টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মহেশখালী মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প সাত কর্মকর্তার নেতৃত্বেই লুটপাট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫
  • ৯১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে চিংড়ির ক্ষতিপূরণ দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য মিলেছে। এতে বলা হয়েছে, সাত কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
ওই সাত কর্মকর্তা হলেন কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) আরেফিন আকতার, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, কানুনগো আবদুল কাদের ভূঁইয়া, সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও টি এম বাদশাহ মিয়া। প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও ওই অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের গাজীপুর হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খান গত ৩০ জুন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ওই বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রথম আলোয় ‘শুরুতে লুট ২২ কোটি টাকা’ শিরোনামে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন মাতারবাড়ীর বাসিন্দা কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনসহ ২৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেন।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) মাহমুদুর রহমান বাদী হয়ে ২২ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে ২০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাল্টা মামলা করেন। এই মামলার তদন্তও করছে দুদক।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লি.’ কর্তৃক ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ী এবং ধলঘাটা মৌজার ১ হাজার ৪১৪ দশমিক ৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চিংড়ি ক্ষতিপূরণের টাকা লুটপাট নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি তদন্তের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ২৬ মে মন্ত্রণালয়ের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মাতারবাড়ী পরিদর্শনসহ ঘটনার অনুসন্ধান করে। ৩০ জুন ভূমিসচিব বরাবর কমিটির সদস্যরা বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো যৌথ তদন্ত ছাড়া অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে মনগড়া ২৫টি চিংড়িঘের দেখিয়ে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ৮ হাজার ৯৮৬ টাকা রোয়েদাদ প্রস্তুত করে বেআইনিভাবে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত ‘মেসার্স আলিফ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি লবণ কারখানার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেখিয়ে মিয়াজিপাড়ার এম রইচ উদ্দিনকে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পাউবোর পক্ষ থেকে লিখিত আপত্তি করা হলেও তড়িঘড়ি করে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়। গণপূর্ত বিভাগের পরামর্শক্রমে লবণ কারখানার অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সরকারি নীতিমালা থাকলেও এ ক্ষেত্রে বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) কক্সবাজারের উপমহাব্যবস্থাপক সনজীব বড়ুয়া চৌধুরীর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনিবন্ধিত কাগজ দিয়ে চিংড়ির ক্ষতিপূরণের বিপরীতে প্রায় ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অধিগ্রহণ করা ১ হাজার ৪১৪ একর জমির মধ্যে ৩৮৬ একর খাস ও ১ হাজার ২৮ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন। কিন্তু টাকা আত্মসাতের জন্য চিংড়ির ক্ষতিপূরণের বিপরীতে ১ হাজার ৩৩৫ একর জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে এম রইচ উদ্দিন গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাউবো যে জমি তাদের দাবি করছে, সেখানে লবণ কারখানা নেই। আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন ১ একর ৭৩ শতক জমিতে ওই কারখানা স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসন এর অবকাঠামোর বিপরীতে প্রায় সাত কোটি টাকা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত জমির ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এ কারণে এক বছর আগে আমি বাদী হয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতে মামলা করি।’
কক্সবাজারের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, শুরুতে চিংড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ২৩ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছিল। পরে তিনটি চেক বাতিল করা হয়। এরপর অবশিষ্ট প্রায় ২০ কোটি টাকা যাঁরা নিয়েছেন এবং দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এখন চিংড়ির ক্ষতিপূরণের অবশিষ্ট টাকা বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

fil pic

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT