টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

মানবপাচারকারীরা ফিরছে, শীতে পাচারের ব্যাপক প্রস্তুতি-সতর্কবস্থানে প্রশাসন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার…

শীত মৌসুমকে বলা হয় কক্সবাজারের পর্যটন মৌসুম। আর এখন এসময় পাচারকারীরা সক্রিয় থাকে বলে শীতকালকে বলা হচ্ছে ‘মানবপাচারের মৌসুম’। এবারও আসন্ন শীত মৌসুম সামনে রেখে উখিয়া, টেকনাফ ও জেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ফিরছে মানবপাচারকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা পাচারকারীদের অনেকে এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে বিচরণ করতে শুরু করেছে। তৎপরতাও শুরু করেছেন তারা। সমুদ্রপথে মানবপাচারের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শীতকালে সমুদ্র শান্ত থাকায় মানবপাচারকারীরা এসময়কে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়। কারন, দেশীয় ছোট ছোট নৌকায় উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়া সম্ভব না। তাই শীতে সাগরের শান্ত অবস্থাকে কাজে লাগাতে কক্সবাজারের দুই হাজারেরও বেশি পাচারকারী সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আগের মতো স্ব-স্ব অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দালালদের নিয়ন্ত্রণে এনে আবারও নেটওর্য়াক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

অবশ্য এসব খবর উড়িয়ে দিয়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মানবপাচার এখন শূন্যের কোটায়। কোনও মতেই সমুদ্রপথে একটা লোকও পাচার করতে দেওয়া হবে না। এজন্য পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ‘বলতে গেলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার এখন শূন্যের কোটায়। যে সব পাচারকারী ইতোমধ্যে এলাকায় ফিরছে তাদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানবপাচারকারীরা যাতে আবার সক্রিয় হতে না পারে তার জন্য পুলিশ বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মানবপাচারকারীকে আটক  করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ’।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আগামী শীত মৌসুমকে সামনে রেখে মানবপাচারকারীরা এলাকায় ফিরে আসছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এ কারণে মানবপাচারকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া তারা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে’।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. জুলহাস ফায়সাল বলেন, সমুদ্র শান্ত থাকায় পাচারকারীরা এসময়টা বেছে নেয়। সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রতিনিয়ত সমুদ্রে টহলের পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বর্তমানে টেকনাফের বাহারছড়া, উখিয়ার ইনানী, রামুর পেঁচারদ্বীপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কোস্টগার্ডের স্টেশন বাড়ানো হয়েছে। তার মতে, একমাত্র জনসচেতনতা পারে সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধ করতে’।

২০১০ সালের শেষের দিকে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় আদম পাচার শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের দিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আসলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন সেখানকার পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিজিবি’র সদস্যরা। পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ড ৭০টি এবং থাইল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলের জঙ্গলে পাচারকারীদের ২৮টি ক্যাম্পে ১৩৯টি গণকবরের সন্ধান পায় সে দেশের সরকার। এরপর বাংলাদেশ সরকার নড়েচড়ে বসে। শুরু হয় মানবপাচারকারী দমনের অভিযান।

প্রথম পর্যায়ে কক্সবাজারের শীর্ষ মানবপাচারকারী ধলু হোসেনসহ জেলায় ৬ মানবপাচারকারী পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। গ্রেফতার হয়েছে দেড় শতাধিক । এরপর থেকে কক্সবাজার জেলার তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরে প্রায় দুই হাজার মানবপাচারকারী গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে যায় বা পালিয়ে যায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত মানবপাচার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। কিন্তু আগামী শীত মৌসুম সামনে রেখে সম্প্রতি আবারও ফিরতে শুরু করেছে তাদের স্ব-স্ব এলাকায়। নেওয়া হচ্ছে পাচারের ব্যাপক প্রস্তুতিও।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের উদ্ধাস্তু বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’ এর তথ্য মতে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে ৯৪হাজার মানুষকে সমুদ্রপথে পাচার হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এ সংখ্যা ৩১ হাজার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT