টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

মংডুতে আটকে পড়া বাংলাদেশী ১৮ জন ব্যবসায়ী টেকনাফে ফিরেছেন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … মিয়ানমারের মংডুতে বিজিপি ক্যাম্পে হামলা ঘটনার পর মংডুতে আটকা পড়া বাংলাদেশী ১৮ জন ব্যবসায়ী একদিন পর টেকনাফে ফিরেছেন। সোমবার ১০ অক্টোবর সন্ধা সোয়া ৬টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে তাঁরা ফিরে আসেন। শনিবার রাতে আরাকান রাজ্যের কাওয়ারবিল টেনাইসুট, নাকফুরা ও কোডেংগাও এলাকায় ৩ বিজিপি ক্যাম্পে স্বশস্ত্র হামলার পর রোববার ইমিগ্রেশন যাতায়াত বন্ধ থাকায় উক্ত ব্যবসায়ীরা মংডু শহরে আটকা পড়েছিলেন। ফিরে আসা ব্যবসায়ীরা টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাসিন্দা।
টেকনাফ ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান ১৮ ব্যবসায়ী ও দুই শিশুসহ ২০ জনকে সোমবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ একটি ট্রলারে ফিরে আসার ব্যবস্থা করেন। ফিরে আসা ব্যবসায়ীরা জানান মংডু শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিপুল সংখ্যক সেনা ও সরকারী বাহিনীর আনাগোনা লক্ষ করেছেন তারা। এসময় তাঁরা মংডুর বিভিন্ন হোটেলে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করছিলেন।
বিজিপি ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৯ বিজিপি সদস্য এবং ৯ জন রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনের সদস্য নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। মংডু থেকে মুঠোফোনে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রোববার ঘটনাস্থল থেকে ৯ বিদ্রোহীর লাশ মংডু হাসপাতালে আনতে দেখেছেন। সেখানকার সংবাদপত্রে ৯ বিজিবি সদস্য নিহতের খবর ছাপা হয়েছে। এছাড়া ৩ ক্যাম্প থেকে প্রচুর অস্ত্র গোলাবারুদ লুট হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পরই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিপুল সদস্য হামলাস্থল কাওয়ারবিল, নাগফুরা ও কোডেংগাও এলাকায় পৌঁছেছে। সোমবার দিনব্যাপী মংডু বুড়া সিকদারপাড়া এলাকায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সাথে সেনা সদস্যদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। এতে উভয় পক্ষে ১০ জনের বেশী হতাহত হয়েছে। টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, টেকনাফ সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এছাড়া কোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। সোমবারও নাফ নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলেরা নাফ নদীতে মাছ শিকারে নামতে পারেনি। ট্রানজিট ও ইমিগ্রিশন যাতায়ত বন্দ রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনায় ৯ পুলিশসহ ১৭ জনের প্রাণহানির পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সব স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। মিয়ানমার সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর আরকান রাজ্যে সরকার রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত আংশিক কারফিউ জারি করেছিল। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মংডু জেলার সাধারণ প্রশাসক ইয়ে নাইং তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু নিউজ অ্যাজেন্সিকে বলেন, রোববার থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই এলাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন চলতি সপ্তাহে প্রতিবেশি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে না। সীমান্তের ৪ শতাধিক সরকারি স্কুল সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিয়াও টিন্ট বলেছেন, সীমান্তে হামলায় অন্য দেশের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন। টেকনাফ স্থল বন্দরের জিএম আবু নুর খালেদ ১০ অক্টোবর রাতে জানান মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সহিংস ঘটনার পর এখনও টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT