টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড’র বনে আদম বাণিজ্যের হাঁট: চলছে বর্বর নির্যাতন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৩
  • ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

top_37492013-07-09_137সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা ::::টেকনাফ সমুদ্রপথে ইঞ্জিন চালিত কাঠের বোট, ট্রলারে করে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার থেমে নেই। স্বল্প খরচে স্বপ্নের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার নামে চলছে আদম বাণিজ্য। মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডের বনে গড়ে তোলা হয় আদম বাণিজ্যের হাঁট। বনের গোপন স্থানে মালয়েশিয়াগামী লোকজনদের বন্ধি করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের অর্থ। পৃথক স্থরের আদম পাচারকারী সিন্ডিকেট বন্ধি লোকজনদেরকে চুক্তি ভিত্তিক বেচাবিক্রির মাধ্যমে কামাই করছে টাকা। অর্ধাহারে-অনাহারে উলঙ্গ অবস্থায় বর্বর নির্যাতন করা হয় স্বপ্নের মালয়েশিয়াগামী দরিদ্র লোকজনদের। এ বন্ধিদশা হতে মুক্তি পেতে পাচারকারী সিন্ডিকেটকে দিতে য় প্রায় ৩ লাখ টাকা। মোটাঙ্কের এ অর্থ দিতে অপারগ ব্যক্তিদেরকে ভোগ করতে হয় করুণ পরিণতি। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকোরিয়া ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতশত মালয়েশিয়াগামী ব্যক্তি বন্ধিদশায় মানবেতর দিন যাপন করছে। বন্ধি লোকজন মুঠোফোনে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অর্থ পাঠিয়ে তাদের মুক্ত করার আকুতি শুনে এলাকায় স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়েছে। বন্ধিদশা হতে নিজ সন্তানকে মুক্ত করতে মা-বাবা ঋণের সন্ধানে ঘুরছে মহাজনদের দ্বারেদ্বারে। এ ছাড়া বন্ধিদশায় অর্ধাহারে-অনাহারে এবং সিন্ডিকেট সদস্যদের পিটুনি ও নানান নির্যাতনের অনেকের মৃত্যুর খবরও এলাকায় শুনে মালয়েশিয়াগামীদের ঘরে ঘরে শোকের মাতম দেখা দেয় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাচারকারী চক্রের হাতে বন্ধি লোকজন মুঠোফোনে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এখবর নিশ্চিত করেন। এছাড়া থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী অনেকেই মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেছেন। সূত্রে প্রকাশ, টেকনাফের বঙ্গোপসাগর উপকূল দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আদম পাচার ক্রমশঃ বাড়ছে। পাচারকাজে জড়িত দালাল চক্র বেপরোয়া হয়ে পাচার কাজ বাড়িয়ে দেয়। সীমান্ত এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে পাচারকারী সিন্ডিকেট সদস্য। এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা ৩০/৪০ হাজার টাকায় স্বপ্নের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেয়াতে দরিদ্র লোকজন জীবিকার তাগিদে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে দালাল চক্রের স্বরণাপন্ন হয়। এসব লোকজনদের  একটি ট্রলারে ১০০/১৫০ লোক ভর্তি করে রাতের আঁধারে মালয়েশিয়া অভিমুখে রওয়ানা দেয়। প্রায় ১০ দিন দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দালাল চক্রের ট্রলার থাইল্যান্ড উপকূলে পৌঁছে মাথাপিছু চুক্তি করে সেদেশের দালাল চক্রের হাতে তুলে দেয়। থাইল্যান্ডের দাধাল সিন্ডিকেট মালয়েশিয়াগামী এসব দরিদ্র লোকজনদেরকে বনের গহীন জঙ্গলে আটকে রেখে আরেকটি দালাল চক্রের হাতে তুলে দিয়ে অর্থ আয় করে থাকে। দুই থেকে তিনবার এসব লোকজনদের বিক্রি করা হয় পৃথক দালাল চক্রের হাতে। দালাল চক্র দিনরাত তাদেরকে বনে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায় এবং মুঠোফোনে আত্মীয়-স্বজহনদের সাথে যোগাযোগ করে। মোটাঙ্কের অর্থ এলাকার দালাল চক্রের হাতে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এমতাবস্থায়, দরিদ্র মা-বাবা পাগল হয়ে অর্থ যোগাড় করতে মরিয়া। সামান্য কিছু গহনা, বাড়ীর আসবাবপত্র বিক্রি করেও দাবীকৃত টাকা পূর্ণ না হওয়াতে মহাজনদের কাছে অধিক মুনাফা দিয়ে ঋণ নিয়ে নিজের সন্তানদের মুক্ত করে বলে জানা গেছে। টাকা বুঝিয়ে দিতে  না পারলে বিভিন্ন অবৈধ কোম্পানীর হাতে অনেক মালয়েশিয়াগামীদের তুলে দিয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং, টেকনাফ সদর এলাকার বিভিন্ন মালয়েশিয়াগামী লোকজনের সাথে কথা বলে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যমতে, হোয়াইক্যংয়ের উনচিপ্রাং এলাকার আবদুস সামাদ প্রকাশ লেড়–র পুত্র নির আহমদসহ প্রায় ৬ জন বাসিন্দা সম্প্রতি মালয়েশিয়া পাড়ি দেয়। এ দরিদ্র ব্যক্তি অপরাপর মালয়েশিয়াগামীদের সাথে থাইল্যান্ডের বনে আটক রয়েছে। তাকে মুক্ত করতে ভাইয়ের কাছে টাকা চাইতে গিয়ে দেবর-ভাবীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আবদুস সামাদ লেড়–র বড় পুত্র দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছে। মেঝ পুত্র নির আহমদ মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে বন্ধিদশায় আটকে থাকে। তাকে মুক্ত করতে বড় ভাইয়ের কাছে অপরাপর ভাইদের টাকা চাওয়া কেন্দ্র করে মারামারি ঘটে যায়। বিষয়টি থানা-পুলিশের কান পর্যন্ত গড়ায়। এভাবে মালয়েশিয়াগামী ব্যক্তিদের মুক্ত করতে ঋণ নেয়ার টাকা নিয়ে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

##############

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT