টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মানব জীবনে যাকাতের গুরুত্ব ও তার নিসাব বিশ্লেষণ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০১৫
  • ৯০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাওলানা শামসুল হক =আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতি সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। পবিত্র কুরআন মজীদে তিনি মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন এভাবে- “আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয্যারিয়াত-৫৬)

এই ইবাদত তিন প্রকার:
(ক) শারীরিক ইবাদত তথা নামায ও রোযা।
(খ) আর্থিক ইবাদত তথা যাকাত।
(গ) শারীরিক ও আর্থিকের সামষ্টিগত ইবাদত তথা হজ্জ।
এগুলো প্রত্যেকটা ইসলামের একেকটি রুকন বা স্তম্ভ। কোন মুসলমান যদি এর কোন একটিকে অস্বিকার করে সে আর ইসলামের গন্ডির ভিতরে থাকবে না। সরাসরি কাফের হয়ে যাবে। আর যদি কেউ অমান্য করে তার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা কঠোর শাস্তির কথা ঘোষনা করেছেন।

আজ সমাজের মানুষ নামায-রোযার প্রতি যতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে সে তুলনায় যাকাতের গুরুত্ব একেবারে নগণ্য। অথচ আমাদের পুরো জীবনটাই একটি বিক্রিত পণ্য। আল্লাহ খরিদ করে মূল্য হিসেবে প্রদান করেছেন জান্নাত। তাই জান-মাল যেহেতু আল্লাহর ক্রয়কৃত সম্পদ সুতরাং তিনি যদি নির্দেশ দেন যে, রাত-দিন সিজদায় পড়ে থাক, অন্য কোন কিছুই করতে পারবেনা এবং সব উপার্জিত সম্পদ শতকরা শতই আল্লাহর জন্য গরীবকে দিয়ে দাও, তাহলে এ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা তা বলেন নি, বরং নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের শতকরা মাত্র আড়াই টাকা প্রদান করতে বলেছেন।

যাকাত কী ও কেন?
যাকাতের শাব্দিক অর্থ: পবিত্র হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া। যাকাত প্রদান করলে মানুষ কৃপনতা ইত্যাদির মত আধ্যাত্বিক ব্যধি থেকে পবিত্রতা অর্জন করে থাকে। তদুপরি অবশিষ্ট সম্পদ ও পবিত্র হয় এবং তাতে সম্পদের গুণগত দিক বৃদ্ধি পায় । তাই এটাকে যাকাত বলা হয়।
পারিভাষিক অর্থ: প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির নিসাব পরিমান বর্ধনশীল সম্পদের উপর পূর্ণ এক চাঁন্দ্র বছর অতিবাহিত হলে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত অংশ সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে প্রদান করতঃ মালিক বানিয়ে দেয়ার নাম যাকাত।

যাকাতের উপকারিতা ও লাভ:
যাকাত আদায়ের পার্থিব ও পরকালিন অনেক উপকার রয়েছে। যাকাতের মাধ্যমে অসংখ্য গরীব উপকৃত হয় ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্টা হয়। ভিত্ত শালীরা যদি সঠিক ভাবে যাকাত আদায় করে তাহলে দেশের চেহেরা পাল্টে যাবে। দারিদ্র মুক্ত ও ভারসাম্যহীন সমাজ প্রতিষ্টা হবে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ আল্লাহ তা’য়ালা হাজার টাকার দ্বারা লক্ষ টাকার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেন) সূরা বাকারা-২৭৬। যাকাত প্রদানের দ্বারা সম্পদ পবিত্র হয় এবং ফেরেশতারা যাকাত আদায়কারীদের জন্য দোয়া করতে থাকে (সূরা তাওবা-১০৩)। যাকাত প্রদানের দ্বারা অবশিষ্ট সম্পদ বিপদ থেকে রক্ষা পায় ( আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব-১১২২)। যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন বস্তুর একজোড়া দান করলে তাকে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সকল দরজা দিয়ে আহবান করা হবে। এবং যাকাত আদায়কারীর জন্য রয়েছে বিশেষ দরজা। তাদের বিশেষভাবে সে দরজা দিয়ে আহবান করা হবে। (বুখারী-১ম-২৫৪) যাকাত-সাদকা আল্লাহর ক্ষোভের আগুন নিভিয়ে দেয় এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে। (তিরমিযী১ম-১৪৪)

যাকাত অনাদায়ের ক্ষতি ও অপকারিতা:
আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআন মজীদে যাকাত অনাদায়কারীদের জন্য মর্মান্তিক শাস্তির সংবাদ শুনিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের সম্পদ আগুনে উত্তপ্ত করার পর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বানানো হবে এবং তাদের কপালে, পার্শ¦দেশে ও পিঠে দাগ দেয়া হবে আর তাদের বলা হবে এই সেই ধন-সম্পদ যা তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না করে পুঞ্জিভূত করে রেখেছিলে আজ তার স্বাদ গ্রহন করো। (সূরা তাওবা-৩৪,৩৫) যে মালের যাকাত সঠিক ভাবে আদায় করবে না সে সম্পদ টাক পড়া বা দুই দাত বিশিষ্ট বিষাক্ত সাপের রূপ ধারন করবে এবং গলায় তাকে পেঁচিয়ে দেয়া হবে। যা তার মুখে দংশন করতে থাকবে আর বলবে আমি তোমার সে সম্পদ যা তুমি কুক্ষিগত করে রেখে ছিলে, আল্লাহর পথে ব্যয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছিলে। (বুখারী-১/১৮৮) যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করবে না কিয়ামতের দিন সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। (আত্ তারগীব লিল মুনযীরী-১১৫৩) স্থল ভাগে ও সমুদ্রে যতো মাল ধ্বংস হয়ে থাকে সবই যাকাত আদায় না করার কারণে। (মাজমাউয যাওয়াইদ-৪৩৩৫) যে সমপ্রদায় যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করবে আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে কঠিন দুর্ভিক্ষে নিপতিত করবেন। (আত্ তারগীব ১১৫৬)

যাকাত কার উপর ফরজ:

প্রাপ্ত বয়স্ক , সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় ঋণ ব্যতীত নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমান বর্ধনশীল সম্পদ থাকবে এবং সে সম্পদের উপর পূর্ণ এক চন্দ্র বছর অতিবাহিত হবে তার উপর যাকাত আদায় করা ফরজ।
যাকাত যোগ্য সম্পদ ও তার নিসাব প্রসঙ্গ:
যাকাত যোগ্য সম্পদ চার শ্রেণিতে বিভক্ত – যথাক্রমে (১) উট- এর নিসাব হচ্ছে পাঁচটি এর কম হলে যাকাত নেই। (২) গরু-মহিষ – এর নিসাব হচ্ছে ত্রিশটি এর কম হলে যাকাত নেই। (৩) ভেড়া-ছাগল এর নিসাব হচ্ছে চল্লিশটি এর কম হলে যাকাত নেই। উল্লেখ্য এ তিন প্রকারের সাথে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে পশুগুলো সায়েমা তথা বছরের অধিকাংশ সময় মুক্ত ভাবে চারণ ভুমিতে বিনা মূল্যে বৈধ ভাবে খাদ্য গ্রহনের সুযোগ পেতে হবে। বছরের অধিকাংশ সময় গৃহে পালিত হলে তাতে যাকাত নেই। এই তিন শ্রেণির সম্পদের যাকাতের বিবরণ বর্তমানে আমাদের দেশে প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তাই তার বিস্তরিত আলোচনা করা হয়নি। (৪) ক. স্বর্ণ খ. রোপা গ. ক্যাশ টাকা ঘ. ব্যবসায়িক সম্পদ ।
৪র্থ নং নিসাবের বিস্তারিত আলোচনা:
স্বর্ণ: যদি কোন ব্যক্তির কাছে শুধু স্বর্ণ থাকে তাহলে তার নিসাব হচ্ছে বিশ দিনার সমপরিমান অর্থাৎ প্রাচীন কালের পরিমাপে সাড়ে সাত (৭.৫) তোলা। আর আধুনিক কালের পরিমাপ অনুযায়ী ৮৭.৪৮ গ্রাম। তাই যার মালিকানায় নূন্যতম সাড়ে সাত তোলা বা ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে তাকে তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শত করা ২.৫০টাকা হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে।
রূপা: যদি কোন ব্যক্তির কাছে শুধু রূপা থাকে / সিলভার থাকে তার নিসাব হলো দুই শত দিরহাম অর্থাৎ ৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৩৬গ্রাম। তাকে তার সমুদয় সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শত করা ২.৫০টাকা হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে।
ক্যাশ টাকা-পয়সা: নগদ টাকা-পয়সা ব্যংক কিংবা বাড়ি যেখানে থাকুক নোট কিংবা ধাতক যাই হোক তাতে যাকাত ফরজ হবে। নগদ টাকার নিসাব উপরোক্ত স্বর্ণ-রূপার নিসাবের মূল্য হিসেবেই ধর্তব্য হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো যে নিসাবকে মানদন্ড বানালে তুলনা মূলক কম সম্পদে যাকাত ফরজ হবে তাই ধর্তব্য হবে। বর্তমানে যেহেতু রূপার মূল্য স্বর্ণের মূল্যের চেয়ে অনেক কম তাই নগদ অর্থের ক্ষেত্রে রূপার নেসাবই চুড়ান্ত বিবেচিত হবে। উল্লেখ্য যে বর্তমানে রূপার মান বা রূপার মধ্যে খাদের পরিমান বেশ-কমের কারনে মার্কেটে রূপার মূল্য ব্যবধান হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো সর্ব নি¤œ মূল্যের রূপার হিসাব ধর্তব্য হবে। তবে সে রূপার মধ্যে খাদের পরিমান রূপার তুলনায় কিছুটা হলে ও কম থাকতে হবে। খাদের পরিমান বেশি হলে তা ধর্তব্য হবেনা ।
মিশ্রিত সম্পদের নিসাব:

যদি কারো কাছে কিছু রূপা, সামান্য স্বর্ণ (একক ভাবে কোন একটি দ্বারা নিসাব পূর্ণ হয়না) অথবা সাথে কিছু টাকা ও থাকে সে ক্ষেত্রে রূপার নিসাবই ধর্তব্য হবে। এ তিনটির সমিষ্টির মূল্য যদি রূপার নিসাবের মূল্য পরিমান হয় তাহলে যাকাত ফরজ হবে। অন্যথায় নয়।
ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব:

ব্যবসার উদ্দেশ্যে দোকানে স্টক কৃত পণ্য এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে যে পণ্য ক্রয় করা হয় তাকেই বলা হয় ব্যবসায়িক পণ্য বা সম্পদ। সুতরাং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাট/জমি/বাড়ি বা গাড়ি ক্রয় করা হলে তা ব্যবসায়িক পণ্য হওয়ায় তার পূর্ণ মূল্যের উপর যাকাত ফরজ হবে। তবে নিজে থাকা বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কিংবা ভাড়া দেয়ার নিয়তে অথবা সুযোগ হলে বিক্রি করবে নতুবা মালিকানায় রেখে দিবে কিংবা সুনির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই ফ্ল্যাট /বাড়ি ইত্যাদি ক্রয় করা হলে তা ব্যবসায়িক পণ্য ধর্তব্য হবে না। একারণে তার মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। হ্যাঁ এসব সম্পদ ভাড়া দেওয়া হলে তার থেকে উপার্জিত অর্থের যাকাত দেয়া ফরজ হবে।

নিসাবের প্রকার ও হুকুম:
(ক) ছোট নিসাব অর্থাৎ যার কাছে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত যা আছে তা যদি যাকাত যোগ্য মাল না হয় যেমন- জমি/বাড়ি ইত্যাদি তার মূল্য যদি রূপার নিসাবের মূল্যের পরিমান হয় তাকে ছোট নিসাবের মালিক বলে। তার উপর যাকাত ফরজ না হলে ও কুরবানি , ছদকায়ে ফিতর ও হজ্জ আদায় করা তার উপর ফরজ। তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা হারাম । গরীব আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতা করা জরুরী।

(খ) বড় নিসাব অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ গুলি যদি যাকাত যোগ্য মাল হয় তথা স্বর্ণ-রূপা, অর্থ-কড়ি কিংবা ব্যবসায়িক পণ্য তাহলে তার উপর উল্লেখিত বিষয় গুলো ফরজ হওয়ার সাথে সাথে যাকাত ও ফরজ হবে।

যারা যাকাত পাওয়ার উপযোক্ত:

১.ফকির, যার কাছে সামান্য অর্থ কড়ি থাকলে ও তা কোন নিসাবের সম পরিমান নয়।

২. মিসকিন, যার কাছে কিছুই নেই।

৩. ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষে যাকাত উসূলকারী। বর্তমানে ইসলামী রাষ্ট্র না থাকায় এই খাত বিলুপ্তির পথে।

৪. রিকাব, ঐ কৃতদাস যে মালিকের সাথে চুক্তি করেছে যে এত টাকা আদায়ে সে আযাদ হয়ে যাবে। তাকে যাকাত আদায়ের মাধ্যমে দাসত্ব মুক্ত করা ।

৫. গারিমীন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যার কাছে ঋণ পরিষোধ করার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে শর্ত হচ্ছে ঋণ কোন বৈধ কাজের জন্য হতে হবে।

৬. ফী সাবিলিল্লাহ, ঐ মুজাহিদ যে জিহাদের মত পবিত্র ইবাদত করতে ইচ্ছুক । কিন্তু জিহাদের জন্য অস্ত্র ও উপকরণ ক্রয় করার সামর্থ নেই।

৭. ইবনুস্ সাবিল, ঐ মুসাফির যার কাছে ছফরের প্রয়োজনাদি মিটাতে সম্বল নেই। যদিও বাড়িতে সে ভিত্তশালী।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাকাত দেয়ার গুরুত্ব:

যে সব প্রতিষ্ঠান জনগণের সহযোগিতায় পরিচালিত এবং জনগণের খেদমতে নিয়োজিত বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা। এসব মাদরাসার ছাত্ররা অধিকাংশ গরীব ।এধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত গরীব হকদারদের মাঝে যাকাতের অর্থ সঠিক ভাবে ব্যয় করার সুব্যবস্থা আছে। এমন প্রতিষ্ঠানে যাকাতের অর্থ প্রদান অধিক সাওয়াবের কাজ। কারণ সাধরণ গরীব-দরিদ্ররা যাকাতের হকদার হতে পারলে কুরআন শিক্ষায় নিয়েজিত অসহায় ছাত্ররা হকদার হওয়ার অধিক যোগ্য। এদের জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করলে যাকাত আদায়ের পাশা-পাশি দ্বীনি কাজে সহযোগিতা ও কুরআন শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং সাদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক পরিচিতি
মাওলানা শামসুল হক
খতিব ও মুহতামিম রামু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্রা ও
জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা রামু, ককসবাজার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT