হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

মানবপাচার বন্ধে সরকারের চেষ্টা থাকলেও সমন্বয়ের অভাব আছে’

টেকনাফ নিউজ@@

মানবপাচার বন্ধে সরকারের চেষ্টা আছে উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, চেষ্টা থাকলেও সেখানে সমন্বয়ের অভাব আছে। দীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে আমার কাছে এটা মনে হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন পরিস্থিতি, সমস্যার কারণ এবং উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা সভায় এই কথা জানান তিনি।

মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আইন থাকলেও তা কেন কাজে আসছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন কাজে আসছে না তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনে নিজ দায়িত্বে পর্যালোচনা করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সবখানে বিদ্যমান কিংবা আসন্ন আইন পর্যালোচনা করে মানবাধিকার দিকটি দেখা এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। এই প্রস্তাবটি আমরা নিচ্ছি, এখন থেকে যদি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, কোনও এনজিও যদি সাপোর্ট করতে চান তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব নিচ্ছে এই আইনসহ আরও কিছু আইনকে পর্যালোচনা করে দেখা হবে যে এতো শক্তিশালী আইনেও কেন কাজ হচ্ছে না। আমি বিশ্বাস করি, আইনটি ভালোভাবে রিভিউ করা গেলে কিছু না কিছু প্রাপ্তি আমাদের আসবেই। ২০১২ থেকে ২০১৯ এই সাত বছরে অনেক কিছু নতুনত্ব এসেছে। সেগুলো সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, আজকে এখানে যেসব ভয়াবহ চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে আগেও আমরা এসব শুনেছি। বিভিন্ন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই, মানবপাচার নিয়ে বিভিন্ন কমিটি আছে। আমাদের আইন করা হয়েছে, আমাদের একটি চমৎকার অ্যাকশন প্ল্যান আছে। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে যে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো কার্যকর নয়, বিশেষ করে উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো। এটি কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। আমি দৃঢ়বিশ্বাস করি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সচেতন হলে কমিটিগুলো আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করলে মানবপাচারের সমস্যা কিছুটা কমিয়ে আনা যায়। এগুলোকে কার্যকর করার একটি উদ্যোগ নিতে হবে। সভায় বলা হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বহির্গমন বিভাগের প্রতিনিধিত্ব নেই। এই জিনিসটি দ্রুত তুলে ধরতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, মানবাপাচার জনিত সমস্যা কমিয়ে আনাতে আইওএম’র সহযোগিতায় আমাদের আঞ্চলিক কর্মশালা করার প্ল্যান আছে। যেসব দেশে আমাদের বেশি ভিক্টিম সেসব দেশের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করবো কীভাবে আমরা এগুলোকে আরও কমাতে পারি।

‘৫০ হাজার লোক ভারতে প্রতিবছর পাচারের শিকার হয়’ এই তথ্যটিকে মুখরোচক অভিহিত করে তার মন্তব্য ‘এটা হলে কিন্তু আমাদের দেশের লোকসংখ্যা অনেক কমে যাবে।’

অনুষ্ঠানে সিআইডি’র স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ও ইন্টেলিজেন্সের ডিআইজি শাহ্‌ আলম বলেন, একজন করদাতা নাগরিক হিসেবে ওয়াচলিস্টে পড়ে যাওয়া আমার কাছে অসম্মানের মনে হয়। হিউম্যান রাইটস কমিশন যদি বছরে একটি করে রিপোর্ট বের করে, যত কিছুই হোক সেগুলো আমাদের গ্রহণ করতে হবে। সমস্যাটি যে প্রকট এতে কোনও সন্দেহ নেই এবং যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তাতেও কোনও কমতি নেই।

এর আগে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মানবপাচার পরিস্থিতির কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, পাচারের শিকার হওয়া মানুষদের একটি বড় অংশ নারী এবং শিশু। আজকের দিনে একটি টার্ম বলা হয় ‘ আধুনিক দাস প্রথা’। হয়তো সে অভিবাসন করেছে কিন্তু যদি জোর করে কাজে বাধ্য করা হয়, নির্যাতন করা হয়, সেটাকে বলা হচ্ছে আধুনিক দাস প্রথা। সেটার সংখ্যাও প্রায় ৪০ কোটি। এটা কিন্তু অনেক ভয়ঙ্কর একটি সংখ্যা।

অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাকের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাচারের শিকার হওয়ার পর ফিরে আসা ভিক্টিমদের যে ডেটাবেজ আছে তা অ্যানালাইসিস করতে চাইলে ব্র্যাক তাদের সহায়তা দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্টের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক নাজিয়া হায়দার, ব্র্যাকের সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স ডিরেক্টর জেনেফা জব্বার প্রমুখ।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.