টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

যুদ্ধাপরাধী আওয়ামী লীগেও, করতে হবে তাদের বিচারও

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে জড়িত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও দলে রয়েছে দাবি করে তাদের বিচারও চেয়েছেন খালেদা জিয়া।

জামায়াতে ইসলামী নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকার একচোখা নীতি অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

বড় দিন উপলক্ষে রোববার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, শুধু জামায়াত নেতাদের ধরলে হবে না। আপনার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারে এবং দলের ভেতরে যেসব যুদ্ধাপরাধী আছে, তাদের ধরে বিচার করুন।”

আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় যাওয়ার পর যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু করে। এখন পর্যন্ত জামায়াতের ১০ জন এবং বিএনপির দুজন মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।

জোট শরিক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালে জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করেছে। এরআগে ’৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল। তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না! এখন তারা যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেছে?

“যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই। তবে সেই বিচার স্বচ্ছ হতে হবে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে যেসব কথা-বার্তা প্রকাশ হয়েছে, মানুষ এই সরকারের ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না।”

“কারণ সরকার বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। দলীয় লোকজনকে বিচারক পদে নিয়োগ দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চে বসানো হচ্ছে। ফলে বিরোধী দল জামিন পায় না। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সরকার ভেবেছে, জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করেছি। এবার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকব।”

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি দল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানায়। সেখানে শিশুদের সঙ্গে একটি কেকও কাটেন খালেদা জিয়া। পরে আর্চ বিশপ পোলিনস কস্টা বিরোধীদলীয় নেতার হাতে ফুল তুলে দেন।

বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, কোনো ধর্মের মানুষ এখন শান্তিতে নেই।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের উচ্চ মূল্যের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

“বর্তমান সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ নির্যাতিত। সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা রামুতে হাজার বছরের বৌদ্ধ বিহার-মঠ পুড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বজিত দাসকে কীভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে, দেশের মানুষ তা দেখেছে।

“সম্পত্তি দখলের জন্য শিশু পরাগ মন্ডলকে অপহরণ করা হয়েছিল। অনেক টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। তারপরও সরকারের গলাবাজি কমেনি,” বলেন খালেদা জিয়া।

হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি-সম্পত্তি ও মন্দির দখলের জন্য ছাত্র ও যুবলীগকর্মীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাদের আটকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একদিকে অপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। শীর্ষসন্ত্রাসী বিকাশকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অথচ আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।”

খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বিএনপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন, কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়নি তারা। আমাদের সঙ্গে আসুন। আমরা আপনারা সম্মান ও দলে কাজ করার সুযোগ দেব।”

অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ফজলুল হক, আবদুস সালাম, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT