টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

মুসলিম উম্মাহর সেবায় সৌদি আরব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

‘মু1_108198সলিম ও আরব দেশের ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আমরা সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব এবং মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব।’ সাবেক খাদিমুল হারামাইন আল শরীফাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজের উপরোল্লিখিত বক্তব্যে ইসলাম এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য সৌদি আরবের ত্যাগের স্বরূপ প্রতিবিম্বিত হয়েছে। সৌদি আরব বিভিন্নভাবে মুসলিম উম্মাহর সেবায় নিয়োজিত। আর্থিক সাহায্য হিসেবে রাজকীয় সৌদি আরব শত শত কোটি ডলার সারা বিশ্বে খরচ করেছে। প্রতিবছর পবিত্র মক্কা নগরীতে মুসলমানদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপত্তা সহকারে হজ, উমরাহ ও জিয়ারত সম্পাদনের নিমিত্তে ব্যাপকভাবে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মদিনায় মসজিদে নববির বিস্তৃতি সাধন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য উল্লিখিত বৃহৎ প্রকল্প ছাড়াও সৌদি আরবের অসংখ্য মানবসেবামূলক প্রকল্পসমূহের মধ্যে রয়েছে- অমুসলিম দেশে অবস্থিত সংখ্যালঘু মুসলমানদের নানাবিধ সেবা প্রদান করা। পরিচিত মুসলিম বিশ্বের বাইরেও কোটি কোটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে নিজ নিজ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করছে এবং ক্রমে তাদের সংখ্যা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামের সূতিকাগার হিসেবে সৌদি আরব শুধু মুসলিম বিশ্বের প্রতি নয়, বরং এর বাইরে অবস্থিত মুসলমানদের প্রতিও বিশেষ দায়িত্ব অনুভব করছে। এ দায়িত্ব পালনার্থে গত কয়েক দশক ধরে সৌদি আরব অমুসলিম সমাজে ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় প্রয়োজন মেটাতে এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জোরদার করতে অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের পুরোভাগে রয়েছে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্রসমূহ নির্মাণ করা। এ ধরনের প্রকল্প বহু আগে থেকে শুরু হলেও আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসব প্রকল্প ব্যাপকতা লাভ করে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে ১৫০০ মসজিদ ও ২১০টি ইসলামী কেন্দ্র সৌদি সরকারের খরচে নির্মিত হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলো বহুমুখী ভবনরূপে নির্মিত হয়েছে, যা শুধু ধর্মীয় চাহিদাই নয়, বরং মুসলমানদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য চাহিদাও মেটাতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত ইসলামী কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, শিকাগো, মাদ্রিদ, লন্ডন, রোম, প্যারিস, বন, ব্রাসেলস, জেনেভা, টোকিও, টরেন্টো, ভিয়েনা, লিসবন, বুয়েন্স আয়ারস, এডেনবরায় এবং রিওডি জেরিনোতে। এর পাশাপাশি তুলনামূলক ক্ষুদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাসমূহে প্রয়োজনমাফিক ছোট আকারের মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্রসমূহ নির্মাণ করা হয়েছে। যেগুলো সাধারণত এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।

মুসলিম উম্মাহর সেবায় সৌদি আরব

মুসলিম ও আরব বিশ্বের মধ্যে সংহতি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী ইসলামী দাওয়াত প্রচারের লক্ষ্যে সৌদি আরব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের কয়েকটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেগুলো হলো-

(১) ইসলামী সহযোগিতা (সম্মেলন) সংস্থা (ওআইসি) (২) রাবেতা আল আলম আল ইসলামী (৩) বাদশাহ ফয়সাল ফাউন্ডেশন। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের ইসলামী ভাবধারা সমৃদ্ধকরণ ও ইসলাম, আরবি ও ইসলামী খেদমতকে ত্বরান্বিত করার জন্য বাদশাহ ফয়সাল ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঘোষণা করেন ১৯৭৯ সাল থেকে এবং এ পর্যন্ত এ পুরস্কার অব্যাহত রয়েছে। এ পুরস্কার ইসলামের খেদমত, ইসলামী শিক্ষা, আরবি সাহিত্য, চিকিৎসা ও বিজ্ঞানের ওপর দেওয়া হচ্ছে। যা মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে প্রাপ্ত হচ্ছে।

(৪) ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অব মুসলিম ইউথ (ওয়ামি) (৫) আন্তর্জাতিক ইসলামী ত্রাণ সংস্থা (আইআইআরও) (৬) বাদশাহ ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স। এটা বাদশাহ ফাহদের নিজস্ব উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে মদিনা মুনাওয়ারার তাবুক রোডের পাশে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর নির্মিত হয়। এ কমপ্লেক্স শুরু থেকে অদ্যাবধি প্রায় ১৫ কোটিরও অধিক মুসহাফে মদিনা কপিরও অধিক পবিত্র কোরআন এবং লাখ লাখ কপি অডিও ক্যাসেট এবং বাংলাসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান ৫৭টি ভাষায় ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

(৭) বসনিয়া-হারজেগোভিনার মুসলমানদের জন্য সাহায্য সংগ্রহের উচ্চ কমিটি।

উক্ত সংস্থাসমূহের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে-

১. বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট নানাবিধ দুর্যোগে আক্রান্তদের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আর্থিক সাহায্যদান ও পুনর্বাসন ২. কৃষি সম্প্রসারণ ৩. বাঁধ নির্মাণে কারিগরি সহায়তাদান ৪. কূপ খনন ৫. বিচ্ছিন্ন স্থানসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ৬. ক্লিনিক স্থাপন ও ৭. স্বাস্থ্যসেবা দান ইত্যাদি মানবিক সেবাসমূহ প্রদান করা এ সংস্থাসমূহের মূল দায়িত্ব।

নির্যাতিত মুসলিম জনতার পাশে সৌদি আরব : সৌদি আরব শুধু বিশ্বব্যাপী মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্র নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হননি। বরং যেখানেই মুসলমানরা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছে সেখানেই তাদের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT