টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১২
  • ২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক…কক্সবাজার জেলা প্রশাসন উখিয়া, টেকনাফ ও পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তত ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে। ১০ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে কাঁটাতারের বেড়া তৈরিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী এর সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হলে সীমান্তের যেখানে-সেখানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ, ইয়াবাসহ মাদক পাচার, সীমান্তে চোরাচালান ও নানা অপতৎপরতা বন্ধ হবে।’কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুর রহমান বদি বলেন, মিয়ানমার ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে নিজ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে। এ পর্যন্ত গত আড়াই বছরে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আরাকান সীমান্তে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে বাংলাদেশও নিজ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি ও উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বন-জঙ্গল দখল করে বর্তমানে মিয়ানমারের চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসতি করছে। এখন আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে আসার দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। সীমান্তে বিজিবি, কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়মিত টহল দিয়েও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ করতে পারছে না। রাতের অন্ধকারে নাফ নদী সাঁতরে রোহিঙ্গারা টেকনাফে অনুপ্রবেশ করছে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সময়ের দাবি।
কক্সবাজারের ১৭-বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে আমরা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছি। কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ, ইয়াবাসহ মাদকপাচার রোধ করা সম্ভব হবে।’
কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমারে ইয়াবা তৈরির কয়েকটি কারখানা রয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার সিংহভাগ টেকনাফে পাচার করা হচ্ছে। পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ধরাও পড়ছে। কিন্তু পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইয়াবা কারখানা বন্ধ করা নিয়ে ইতিমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কারখানা বন্ধ করা যাচ্ছে না।’
পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ, ইয়াবাসহ মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কাঁটাতারের বেড়া বড় ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি টেকনাফের সীমান্ত এলাকা শাহপরীর দ্বীপ ও হোয়াইক্যং এলাকায় দুটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশি তদন্তকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই প্রস্তাবে টেকনাফের নাফ নদীর জলসীমানা নিয়ন্ত্রণ ও বাংলাদেশের আধিপত্য বাড়াতে কোস্টগার্ডের টহল তৎপরতা জোরদার, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ ও চোরাচালান প্রতিরোধ করতে আরও বেশি বিজিবির সীমান্ত চৌকি (বিওপি) স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT