টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

টেকনাফ ইসিএ এলাকায় পরিবেশ রক্ষায় ৮শ ভিসিজি সদস্য

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ১৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফে সিবিএ ইসিএ প্রকল্পের আওতায় ক্লাইমেট চেইঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর’র সহযোগী নেচার কনজারভেশন ম্যানেজম্যান্ট (নেকম) এর আওতায় পরিবেশ সংরক্ষনসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে ১৮টি ভিসিজি কমিটির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ৮শ সদস্য সক্রিয় রয়েছে। এ কমিটি বাহারছড়া শামলাপুর, শীলখালী, বড় ডেইল, টেকনাফ সদরের মিঠাপনির ছড়া, দক্ষিণ লম্বরী, তুলাতুলি, উত্তর মহেষখালীয়া পাড়া, দক্ষিণ মহেষখালীয়া পাড়া ও পশ্চিম মহেষখালীয়া পাড়া, সাবরাং কচুবনিয়া, নয়াপাড়া, হাদুরছড়া, বাহারছড়া খুরের মুখ, শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, জালিয়াপাড়ায় অবস্থিত। এ গুলো সরকারী সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত। প্রত্যেক ভিসিজি কমিটিকে এক লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। পরবতীতে বাহারছড়া বড়ডেইল, টেকনাফ তুলাতুলি, পশ্চিম মহেষখালীয়া পাড়া, সাবরাং খুরেরমুখ ও শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রি পাড়ার কমিটিকে আরো এক লাখ টাকা করে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। জীববৈচিত্র সংরক্ষন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গ্রাম ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে। ইসিএ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষন কার্যক্রমের পাশাপাশি জীববৈচিত্র সংরক্ষন কাজে ১৪ জন কর্মী ও ভিসিজি ভিত্তিক ১৫ জন সেচছাসেবক কাজ করছেন। গত রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তর ও সহযোগী সংস্থা নেকম স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রকল্প পরিদর্শন করে। এ সময় কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিআইডিও আব্দুল মালেক, এনআরএমও হাসিবুর রহমান, টেকনাফ নেকম ইনর্চাজ নারায়ন দাস র্সাবক্ষনিক পাশে থেকে বিভিন্ন বিষয় অবগত করেন।
সামদ্রিক কাছিম সংরক্ষন : পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগী সংস্থা নেকম টেকনাফ সৈকত এলাকায় ৩টি হ্যাচারীর মাধ্যমে কাছিমের ডিম সংরক্ষন করে। এ হ্যাচারী বাহারছড়ার হাজমপাড়া, সাবরাং খুরের মুখ ও শাহপরীরদ্বীপ গোলার পাড়ায় অবস্থিত। এ মৌসুমে কাছিমের ১ হাজার ডিম সংগ্রহ করে। এ ডিম সংগ্রহ আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে। এ হ্যাচারী থেকে ৪৫ টি কাছিমের বাঁচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়। কাছিম সাগরের ময়লা আর্বজনা খেয়ে পানি পরিস্কার রাখে এবং মাছের বংশ বিস্তার করে। সাগরে জেলি ফিস বা নুইন্ন্যা লাখ লাখ মাছের পোনা ধবংস করে। কাছিম জেলি ফিশ খেয়ে মাছ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সহযোগিতা করে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও নেকম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় ৬টি কাছিমের হ্যাচারীর মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করছে। টেকনাফে ৩টি ছাড়া মহেষখালী সোনাদিয়ায় ২টি ও কক্সবাজার পেচাঁরদ্বীপে ১টি হ্যাচারী রয়েছে। প্রতি হ্যাচারীতে দুইজন কনজারভেটরের নিয়ন্ত্রনে তা রক্ষনাবেক্ষন করা হচেছ। সামদ্রিক মা কাছিম কয়েক হাজার মাইল সাগর পাড়ি দিয়ে ডিম দিতে উপক’লীয় সৈকতে ছূটে আসে। এ সময় অনেক বাঁধা অতিক্রম করে আসতে হয়। বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে কয়েক হাজার ট্রলার নিয়ে জেলেরা বিভিন্ন প্রকারের জাল পেতে সাগরে মাছ শিকার করে। এদের জালে কাছিম জালে আটকা পড়লে ঝামেলা এড়াতে পিটিয়ে নির্মমভাবে কাছিম হত্যা করা হয়। প্রতিবছর ৬/৮শ মৃত কাছিম সৈকতে ভেসে আসে। একদিকে কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা, অন্যদিকে ব্যাপক হারে কাছিমের মৃত্যু নিয়ে পরিবেশবাদী বিভিন্ন মহলকে ভাবিয়ে তুলে। প্রতিবছর সৈকত এলাকায় লাইটিং, মানুষের হৈ চই, শিয়াল, কুকুরের কারনে কাছিম ডিম দিতে না পেরে মারা যাচেছ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও নেকম স্থানীয় জনগনকে সম্পৃক্ত করে নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে কাছিম রক্ষা ও বংশ বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচেছন বলে জানায়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম : দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে বাঁচতে স্থানীয় হত দরিদ্র নারীদের ‘ব্যাগ, পাটি ও মোড়া তৈরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করছে। টেকনাফ লেঙ্গুরবিল, তুলাতুলি ও খুরের মূখ এলাকার হতদরিদ্র ১৬ নারীকে এ সব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচেছ। এ সব নারীরা কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মনযোগ সহকারে ‘ব্যাগ, পাটি ও মোড়া তৈরি প্রশিক্ষণ নিচেছ। এতে পাবনার রোজিনা নামক এক মহিলা প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করছে। এ হত দরিদ্র নারীদের হাতে বুনা কয়েকটি পাথরের ব্যাগ দেখা যায়। তৈরি ব্যাগ গুলো বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। এ সময় কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ প্রশিক্ষন কার্যক্রম পরিদর্শন করে এবং তৈরি ব্যাগ গুলো কক্সবাজারের পর্যটন হোটেল গুলোতে মার্কেটিং এর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানায। এ প্রকল্পেন আওতায় গত বছর একশ নারীকে সেলাই মেশিন প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে বলে জানায়।
এছাড়া ইসিএ এলাকায় বাদুর সংরক্ষন : দুইটি এলাকায় বাদুর সংরক্ষন করা হচেছ। তা সাবরাং পানছড়ি পাড়া কবর স্থান ও শাহপরীরদ্বীপ উত্তর পাড়া। এতে ৩ প্রজাতির বাদুর রয়েছে। দুই প্রজাতির ফল খেকু বাদুর, পতংগভূক বাদুর। দেশে ৩০ প্রজাতির বাদুর রয়েছে। এ বাদুর গুলো অবাধে বিচরন ও নিরাপদ বাস স্থান টিক রাখতে কাজ করছেন।
পাখি সংরক্ষন : টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ বদরমোকাম, নাফনদীর প্যারাবন, সাবরাং কাটাবনিয়ার এলাকায় পাখি সংরক্ষন। তাছাড়া শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম উত্তর পাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া বাজার মসজিদ ও বাহারছড়া দক্ষিণ শীলখালী মরিয়ম বাড়ীতে কমিউনিটি পর্যায়েও পাখি সংরক্ষিত এলাকা পর্যবেক্ষন করেন।
মৎস্য সংরক্ষিত এলাকা : টেকনাফ নাফনদী কে কে খাল থেকে সাবরাং নয়াপাড়া ঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকাকে মৎস্য সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করে কাজ করছে।
ম্যানগ্রোপ সংরক্ষন : নাফনদীর প্যারাবন ম্যানগ্রোপ সংরক্ষনে ১শ হেক্টর জমি রয়েছে। তৎমধ্যে ৫০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোপ সৃজন করে।
উদ্ভিদ সংরক্ষন ও চারা বিতরন : সাবরাং কাটাবনিয়া খাল থেকে টেকনাফ বীচ ও বাহারছড়া কচছপিয়া থেকে বড়ডেইল পর্যন্ত ১০ একর জমিতে বালিয়াড়ীর উদ্ভিদ সংরক্ষন ও চারা রোপন করা হয়েছে। বাহারছড়া, সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ, মন্দির, কবর স্থান ও পরিবেশ ক্লাবে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৩৮ টি দেশীয় প্রজাতির চারা ও ১৪৮ জন কৃষকের মাঝে উচচ ফলনশীল সবজির বীজ বিতরন করে।
পরিবেশ বান্ধব চুলা ও লবন প্লট : ২শ টি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী স্বশ্রয়ী উন্নত চুলা বিতরন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের ৫২টি লবন সহিষ্ণু প্রর্দশনী প্লট করা হয়।
নেকম টেকনাফ ইনর্চাজ বাবু নারায়ন দাশ জানান, ২০১১ সালের মে মাসে এ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচেছ। কমিউনিটিকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভিসিজি কমিটি শক্তিশালী করলে ইসিএ এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণে ভিসিজি অবদান রাখবে। এ প্রকল্প শেষে গ্রাম পর্যায়ে কর্মকান্ড স্থায়ী রুপ নেয় সে উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রশাসনকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সিডব্লিউবিএমপি প্রকল্প থেকে তের লক্ষ টাকা আয় বিধায়ক স্থায়ী ফান্ড প্রদান করা হয়েছে। সকলের প্রচেষ্টায় ইসিএ এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি জানায়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT