টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

‘মহাসেন’ আতংকে টেকনাফ উপকূলের মানুষ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩
  • ১১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ ক্রমাগত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এ কারণে আতংকিত রয়েছে উপকূলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপকূলের মানুষ বলছে, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ লক্ষাধিক উপকূলবাসীর জন্য রয়েছে মাত্র ৫৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্র। জেলায় ৫৭৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বেশিভাগ ভাঙা। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
টেকনাফের সাইফুল্লাহ খালেদ জানান, ২০১২ সালের ৭ এপ্রিল টেকনাফ ৬৮নং পোল্ডার এলাকার বেড়িবাঁধের সংস্কারকৃত অংশ পূর্ণিমার জোয়ারের তোড়ে ভেঙে পানি ঢুকে  উপকূলীয় এলাকার চিংড়ি ঘের, ফসলি জমি, লবণ মাঠ ও শতাধিক বসতবাড়ি তলিয়ে যায়। তার অধিকাংশ এলাকা এখনও সংস্কার হয়নি।এ বাঁধ ৬৫৮ মিটার দৈর্ঘ্য বা ২১ চেইন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়েস্টটেন কনস্ট্রাকশন কয়েক’শ শ্রমিক দিয়ে কাজ করে। এ বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরে এলেও একে একে ভাঙনের ফলে আবার অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায়। মহেশখালী উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহছান উল্লাহ বাচ্চু বাংলানিউজকে জানান, ধলঘাটার সরাইতলা, পণ্ডিতের ডেইল, সুতরিয়া বাজার এলাকা ও বনজামিরার পশ্চিম অংশের বেড়িবাঁধ এখনো খোলা। পণ্ডিতের ডেইলে এখন জোয়ার ভাটা চলছে।

বর্ষা এলেই সরাইতালর লম্বা ঘোনার মধ্যবর্তী অংশে বসবাসরত প্রায় দুই শতাধিক পরিবারকে অন্যত্র চলে যেতে হয়। যার ফলে সব পরিবারকে প্রতি বছর নতুন করে বসতবাড়ি তৈরি করতে হয়।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিলেও তা এখনও শুরু হয়নি। যা পারিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপকূলীয় এলাকার লোকজন বসতবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। মহাসেনের আতংকে অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

কুতুবদিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বাংলান্উিজকে জানান, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইলের তাবলের চরে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার কাজ আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে প্রায় ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখন সম্পূর্ণ খোলা।

বঙ্গোপাসাগরের ঢেউ এখন মানুষের বসতবাড়িতে আঁচড়ে পড়ছে। যাদের অর্থশালী তারা এখন তাবলের চর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও গরীব অসহায় লোকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন। বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাও সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে রয়েছে।

বেড়িবাঁধের তিনটি প্রকল্পের দুইটির কাজ সম্পন্ন হলেও একটির না হওয়ায় মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।

টেকনাফের সাইফুল্লাহ খালেদ বাংলানিউজকে জানান, ২০১২ সালের ৭ এপ্রিল টেকনাফ ৬৮নং পোল্ডার এলাকার বেড়িবাঁধের সংস্কারকৃত অংশ পূর্ণিমার জোয়ারের তোড়ে ভেঙে পানি ঢুকে  উপকূলীয় এলাকার চিংড়ি ঘের, ফসলি জমি, লবণ মাঠ ও শতাধিক বসতবাড়ি তলিয়ে যায়। তার অধিকাংশ এলাকা এখনও সংস্কার হয়নি।

এ বাঁধ ৬৫৮ মিটার দৈর্ঘ্য বা ২১ চেইন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়েস্টটেন কনস্ট্রাকশন কয়েক’শ শ্রমিক দিয়ে কাজ করে। এ বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরে এলেও একে একে ভাঙনের ফলে আবার অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

এদিকে, এ লক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক বৈঠক রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা (মাইকিং), জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১১৩ টি জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুত, রোববার সন্ধ্যা থেকে কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে সবকটি উপজেলা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। জেলাব্যাপী চলছে সর্তকতামূলক প্রচারণা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT