টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মানবাধিকার লংঘনের সেকাল-একাল ও প্রাসঙ্গিক কথা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • ১৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক…মফস্বলে সাংবাদিকতা করার কারণে প্রায়ই কথিত সুশীল সমাজের কারো না কারো সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়। সে সব বিতর্কের অবসান ঘটাতে আমাকে রীতিমতো পড়াশুনার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে হয়।

আমি অনুসন্ধানের চেষ্টা করি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রের শুরুতে কীভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই  মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু হয়। এরই মধ্যে আমার পারিবারিক লাইব্রেরীতে পেয়ে যাই লেখক আহমেদ মূসার ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ’ নামক বইটি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রের শুরুতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু হয় এবং এখনো অদম্য গতিতে প্রতিনিয়ত তা হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম দৃষ্টান্ত হলো ক্রসফায়ারের নামে অবিরাম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া গুলিতে বিনা বিচারে একের পর এক মানুষ হত্যা করা হচ্ছে আর প্রজাতন্ত্রের জনগণকে বোকা বানিয়ে ভাঙা রেকর্ডের মতো একই আষাঢ়ে গল্প শোনানো হচ্ছে।

কখনো কখনো একেবারেই নিরপরাধ মানুষও কেবল নামের মিল থাকায় অথবা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ফাঁসানোর মাধ্যমে কিংবা চাহিদামতো চাঁদা না দেয়ায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন।

ঘটনাগুলো যে রাষ্ট্রের অগোচরে হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। উপরন্তু ক্ষমতাসীন সরকার অপরাধটি স্বীকার করে নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে এবং সমানতালে মানবাধিকার লংঘনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছে। অথচ মুখে বুলি আওড়িয়ে চলছে যে পুরনো ক্ষত এত দ্রুত সারানো সম্ভব নয়।

এ দেশে নিরাপত্তা হেফাজতেও অহরহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমাণ্ডে নিয়ে সুস্থ মানুষ মেরে ফেলা হয়। ভাগ্যগুণে প্রাণটা উবে না গেলেও চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হয় লিমনের মতো।

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ তার নির্দেশনায় বলেছিলেন, রিমান্ডে নেয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর উপস্থিতিতে একটি স্বচ্ছ কাচের ঘরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, যাতে বাইরে থেকে দেখা যায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে কিনা।

রায়টি আপিল বিভাগে এখনও বহাল আছে। কিন্তু একদিকে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্য সংস্থাগুলো হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রতি চরম উপেক্ষা দেখাচ্ছে।

দেশ স্বাধীনের আগে বৃটিশ বেনিয়ারা এবং মুক্তিয্দ্ধু চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তি সংগ্রামীদের যে বর্বর মধ্যযুগীয় অত্যাচার-নির্যাতন করত, আমাদের বর্তমান আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কখনো কখনো তার চেয়েও বর্বর নির্যাতন করে বসে।

এহেন পরিস্থিতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো?

২০০৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এই দিনই ক্রসফায়ার নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সুয়োমটো রুল জারি করেন মহামান্য হাইকোর্ট।

র‌্যাবের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র সচিব ও র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ককে রুলের জবাব দিতে ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দিয়েছিলেন আদালত।

রুলের জবাবে ক্রসফায়ারের অভিযোগ অস্বীকার করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর শুনানি শুরুর কথা ছিলো এ রুলের। তবে ওই দিন বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের হাইকোর্ট বেঞ্চে সময় আবেদন নিয়ে হাজির হন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে ২০১০ এর ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মূলতবী রাখতে বলেছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

ক্রসফায়ার বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ওই সময় পর্যন্ত শুনানি মূলতবী করেন হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেল আশ্বস্ত করেছিলেন আর ক্রসফায়ার হবে না।

বার্ষিক অবকাশ শেষে ৩ জানুয়ারি উচ্চ আদালত খোলার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম পূর্নগঠন করেন বেঞ্চ। ভেঙ্গে দেওয়া হয় বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও মো. ইমদাদুল হক আজাদের বেঞ্চ। যে কারণে এখন পর্যন্ত এ সুয়োমটো রুলের শুনানি শুরু হতে পারেনি। অথচ হাইকোর্ট নিজ থেকে এ রুল ইস্যু করায় আশা করা হয়েছিলো, ক্রসফায়ারের বৈধতার আইনী প্রশ্নের একটা চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

কিন্তু কেউ কথা রাখেনি, ৪২টি বছর কেটে গেলো।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT