টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ভুল ভাঙালেন সাকিব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৩
  • ২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

A-Shakibঢাকা: সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। ভক্তদের কাছে তিনি যেমন নায়ক তেমনি সমালোচকদের দৃষ্টিতে দাম্ভিক ক্রিকেটার তিনি। কিন্তু সাকিব বলছেন এসব একেবারেই ভিত্তিহীন। সাদাসিধে মাটির মানুষ তিনি। সোমবার বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সেকান্দার আলীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন। সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: বিয়ের পর প্রথম শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছেন, এটা তো নতুন অভিজ্ঞতা?

সাকিব: এতো কিছু চিন্তা করিনি। যে ব্যস্ততা ওসব ভাবার সময় কোথায়। একটু বিনোদন দরকার, ছুটি আছে তাই যাচ্ছি। হাসি..। আমেরিকা প্রথম যাচ্ছি, এটাকে নতুন অভিজ্ঞতা বলতে পারেন।

প্রশ্ন: এখন অনেক ধীরস্থির দেখায় আপনাকে, শিশিরের প্রভাব নিশ্চয়ই?

সাকিব: না, আমার কাছে মনে হয় এটা বয়সের একটা কারণ। আমি যখন ২২-২৩ বছর বয়সে খেলতাম, ক্যাপ্টেনও ছিলাম তখন একরকম ছিলমাম। এখন দুনিয়াটাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখেছি। আর মানুষের বয়সের সাথে সাথে সবকিছুর পরিবর্তন হয়, এটাও তারই একটা কারণ।

প্রশ্ন: বিয়ের আগে এবং পরে কোনো পার্থক্য?

সাকিব: এখন পরিচিত মানুষের সাথে দেখা হলে জানতে চায় বৌ কেমন আছে। আগে জিজ্ঞেস করতো না। আরেকটা হতে পারে মেয়ে ফ্যানের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া তো আমি আর কোনো পার্থক্য দেখি না।

প্রশ্ন: উম্মে আহমেদ শিশির আমেরিকায় বড় হয়েছেন। বাঙালি সংস্কৃতি তার ভেতরে কতটা আছে। আপনাদের মধ্যে কথা হয় বাংলা না ইংরেজিতে?

সাকিব: আমি যতটুকু ভেবেছিলাম তারচেয়ে বেশিই আছে। বাসায় থাকলে ইংলিশে কথা হয় না। যখন এমন কাউকে দেখে যার সাথে ইংলিশে বলা দরকার তখন তার সাথে বলে। এছাড়া ইংলিশ বলা হয় না। সে একেবারে বাঙালি।

প্রশ্ন: শ্বশুর বাড়ি তো দূর দেশে (আমেরিকা), জামাই আদর মিস করেন নিশ্চয়ই?

সাকিব: নাহ। আমার বেশি কিছু চাওয়ার নেই। বাংলাদেশের সব মানুষই আমাকে আদর করে। আলাদা করে আদর পাওয়ার প্রয়োজন নেই। হাসি..।

প্রশ্ন: বিদেশে পাকাপাকি বসবাসের ইচ্ছে আছে?

সাকিব: না, এখনপর্যন্ত ওরকম কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আমার দেশে অনেক ভালো আছি।

প্রশ্ন: মানুষ আপনাকে অহংকারী ভাবে। তাদের এই ভাবনার মূলে কিছুটা দায় কী আপনার ওপর বর্তায় না?

সাকিব: বাইরে থেকে মানুষকে এক রকম লাগতে পারে, ভেতরে গেলে অন্যরকম মনে হবে। আমার সাথে যারা মিশে তারা এমন কিছু বলবে না। যারা মেশেনি, দূর থেকে দেখেছে, তাদের এমনটা মনে হতেই পারে। অস্বাভাবিক কিছু না।

প্রশ্ন: দলের ভেতরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনার এবং তামিমের নাম জড়িয়ে যায়, কেন?

সাকিব: এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাকে অহংকারী মনে করবে অনেকে। কিন্তু দেখেন, দলের ভেতরে দুই বড় স্টারকে নিয়ে কথা বললে নিউজ জমে, একজন নতুন সদস্যকে নিয়ে সেটা হবে না। এ কারণে নিউজ করার সময় নাম চলে আসতে পারে। সংবাদ মাধ্যমের এটা পলিসিও হতে পারে।

প্রশ্ন: টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কী বলবেন?

সাকিব: কেউ এই জিনিসটা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে বলে আমার মনে হয় না। খেলছি এবং টাকা আছে বলে একরকম চিন্তা ভাবনা। টাকা না থাকলে অন্যরকম চিন্তাভাবনা থাকতো। এতই যদি টাকার পেছনে ছুটতাম, তাহলে আইপিএল মিস গেল তিন কোটি টাকা, বিপিএলে এখন সব মিলে পাই এক-দেড় কোটি টাকা। টাকার কথাই যদি বেশি ভাবতাম তাহলে অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। চিন্তা করেন একটা জীবন থেকে তিন কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সেকেন্ডের ভেতরে। কোনো উচ্চবাচ্য না করে সেটা মেনে নেওয়া কম না। আমার তো মনে হয় না এনিয়ে কোনো কথা বলেছি মিডিয়াতে যে, আমি খুব আপসেট, এখানে খেলতে চাই না। যারা এমন ধারণা করে তাদের বোঝার একটু ভুল আছে বা জ্ঞানেরও একটু সমস্যা থাকতে পারে।

প্রশ্ন: টাকার অহংকারে আপনি পরিচিতদের সঙ্গেও আগের মতো মেশেন না, এমন অভিযোগও তো শোনা যায়?

সাকিব: আমি যেভাবে চলি, মনে হয় না যে এত নরমাল ভাবে কেউ চলাফেরা করে। আসলে আমি চাইলেও অনেক সময় কিছু করতে পারি না। সেটা আমার পক্ষে দেখানো সম্ভব হয় না। এটা নিয়ে কেউ ভুল ধারণা করলে কি করার। আর যারা জানে বুঝে এবং এগুলো উপলব্ধি করে, আমার ধারণা তারা কেউ-ই এই চিন্তা করবে না।

প্রশ্ন: খ্যাতি পেয়েছেন, প্রাচুর্যও আছে, উচ্চতর শিক্ষা থাকলে জীবনে পূর্ণতা আসে কী না?

সাকিব: অবশ্যই ইচ্ছা ছিল। এখন ওটা করতে গেলে খুবই কষ্টকর একটা জিনিস হবে। জানি না এটা করতে পারবো কিনা। কিন্তু এখনও আমার ইচ্ছে আছে উচ্চতর শিক্ষা শেষ করার। তবে আমি খুবই সন্দিহান এটা করা নিয়ে।

প্রশ্ন: মাগুড়ায় একটা ক্রিকেট একাডেমি করতে চেয়েছিলেন, এখনও সে ইচ্ছে আছে?

সাকিব: আসলে অনেক কিছু করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি, পরিবার, ব্রান্ডের সাথে চুক্তি, দেশের হয়ে খেলা। এরপর সময় থাকে না ওসব করার। আর আমার কাছে মনে হয় নিজে সময় দিতে না পারলে সঠিক ভাবে ওই কাজগুলো করতে পারবো না। পারফেক্ট জিনিসটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমি আমার ব্যাগ নিজে গোছাই। পার্সনাল ব্যাগে কাউকে হাত দিতে দেই না। আমার নিজের কাজগুলো সব সময় নিজেই করি। আমার কাছে মনে হয় এগুলো অন্য কেউ করলে ঠিক ভাবে হবে না।

প্রশ্ন: অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ায় এখনও কষ্ট পান?

সাকিব: একটু তো খারাপ লাগতেই পারে। কিন্তু ওরকম কিছু না। আলটিমেটলি ক্যাপ্টেন্সি যাওয়ার পর আমি অনেক ভালো আছি, টেনশন মুক্ত। কারণ অধিনায়ক থাকলে সবসময় দল নিয়ে চিন্তা করতে হতো। এখন চিন্তা করলেও অধিনায়ক থাকাবস্থায় যেভাবে চিন্তা করতাম সেভাবে না। এটা কেউ করতেও পারে না। ওই চাপটা নেই বলে আমি এখন অনেক স্বাধীন। প্লাস আমি নতুন জীবন শুরু করেছি। অধিনায়কত্ব না থাকাটা আমার জন্য প্লাস পয়েন্টই হয়েছে। আর আমি সব সময় চিন্তা করি আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে। এটা নিয়ে কোনো আফসোস নেই।

প্রশ্ন: সামনে দুটো বড় টুর্নামেন্ট আছে। আপনাকে আবার অধিনায়ক হতে বললে কী করবেন?

সাকিব: সত্যি কথা ওসব নিয়ে আমি একেবারেই ভাবতে চাই না। আমার কাছে এলেও সোজা না করে দেব। ওই জিনিসটার প্রতি মনই নাই। এমনকি বিপিএলে আমাকে একটা ম্যাচে কয়েক ওভারের জন্য ক্যাপ্টেন্সি করতে বলেছে তখন বলেছি ভাই মাফ করবেন। এই সাবজেক্টে আমি আর নাই।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে রাজনীতি করার ইচ্ছে আছে?

সাকিব: আমি মাঝে মাঝে মজা করে দু’একজনকে বলি যে রাজনীতি করবো। দেখি যে, সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে সমর্থন দেয়। কিন্তু অত বেশি ইচ্ছে নেই। যে পেশায় আছি সেটাই ভালো।

প্রশ্ন: প্রায় বলেন সংবাদপত্র দেখেন না, দেশ-বিদেশের খবর পান কিভাবে?

সাকিব: আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল দেখি। বিশেষ করে দেশের বাইরে থাকলে বিবিসি, সিএনএন দেখা হয়। সেখান থেকেই খবরগুলো পাই।

প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে আপনি খুব একরোখা ছিলেন। এটা কী সত্যি?

সাকিব: বলতে পারেন আক্রমণাত্মক ছিলাম। অনেক ডিমান্ডিং ছিলাম অনেক ক্ষেত্রে। অত অল্প বয়সে অধিনায়ক হলে এসব থাকে। এখন যদি অধিনায়ক হতাম, তাহলে অন্যরকম চিন্তাভাবনা থাকতো। ওই সময় বয়সের কারণে এবং পরিস্থিতির জন্য একটা ভিন্ন রকম মুড ছিল।

প্রশ্ন: সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন না, কোনো হতাশা?

সাকিব: খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ আমার ওরকম ঘোরাফেরার অভ্যাস কোনো সময়ই ছিল না। বিকেএসপিতে পড়ার কারণে আলাদা ভাবে থাকার একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। ঘোরাফেরার অভ্যাস ছিল না। তবে বিকেএসপিতে গিয়ে আরামে ঘুরতে পারি। মাগুড়াতে গিয়ে আরামে ঘুরতে পারি কোনো টেনশন ছাড়া। এশিয়ার বাইরে গেলে আরামে চলাফেরা করা যায়।

প্রশ্ন: বিকেএসপিই কী আপনার জীবন গড়ে দিয়েছে?

সাকিব: আমি তো বলবো হ্যাঁ। এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিকেএসপিতে ভর্তি না হলে আমার পক্ষে এত দূর আসা সম্ভব হতো না। মাগুড়ার মতো জায়গা থেকে কোনো ভাবেই তা করতে পারতাম না।

প্রশ্ন: ক্রিকেট খেলার আগ্রহের সূত্রপাত হয়েছিল কোথা থেকে?

সাকিব: আইসিসি ট্রফি যখন জিতলো বাংলাদেশ। ওর পর থেকে পাড়ায় সবাই ক্রিকেট খেলতে শুরু করলো। আমরা খেলতাম টেলতাম। মোটামুটি ভালো লাগতো। দুটোই খেলতাম, খেলা যে পেশা হিসেবে নিব এটা আমি কোনো কালে চিন্তাও করিনি। এমনকি আমি বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরও ভাবিনি। আমার পরিবারের কেউ কল্পনাও করেনি জাতীয় দলে খেলবো। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার তিন মাসের ভেতরে অনূর্ধ্ব-১৫ খেলেছি। তখনও আমার চিন্তা আসেনি। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ হয়ে এ দলে খেলার পর মনে হয়েছে জাতীয় দলে খেলা যায়। জাতীয় দলে খেলার পরও খেলাকে পেশা মনে হয়নি। কিন্তু এখন এটাকে পেশা মনে হয়।

প্রশ্ন: মিডিয়াতে নানা রকমের খবর আসে। ইতিবাচক, নেতিবাচক সেগুলোকে কিভাবে নেন আপনি?

সাকিব: পজিটিভ লিখলে ভালো লাগে। খুব বেশি নেগেটিভ হলে ভাবি যেটা আমি করিনি সেটা কেন লিখলো। আর ইতিবাচক সমালোচনা করলে খারাপ লাগে না। পরে উপলব্ধি করি সে ঠিক ছিল আমি ভুল ছিলাম। এটা প্রকাশ করি না কখনো। কিন্তু খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারি।

প্রশ্ন: তারকার ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকে না। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো সমস্যা?

সাকিব: আমরা পেশাদার লাইফ নিয়ে ওর কোনো চিন্তাও নেই, টেনশনও নেই। এই কয়দিনে আমি যেটুকু বুঝতে পেরেছি আমার পেশাগত জীবন নিয়ে ওর কোনো চিন্তা নেই। আমাদের এরকম ঝামেলা হওয়ার কোনো সুযোগও দেখি না। প্লাস ও যে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছে তাতে সবকিছু বুঝবে। আমার পছন্দই হচ্ছে যারা ক্রিকেট একটু কম বোঝে, ক্রিকেট নিয়ে কম কথা বলে তাদের সাথে মেশা। আমি যদি কোনোদিন বলি আজকে এটা করেছি। আজকে ম্যাচ সেরা হয়েছি, তাহলে বলবে ও আচ্ছা। এই এতটুকুই। এছাড়া ওর সাথে আমার ক্রিকেট নিয়ে কথা হয় না। এমনকি মাঠে খেলার সময় ও টের পায় না আমি কোনটা। হাসি..।

প্রশ্ন: বিকেএসপির কিশোরদের মাঝে মাঝে টিপস দিতে বললে কী করবেন?

সাকিব: অবশ্যই করবো। আমি মাঝে মাঝে গেলে স্যাররা আমাকে কিছু বলতে বলেন। তখন স্বাভাবিক ভাবে বলি। ওটা কোনো সমস্যাই না। আমি যা বলি, ওটাই তারা জানতে চায়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT