টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মাদক ডন ও ক্রসফায়ার থেরাপি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ জুলাই, ২০১৮
  • ১৫৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
dav

মোস্তফা কামাল::
ক্রসফায়ারের সরকারি নাম ‘এনকাউন্টার’। ব্যাখ্যা করে বলা হয়, আত্মরক্ষার্থে গুলি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আত্মরক্ষার জন্য অপরাধী-সন্ত্রাসীদের ওপর গুলি চালায়। তাতে অভিযুক্ত অপরাধী মারা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অনেক সময় আহত হন। সেটা লোকদেখানো কি না জানি না। সরকার যা-ই বলুক, সাধারণ মানুষ কিন্তু ক্রসফায়ারই বলে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিনা বিচারে হত্যা করছেন। দায় এড়ানোর জন্য এনকাউন্টারের কথা বলা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এও বলছে, যত বড় অপরাধীই হোক, তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। তা না করে ক্রসফায়ার করে মেরে ফেলা হচ্ছে।

এতে করে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ তারা পাচ্ছে না। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে। তারা বলছে, অপরাধীদের ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। আইনের ফাঁক গলে তারা বেরিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপরাধীদের ভয়ে আদালতে কেউ সাক্ষ্য দিতে যায় না। সাক্ষীর অভাবে আদালত অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন না। তাই অপরাধী দমনে এনকাউন্টার থেরাপি!
উন্নত দেশগুলোও অপরাধ দমনের জন্য এই থেরাপি অ্যাপ্লাই করেছে এবং তাতে তারা সফল হয়েছে। যেসব দেশ ‘মানবাধিকার গেল, মানবাধিকার গেল’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করে, তারা এখনো এনকাউন্টার থেরাপি হরদম চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে কিন্তু তাদের মানবাধিকারের কোনো ক্ষতি হয় না! তখন মানবাধিকার সংগঠনগুলো উটপাখির মতো বালুতে মুখ গুঁজে রাখে। বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলো কিছু করলেই মানবাধিকার যায় যায়!
বাংলাদেশের মতো অধিক জনসংখ্যার দেশে অপরাধপ্রবণতা বেশি। এসব দেশে অপরাধ দমনের জন্য দৃশ্যমান কিছু দেখাতে হয়। তা না হলে অপরাধীরা ভয় পায় না। অপরাধীদের ভয়ে কেউ সাক্ষ্য দিতে চায় না বলে তারা অনায়াসে ছাড়া পেয়ে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে আরো বেশি অপরাধ করে। তাহলে এসব অপরাধীকে ধরার উপায় কী?
উন্নত দেশগুলো যদি এনকাউন্টার থেরাপি চালু করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের দোষ কী? কিছু মানবাধিকার সংগঠন মিডিয়ার তিরস্কার করে বলে, এরা বিবেকবোধহীন মিডিয়া! এরা ঢোঁড়া সাপে পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারির নামে গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। আর এরা মিডিয়ার মগডালে বসে নিরোর বাঁশি বাজাচ্ছে! দেশে এসব মিডিয়ার দরকার কী?
ভাই সব, আমরা কিন্তু আসলেই মাইনকা চিপায় আছি। আমাদের দোষের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। নানামুখী চাপের মধ্যেই আমাদের প্রতিটি দিন যায়। নানা শঙ্কা আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আমাদের ঘুমাতে যেতে হয়। উৎকণ্ঠা নিয়েই ঘুম ভাঙে। পান থেকে চুন খসলেই দোষ চাপে মিডিয়ার ঘাড়ে! তার পরও দুই-চার কথা তো বলতেই হয়!
বিএনপি সরকারের আমলে র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর অপরাধ দমনের জন্য সর্বপ্রথম ক্রসফায়ার থেরাপি অ্যাপ্লাই করে। তাতে ব্যাপকভাবে সফল হয়। এরপর চরমপন্থী ও উগ্রপন্থীদের দমনে ক্রসফায়ার থেরাপির আশ্রয় নেওয়া হয়। তাতেও সফল হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সফলতার সিঁড়ি বেয়ে বর্তমান সরকারের আমলে আসে এনকাউন্টার থেরাপি।
জঙ্গি দমনে সরকার যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন শুরু হয় দেশব্যাপী অভিযান। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত অনেকেই ক্রসফায়ারে মারা যায়। প্রায় এক বছর ধরে অভিযান পরিচালনার কারণে জঙ্গি তৎপরতা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতেও র‌্যাবের অবদান অনস্বীকার্য। এ জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাবকে ধন্যবাদ দিতে হয়। আবার তাদের কিছু সদস্যের ভুলের কারণে অনেক সময় ধন্যবাদ ফিরিয়েও নিতে হয়।
জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সফলতার জন্য র‌্যাবকে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার জন্য দায়িত্ব দেয় সরকার। সঙ্গে সঙ্গে সব মহল থেকে সমর্থন দেওয়া হয়। দেশের স্বার্থে, দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার স্বার্থে এই অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করে আপামর জনগোষ্ঠী।
শুরু হয় মাদকবিরোধী অভিযান। শুরু হয় ক্রসফায়ার। আমরা যত দূর জানি, দু-একটি ভুলভ্রান্তি বাদ দিলে এখন পর্যন্ত যত ক্রসফায়ার হয়েছে, সবাই মাদক কারবারি ছিল। যারা মারা গেছে তাদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই ১০-১২টা মামলা ছিল। প্রায় সব মামলাই নাকি মাদকের।
মাদকে ছেয়ে যাচ্ছে দেশ। মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের তরুণ-যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশকে বাঁচাতে যদি কিছু মানবাধিকারের ক্ষতিও হয়, তাতে আপত্তি নেই আমাদের। তবে প্রকৃত অপরাধীকেই ধরতে হবে। ধরতে হবে রাঘব বোয়ালদের। তাতে নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ সমর্থন জানাবে। আমরা জঙ্গি ও মাদকবিরোধী অভিযানের পক্ষে আছি এবং থাকব। দেশকে বাঁচাতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।
ভাই-বোনেরা, আওয়াজ দেন। আপনারা কি জঙ্গি ও মাদকবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করেন, নাকি না?

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT