টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে নবযাত্রার শুরু…শেখ হাসিনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সোমবার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঐতিহাসিক রায়ে ফাঁসির আদেশ হয় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদের।

শেখ হাসিনার সরকার চার বছর আগে দায়িত্ব নেয়ার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একাত্তরের মানতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

ওই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ের দিন সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভায় প্রতিক্রিয়া জানান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমরা ওয়াদা করেছিলাম, এ বিচার করব। আল্লাহর রহমতে প্রথম রায় ঘোষিত হয়েছে।”

প্রথম রায়ের দিনটিকে ‘বিশেষ দিন’ অভিহিত করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে জাতির ‘নবযাত্রা শুরু হয়েছে’।

“জাতির দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষা পূরণ হল, পূরণ হতে চলেছে। জাতির ললাট থেকে কলঙ্ক মোচন করতে চাই। সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ আমরা সমাপ্ত করেছি। এ বিচার চলতে থাকবে। যখন যাকে পাওয়া যাবে তার বিচার হবে।”

এ বিচার প্রক্রিয়া কেউ-ই বন্ধ করতে পারবে না, দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

আযাদ পলাতক অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির আরো ১০ নেতার বিচার চলছে, এর মধ্যে আরো দুজনের মামলায় রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।

এই বিচারে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়েছিল, গণহত্যা করেছিল, লুটপাট করেছিল; তাদের বিচার এ বাংলার মাটিতেই হবে।”

গত ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠনের পর এটাই ছিল প্রথম বৈঠক।

বৈঠকের শুরুতেই কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আমরা এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছি। সেজন্য, সকলের পক্ষ থেকে আপনাকে (শেখ হাসিনা) আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

শেখ হাসিনাও তার বক্তব্যের শুরুতে নব-নির্বাচিত কমিটির সবাইকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, জনগণের তার দলের ওপর আস্থা আছে বলেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল।

“জনগণের কাছে দেয়া কথা আমরা পূরণ করে যাচ্ছি। সব করা সম্ভব হয়নি।”

১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাদের বিচার শুরু হলেও তা বন্ধের জন্য পরবর্তী সরকারগুলোকে দায়ী করে শেখ হাসিনা বলেন, “সামরিক অধ্যাদেশ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা হয়। যারা দেশ ছেড়ে চলে যায়, তাদের দেশে ফেরত এনে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।”

১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ শুরু হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা হয়ত কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে তখন থেকেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করি।

“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন হবে না- এটা তরুণ প্রজন্মের কাছে ছিল বিরাট প্রশ্ন।”

 

শেখ হাসিনা বলেন, “আজ  আমি আশাবাদী, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা আত্মনির্ভর জাতি হিসাবে মাথা তুলে চলব। আমরা বিজয়ী জাতির মতো মাথা উঁচু করে চলব।”

‘আর যেন কোনো অভিশাপ নেমে না আসে,’ সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT