টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মহেশখালী পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ জনবসতি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরী = কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় দ্বীপ মহেশখালীর অবহেলিত উপদ্বীপ ধলঘাটার ভাঙনে মহেশখালীর পাহাড়ে বাড়ছে ঝুকিপূর্ণ জনবসতি। ১৯৯১ সালের প্রচন্ড ঘুর্ণীঝড়ে বিলিন হয়ে য্ওায়া বেড়িবাঁধ নিয়ে বলতে গেলে সাগর বক্ষে ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস¦ হয়ে আশ্রয়হীন মানুষগুলো ঠাই নিলো অনেকটা নিরাপদ মহেশখালীর পাহাড়ী এলাকায়। কয়লা বিদ্যুৎ নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিল্ওে ধলঘাট বাসীর প্রানের দাবী টেকসই বেড়ীবাঁধের কোন ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে ঝুকির মুখে ঠেলে দিয়েছে হাজার হাজার পরিবারকে এমন দাবী এলাকাবাসীর। আর বিলিন বেড়ি বাঁধ দিয়ে জোয়ার ভাটা চলছে প্রতিনিয়ত। সরেজমিনে জানা যায় , সমতল ও খতিয়ানভুক্ত জমির চেয়ে দামে অনেকটা সসÍা হওয়ায় ধলঘাটার আশ্রয়হীন মানুষেরা আশ্রয় নিচ্ছেন পাহাড়ী এলাকায়। এছাড়া যৌথ পরিবার ভেঙে অনেকগুলো ছোট পরিবার হওয়ায় দিন দিন পাহাড়ে বাড়ছে জনবসতি। ফলে পাহাড় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় হুমকির মূখে পড়েছে পাহাড়। বিপন্ন হতে চলেছে জীববৈচিত্র । অন্যদিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম ঝুকিপূর্ন উপদ্বীপ ধলঘাটার প্রায় পচিশ হাজার মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে ধুক ধুকে মরছে একটি বেড়ীবাঁধের জন্য। বেড়িবাঁধ না থাকায় ২৯ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকায় হানা দেয়া স্বরনকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, মূহূর্তেই লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূলের মানুষের সাজাঁনো সংসার। কোটি কোটি টাকার সস্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বেড়িবাঁধ না থাকায় এখনো আতংকে ধলঘাটাবাসি। উনত্রিশ এপ্রিল ধলঘাটাবাসির স্বজন হারানোর কান্নায় ভারি হয়ে উঠে দ্বীপের আকাশ বাতাস। প্রতি বছরই উনত্রিশ এপ্রিল স¦রণসভায় বেড়িবাঁধের জোরালো দাবী থাকলেও বাসÍাবতার দেখা মিলেনি এখনো। অনেকের প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন। সংবাদ কর্মীরা গেলে আক্ষেপের সাথে কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে থাকেন- আর কত ছবি উঠাবেন? আশাহীন মানুষগুলো বলতে থাকেন অসহায়ত্বের কথা। কিন্তু কে শুনে কার কথা, এদের শান্তনা দেবে কে ? একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও ধলঘাটার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি কোন কালে। সরজমিনে না গেলে বুঝার উপায় নেই, আশ্রয়হীন দ্বীপবাসি কথটা ব্যাথিত। বর্তমানে সরইতলা, সাইটপাড়া, বেগুনবনিয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। পূর্ণীমার জোঁয়ারে প্রতি বারই প্লাবিত হচ্ছে বাড়ি ঘর। অপরিকল্পিত ভাবে বেড়িবাঁধ নির্মিত হওয়ায় ক্রমেই সংকোচিত হচ্ছে ধলঘাটা। এছাড়া ১৯৯১ সালে অনেকটা দায়সারা ভাবে বালি দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মিত হওয়ায় ১৯৯৭ ইং সালের ঘুর্নীঝড়ে মূহূর্তেই ভেঙ্গে যায়। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারো বিপর্যয়ের সম্মূখিন হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ধলঘাটাবাসি। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সরকার বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ নির্মানে বরাদ্ধ দিলেও তদারকীর অভাবে বরাদ্ধকৃত টাকা লুটপাট করে নামে মাত্র বেড়িবাঁধ নির্মিত হওয়ায় একদিকে ঝুকিতে ধলঘাটাবাসি, অন্যদিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে অপচয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অপরদিকে ধলঘাটা দ্বীপের পশ্চিমাংশের নির্মিত বেড়িবাঁেধর প্রায় ৩ কিলোমিটার বিধ্বস্ত ও দক্ষিন পূর্বাংশের বেড়িবাঁধ সম্পূর্ন অরক্ষিত থাকায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে জনবসতি ও চিংড়িঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর এলাকার সাধারন মানুষের অন্যতম জীবিকার উৎস লবন শিল্প বেড়িঁবাধ না হওয়ায় মারাত্মক ঝুকিতে ধলঘাটার। ধলঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বলেন- তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধলঘাটবাসির প্রানের দাবী টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। খুব শীগ্রই এব্যাপারে একটি সু-সংবাদ প্ওায়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে পাউবো (কক্সবাজার)‘র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সবিবুর রহমান‘র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, জলবায়ু ফানেন্ড’র আওতায় ১ কিঃ মিঃ বেড়িবাঁধের কাজ অল্প দিনের মধ্যে শুরু হবে। টেকসই বেড়িবাঁেধর জন্য যে পরিমান বরাদ্ধের দরকার তা পাওয়া না গেলে এভাবে আংশিক কাজ করে অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না। যাতে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করতে পারেন এজন্য বরাদ্ধ চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পত্র পাঠায়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান,বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রয়োজণীয় বরাদ্ধ পেতে হলে উর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষের সাথে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের তৎপর হতে হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT