন ‘টেন্ডার বাক্সের চাবিটা আমার কাছে দেন। আমি নামাজ সেরে আসলে সবার সামনে টেন্ডার বক্স উপেন করা হবে’।
এতে স্বভাবতই আমরা একটু হতবাক হলাম। এটি এমপি বদির ঘরের পৌরসভা। এখানে মেয়র তাঁর চাচা, ভাই, ভগ্নিপতি, আত্মীয়রা এখানে ঠিকাদার। এমপি বদিকে নিয়ে যতসব গল্প আমরা শুনছি, এখানে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করলেও বলার কেউ আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু না, এখানে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ এমপি বদির কোন ধরণের চাপ আছে বলে মনে হল না। মেয়র সাহেব যথা নিয়মে জুহুরের সালাত আদায় করে এসে প্রকাশ্যে সবার সামনে টেন্ডার বক্স খুলেন। এতে দেখা গেল ৯টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ড্রপ করেছে। তখন মেয়র সাহেব বললেন, যাচাই বাছাই করে যে প্রতিষ্ঠান পাওয়ার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে সেই প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে। টেকনাফ পৌর যুবলীগের সভাপতি মঞ্জুরুল করিম সোহাগ জানান, রাজনীতির পাশপাশি তিনিও একজন ঠিকাদার। টেকনাফ পৌর মেয়র হাজী মুহাম্মদ ইসলামের মত একজন জনপ্রতিনিধি বিরল। তিনি গোটা কক্সবাজারবাসীর জন্য গর্ব।
কাজের ফাঁকে মেয়রের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম, পৌরসভার কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন না তিনি। এমনকি যাতায়াত, গড়ির তেল খরচ ও গ্রহণ করেন না। অফিস চলাকালে নাগরিকদের মেহমানদারী বাবৎ খরচের টাকাও বহন করেন তাঁর পকেট থেকে। সম্মানী ভাতাও নিজে নেন না তিনি। মেয়র হিসেবে তাঁর জন্য নির্ধারিত মাসিক ১৫ হাজার সম্মানী ভাতার টাকা উত্তোলন করে এর সাথে আরো ২৭ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে দিয়ে ৪২ জন অসহায় নারী-পুরুষকে প্রতি মাসে একহাজার টাকা করে বন্টন করে দেন। এভাবে গত ৫বছর ধরে দিয়ে আসছেন তিনি। সেদিনও উপস্থিত শতাধিক লোকজনকে পৌরসভার টাকা বাচিয়ে নিজের পক্haji md islamষ থেকে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে।
সীমান্ত শহর টেকনাফ পৌরসভাকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন টেকনাফ পৌর মেয়র হাজী মুহাম্মদ ইসলাম। আজকের দিনে টেকনাফ পৌর মেয়র হাজী মুহাম্মদ ইসলামকে সত্যিকারের একজন দরদী ও আদর্শ জনপ্রতিনিধি বলা চলে। অন্যান্য পৌরসভা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত ও উদাহারণ হতে পারেন তিনি। ০২.০৯.২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ। #

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT