টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মতিঝিলে হেফাজতকর্মী হত্যার ঘটনায় ‘অধিকার’ এর ফের উদ্বেগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ জুন, ২০১৩
  • ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

উৎসঃ   প্রাইম খবর…  মতিঝিলে হেফাজতকর্মীদের হত্যা স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় গণহত্যা। জনগণ ও তাদের অধিকার রক্ষা না করে সরকার স্বাধীনতার পর সর্ববৃহৎ গণহত্যা চালিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে খ্যাতিমান মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

পহেলা জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৫ মে গভীর রাতের ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। এতে বলা হয়, অধিকার বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে এক বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের গণহত্যা ঢাকা নগরীতে স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড যা রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা ঘটানো হয়েছে। এটা হচ্ছে এমন একটা চর্চা যা সরকারদলীয় কর্মী ও পুলিশ দিয়ে হরতাল-অবরোধের সময় বিরোধীদের উপর চালানো হয়ে থাকে। এর ফলাফল হয় সহিংস। এমন চর্চার ধারা চালু হয়ে গেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, অধিকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষা করা ও তাদের মৌলিক স্বাধীনতাগুলো নিশ্চিত করা। এমন অধিকারগুলো রক্ষা করতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। বরং রাষ্ট্র ভিন্নমতাবলম্বীদের চুপ রাখা ও দমন করার জন্য হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নকে বেছে নিয়েছে।

অধিকার এমন বর্বর আচরণ ও রাষ্ট্র কর্তৃক চালানো হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করছে। অধিকার আগেও মে মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির রিপোর্টে হেফাজতের শত শত নিরস্ত্র কর্মীকে হত্যা ও মিডিয়ার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা ও মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, ৬ মে রাত ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা শাপলা চত্বরে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের উপর হামলে পড়ে। অথচ হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাদের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি শেষে সরকারের অনুমুতি সাপেক্ষে সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছিল।

সে রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মিডিয়াকর্মী ও সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তারপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপরই নিরস্ত্র হেফাজত নেতা-কর্মীদের উপর নির্বিচারে গুলি, টিয়ারশেল, হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা শুরু করে। এ সময় দিনব্যাপী প্রোগ্রাম শেষ করে ক্লান্ত কর্মীদের বেশিরভাগ ঘুমিয়ে ছিল।

এটা সত্যি যে, তারা হামলার বর্বরতা ও হতাহতের বিষয়টি লুকাতে চেয়েছে। খবরে প্রকাশ যে, শত শত মানুষ ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। হেফাজতের দাবি ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার।

অধিকার নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানার চেষ্টা করছে। তবে এ পর্যায়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় বিষয়টি কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তারপরও অপারেশনের ধরণ ও বেঁচে যাওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ সংখ্যা অনেক বেশি। সে রাতে আহত ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত রহমত উল্ল্যাহ অধিকারকে বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর অনেক মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে তিনি দেখেছেন। এমনও অভিযোগ আছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে অনেক মৃতদেহ সরিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল, প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো ও পত্রিকাগুলো (যাদের বেশিরভাগ সরকারদলীয়দের মালিকানায় বা তারা সরকার সমর্থক) চুপচাপ রয়েছে। ওই রাতের অভিযান সম্প্রচার করায় সরকার দিগন্ত ও ইসলামী টিভি নামে দুটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে।

৬ মে শেষ রাতে মতিঝিলে অসংখ্য কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে দিনের বেলায় কাঁচপুর, নারায়নগঞ্জ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এতে সৃষ্ট সংঘর্ষে ২৭ জনের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। এ ঘটনায় ১ বিজিবি ও দুই পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান।

এছাড়াও ৫ মে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মতিঝিলের দিকে যাওয়ার সময়ও সংঘর্ষ হয়। অথচ হেফাজতের নেতাকর্মীরা তখন ঢাকা অবরোধ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেশিরভাগ গ্রাম থেকে আসা হেফাজত নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১৬ জন হেফাজত কর্মী নিহত ও ২ শত জনের বেশি আহত হন বলে জানা গেছে।

ওই সময় অনেক গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়। একাধিক দোকান, রাজনৈতিক দলের অফিস ও বাসে আগুন দেওয়া হয়। হাজার হাজার হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ে দীর্ঘসময় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT