টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ভাসছে মানবতা কাঁদছে মা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫
  • ১১৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Shahidশহীদুল্লাহ শহীদ::

( প্রথম পর্ব )

মনটা বড় এলোমেলো যাচ্ছে বেশ ক’দিন থেকেই। রাগ, অনুরাগ, অভিমান, সব মিলিয়ে যেন মোড-অফ-টাইপের মত একটি মানষিক অবস্থার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে সময়গুলো। এমন একটি অবস্থার উপর ইদানিংকালের টি.ভি সংবাদগুলো যেন মনের উপর টনটন ওজন বাড়িয়েই যাচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের বিখ্যাত সব দুর্ভিক্ষ পিড়ীত মানুষের উপর আঁকা ছবির কথা ঠিক করে মনে পড়েছিল মনে নাই। হয়তো আমার ভেতরে শিল্পী মনের অভাব আছে। কিন্তু এবার অবৈধ পথে মালেশিয়াগামী বাংলাদেশী ও মায়ানমার রোহিঙ্গা বোঝাই অথৈ সাগরে ভাসমান অসহায় মানুষগুলোকে দেখে জয়নুল আবেদীন এর আঁকা ঐসব বিখ্যাত ছবিগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। তিনি এঁকেছিলেন তুলির আঁছড়ে, আর মালাক্কা প্রণালীতে ভাসমান ভেসেলে দেখলাম ঐসব ছবির ডিজিটাল প্রদর্শনী। হ্যাঁ মানবতা সত্যিই অথৈ সাগরে ভাসছে। বার বার মনকে বলি, না আর এসব দেখব না। দেখে কি হবে? আমার অবস্থান থেকে যখন আমার কিছুই করার নাই, তখন এসব দেখে কি আর হবে? শুধু শুধু অগোছালো মনের উপর বাড়তি চাপ দেওয়ার কি বা দরকার? একথা ভেবেই রিমোট এর উপর শুরু হয় অত্যাচার। কোন চ্যানেলেই দু’মিনিট স্থির নাই, ঘুরছি এদিক-ওদিক। এমন ঘোরা ঘুরছি এই রিমোটের যদি হাত-পা থাকতো, নিশ্চয় আমার মাথা ফাটাতোই। এই করতে করতে মনের অজান্তেই ফিরে আসি প্রতি ঘন্টার খবরে। আমি খবর কে, নাকি খবরই আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে জানিনা।
এদিকে টেকনাফ নিউজ ডট কম অনুরোধ জানিয়েছে আরো একটি আর্টিক্যাল লিখার জন্য। সময় আছে হাতে। রাজিও হলাম। লিখব নিশ্চয়। মনে মনে ভাবছিলাম এবার একটু অন্য পথে হাঁটবো। ভিন্নতর কিছু লিখব। মনে মনে কল্পিত বিষয়ের ভাবনাগুলো মালায় গাঁথি, একটি ভিত্তির উপর দাঁড় করাই। মূল একটা ভিত্তির উপর লিখাটা মনের অভ্যন্তরে সাজিয়ে তুলি। এখন কাজ শুধু লিখার ভিত্তিটিকে ডাল-পালা দিয়ে ব্রেইন থেকে আস্তে আস্তে কলম-এর তীক্ষè ডগায় নামিয়ে এনে বর্ণমালায় রূপ দেয়া। ভিত্তি যখন মনের ভেতর সাজিয়ে ফেলেছি, এখন তা শুধু সময়ের ব্যাপার। মনটাও ফুরফুরা লাগে। যাক্, আরও একটা লেখা মোটামুটি রেডীই হতে যাচ্ছে। শুধু বাকী ডেকোরেশন! যা হয়েও যাবে। অবস্থা যখন এই, এই চ্যানেল, সেই চ্যানেল করতে করতে সি.এন.এন/ বি.বি.সি হয়ে আল জাজিরা, এভাবেই খবরের বৃত্তেই ঘুরতে থাকি। নতুন সব খবর ইতিমধ্যে আমার সাজানো বাগান অর্থাৎ আমার কল্পিত লিখার ভিত্তিতে আঘাত করে তছনছ করে দিয়েছি। কারণ আমার মন ভাসমান মানবতার তরীর পিঁছু নিয়েছে, বাচাঁর আকুতি নিয়ে ফেল-ফেল দৃষ্টি নিয়ে মানবিক সাহায্য প্রার্থী মানুষের পিছু পিছুই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
দুই’শ বৎসরের অধিক বৃটিশ শাসন এরপর যখন ভারতীয় উপমহাদেশ যখন ভাগাভাগি হচ্ছিল মনে হয় ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়াদির ধ্যান-ধ্যারণাকে আমলেই নেয়া হয়নি। আর সেই সময়টাতে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান-আর আমাদের পার্শ্ববর্তী আরাকান রাজ্যের মানুষগুলোর চিন্তা-চেতনার প্রতিনিধিত্ত্ব করার মত উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে আমরা হয়ে গেলাম সুদূর পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ আর রোহিঙ্গা মুসলিমরা তৎকালীন বার্মার সংখ্যালঘু হয়ে যায়। দীর্ঘ শোসন-নিপিড়ন আর বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় আমাদের নিজেদের সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠতে। আর স্বাধীন একটি দেশ ও পতাকা পেতে দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ আর বিসর্জন দিতে হয় ৩০ লক্ষ মানুষকে। ঐ দিনে রোহিঙ্গা মুসলিমরা বার্মার সংখ্যালঘু হয়েও মৌলিক অধিকার এর ভিত্তিতে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ভালই ছিল। সামরিক জান্তার কলমের এক খোঁচায় ৮২ সালে নাগরিকত্বসহ সকল মৌলিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়া হল। সেই ৮২ সালের পর থেকে নাগরিকত্বহীন এদের মানবাধিকার-এর প্রশ্নে আজও মিয়ানমার “না” করেই যাচ্ছে। উপরন্তু তাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এ আগত বলে প্রচারণা চালায়। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সকল দেশ মোটামুটি এটাই স্বীকার করে যে রোহিঙ্গারা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে লাঞ্চিত, মৌলিক অধিকার বঞ্চিত, নাগরিকত্বহীন, অসহায় একটি জাতি। ওদের জীবনটাই হয়ে উঠলো ভাসমান, আজ এখানে, কাল ওখানে করেই পৃথিবীময় ছুটে চলছে।
মালাক্কা প্রণালী যখন মৃত্যুরকূপে পরিণত, মালাক্কার গভীর তলদেশে অজানা অসংখ্য রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীর সলিল সমাধিতে পরিণত। নানান আন্তর্জাতিক চাপে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যাণ্ড মানবিক কারণে আশ্রয় দাতা হতে রাজী হয়েছে। ফলে মৃত্যুর প্রহরগোনা হাজার মানুষ আপাতঃ প্রাণে বেঁচে যায়। মানুষের আকাংখা ছিল আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে হয়তো আরও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে যেতো। একটু দেরিতে হলেও মানবতার-ই জয় হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই পাইপ লাইনে ভাসমান অভিযাত্রী যে আছে এখনো ২৩ মে মায়ানমার নেভীর উদ্ধারকৃত ২০০ যাত্রী উদ্ধারই তা প্রমাণ করেছে। হয়ত এখনো সাগর-এর কোথাও না কোথাও ভেসে বেড়াচ্ছে মানবতা। দেরীতে হলেও মায়ানমার সরকারের উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ নামায় বঙ্গোপসাগর হয়ে মায়ানমার উপকূলসহ সূদুর মালেশিয়া উপকূল পর্যন্ত যৌথ অনুসন্ধান চালানোর সম্ভাবনার দ্বারই উন্মুক্ত হলো।
বাংলাদেশের গরীব, অদক্ষ কিন্তু কর্মস্পৃহা সম্পন্ন স্বপ্নবিলাসী মানুষের যাত্রা নিয়ে অনেক চুলছেরা বিশ্লেষণ চলছে নানান আঙ্গিকে। বৈধ না অবৈধ? এভাবে যাওয়া আইনের লঙ্গন!! কত কিছুইনা বলা হচ্ছে!! এখনো মানবতা ভাসমান। একবার থাই উপকূল, আবার মালেশিয়া হয়ে ইন্দোনেশিয়া উপূকূল অসহায় মানুষের এই অবস্থা ততক্ষণে পশ্চিমে “হিউম্যান পিং পং” তক্মা পেয়ে গেছে। এই মানুষ নামের “পিং পং” কে মানবিক সহায়তায় কথায় না গিয়ে আভ্যন্তরিন রাজনীতিতে ফায়দা নিতে যেন সব বিজ্ঞজনরা ব্যস্ত। কিন্তু বৈধ কিংবা অবৈধ যাই হউক, এই মানুষগুলোতে মৃত্যু ঝুঁকিতে এখনো। খাদ্য নাই, পানিয় নাই। এমন খবরও জানা যায়, মানুষ নিজের পশ্রাব বোতলে জমা রেখে তৃষ্ণা মেটাতে বাধ্য হয়েছে। শত শত মানুষ সাগরেই সলিল সমাধি হয়েছে। আমি শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি মিডিয়াকেই, যারা খাদ্য বা পানিয় নিয়ে ভাসমান মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু কংকালসার মৃত্যুমুখী মানুষের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে চেষ্টা করেছে যেন সরকারও রাষ্ট্রের অংগগুলোর ঘুম ভাংগে। বাংলাদেশের উপকূল দিয়ে রোহিঙ্গা ও গরীব স্বপ্নবিলাসী বাংলাদেশীদের যাত্রা গতকালের বিষয় নয়। এ যাত্রার বয়স ১০ বৎসরেরও বেশী হবে। সীমান্ত এলাকায় সরকারের প্রতিটি অংগই যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিল যে মালেশিয়া মুখি স্বপ্ন যাত্রা রোহিঙ্গা ও গরিব বাংলাদেশিদের যৌথ প্রযোজনায় হয়েছে। অসীম সাহস ও স্বচ্ছলতার স্বপ্নবিলাসীদের কলম্বাসÑএর উত্তরসুরী করেছে ঠিক তেমনি সূদুর মালাক্কা প্রণালী পাড়ি দিয়ে, থাইল্যান্ড এর গহীন অরন্য মাড়িয়ে গন্তব্যে না পৌঁছা পর্যন্ত শুধু মৃত্যুই আঠার মতো লেগেছিল তাদের সাথে। অনেক অভিযান যেমন সফল হয়েছে, আবার কতক অভিযানের করুণ পরিণতি হয়ে সাগরেই মৃত্যুইকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে। তাই প্রথম যাত্রা আর করুণ মৃত্যুর শুরু কোনটিই নতুন নয়। কিন্তু কিসব রহস্যজনক কারণে বিগত দিনে উপকূলে অসংখ্য লাশের সন্ধান মিললেও ঢাকার ঘুম ভাঙ্গেনি। ঢাকা যেমন ঘুমে, মায়ানমার তা ছিল গভীর ঘুমে। আর ঐদিকে দুর্নীতিবাজ থাই পুলিশ/ স্থানীয়রা মিলেমিশে সরগরম ট্রানজিট ব্যবসাই করে যাচ্ছিলো। থাই সরকারের এই ক্রেকডাউন কার্য্যক্রমের বেশ কয়েক বৎসর পূর্ব থেকেই থাই জঙ্গল থেকে মাঝে মাঝেই বাংলাদেশীরা থাইল্যান্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে কারাভোগ করে আসছিল। এদের অনেকেই ইতিমধ্যে দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। যার মানে হলো, বাংলাদেশের থাই দূতাবাস সবকিছু জানতো আগে থেকেই। কারণ ঐসব বাংলাদেশীদের আইনী সহায়তা দিতে গিয়ে তারা সবিস্তারে সবকিছু বিস্তারিত জানেন। থাই কারাগার থেকে যে কোন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আপনা-আপনি নিজ দেশে ফেরত যেতে পারে না বা কোন সুযোগই নাই। কারণ একমাত্র তার দেশের এম্বেসীই হবে তার প্রতিনিধি। কারাগার থেকে মুক্তি এবং মুক্তি পরবর্তী ঐ দেশ ত্যাগ করা পর্যন্ত এম্বেসীর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গটা এজন্য টানলাম, ওখানকার বাংলাদেশের এম্বেসী ঠিকই জানত বাংলাদেশীরা থাইল্যান্ডকে ট্রানজিট পয়েন্ট বানিয়ে মালেশিয়া যাচ্ছিল বৎসরের পর বৎসর। সবাই জানত, সবদেশেই জানত। থাই সরকার জুন টার্গেটে পড়ে অন্ধকার দরজা খুলতে বাধ্য হলো। এমন না যে, বাংলাদেশী- আর রোহিঙ্গাদের জন্য থাই সরকার-এর দরদ উপছে পড়েছে। এই থাই সরকারই গত ১০ বৎসর বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের হত্যা করে স্যূপ বানিয়ে যাচ্ছিল। এতসব দীর্ঘ ফিরিস্তি এজন্যই দিলাম আমার এই লেখা যদি সরকার সংশ্লিষ্ট কোন দায়িত্বশীল কর্তা, মন্ত্রী বা সাংসদের চোখে পড়ে, আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, সরকার বিগত ১০ বৎসরই এই মালেশিয়ার উদ্দেশ্যে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে যৌথ প্রযোজনার মরণযাত্রা করেছে এবং সরকার তা জেনেও না জানার ভান কিংবা তেমন গুরত্বের সাথে বন্ধ করবার পক্ষাপাতি ছিলোনা। জিরো টলারেন্স দেখায়নি। ১ নাম্বার কারণ হতে পারে, বাংলাদেশ সরকার মালেশিয়ায় বিশাল দলবল নিয়ে ডাকঢোল পিটিয়ে জিটুজি-র মাধ্যমে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় মানুষকে টুইন-টাওয়ার সমপরিমাণ স্বপ্ন দেখিয়ে রেজিঃ ও করিয়েছে। সস্তার আগে ছিল তিন অবস্থা, এখন বাস্তবে সস্তার ১৭ অবস্থা। জিটুজি কে আমাদের একজন লোকাল ইংলিশ করে বলেছে, “গো টু গো- আর ন গো টু ন গো। বাট মালেশিয়া যদি যেতে চাও, ট্রলারে গো।” হয়তো মালেশিয়ায় বৈধ পথে যাওয়ার জি-টু-জি আওতায় ৪০ হাজার টাকা দামের তামাশা আর সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই জিরো টলারেন্স দেখাতে যাইনি। এমনও হতে পারে সরকার কাগজে-কলমে জিডিপি আর পার-ক্যাপিটা আয় এর যে অংক দেখাচ্ছে তা বিতর্কিত হউক তা চাইনি। কিংবা মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাওয়া দেশ থেকে মানুষ কেন দারিদ্রতার কারণে ভিন দেশে অবৈধ পথে যাবে তা বিশ্ববাসীকে জানান দিতে চায়নি। আমি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের বা কোন দলীয় লোক নই। কিন্তু দেশ, দেশের স্বার্থ, প্রতিবেশি দেশ, সমসাময়িক বিশ্ব, সাগর-মহাসাগর ইত্যাকার সম্পর্কে আত্মতৃপ্তির জন্যই আপডেট থাকার চেষ্টা করি। কাউকে জ্ঞান দেব-এ জন্য নয়। এটাই আমার মোটামুটি লাইফ ষ্টাইল। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্দ্ধে উঠে, আমরা দল নয়, দেশ করি। দেশই সবার আগে। কোন বিশেষায়িত শ্রেণিকে নয়, দেশের সাথে দেশের মানুষকে ভালবাসি। একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস বা প্লাটফর্মে সক্রিয় থেকে দেশের সেবা করছে যারা, তাদের প্রতিও সম্মান জানাতে আমার কষ্ট নাই। আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, আমার প্রজন্ম মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মায়ের কূলে ছিলাম। পাকিস্তান আমাদের কাছে অতীত ইতিহাস। মগজে যখন স্মরণশক্তি যোগ হলো, আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছি, বুঝতে শিখেছি, তখন এটাই জানলাম আমাদের দেশপ্রেমিক হওয়ার মতো করে তুলতে আপনারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই দেশকে আমরা আমাদের মতো করেই ভালোবাসতে শিখেছি। কারণ আপনারা যারা দেশ নেতৃত্বের ড্রাইভিং সীটে বসেছিলেন আমরা আজ ২০১৫ সাল পর্যন্ত শুধু দেখেই যাচ্ছি, আপনারা আখেরাত না গুছিয়ে সবাই আখের গোছানোর তাল থেকে বের হতে পারেননি। মানুষকে, দেশকে ভালবাসতে পারেননি। রাজনীতিকে একটি সেবা না ভেবে কৌশলে পকেট ভারী আর প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার বানিয়েছেন। আপনাদের সকল নেগেটিভ উদাহরণকে পায়ে মাড়িয়ে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে শিখেছি সূরের মূর্চনায়। মা ও দেশ কে কেমন সূেের ভালবাসি তা হয়ত গুরু জেমসের গলায় শুনি। সেই ভালবাসার ক’টা লাইন নীচে দিলাম।
তুমি বিস্তৃত লগ্ন মাধুরীর জলে ভেজা কবিতায়
আছো সোহরাওয়ার্দী শেরেবাংলা ভাষানীর শেষ ইচ্ছায়
তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জ্বলা জ্বালাময়ী সে ভাষন
তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন
তুমি ছেলে হারা মা জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি
তুমি জসিম উদ্দিনের নকশী কাঁথার মাঠ মুঠো মুঠো সোনার ধূলি
তুমি ত্রিশ কিংবা তার অধিক লাখো শহীদের প্রাণ
তুমি শহীদ মিনারে প্রভাত ফেরীর ভাই হারা একুশের গান
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
জন্ম দিয়েছো তুমি মাগো তাই তোমায় ভালোবাসি
আমার প্রাণের বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
প্রাণের প্রিয় মা তোকে বড় বেশি ভালোবাসি
তুমি কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা উন্নত মম শীর
তুমি রক্তের কালিতে লেখা নাম সাত শ্রেষ্ঠ বীর
তুমি সুরের পাখি আব্বাসের দরদ ভরা সেই গান
তুমি আব্দুল আলিমের সর্বনাশা পদ্মা নদীর টান
তুমি সুফিয়া কামালের কাব্য ভাষায় নারীর অধীকার
তুমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শানিত ছুরির ধার
তুমি জয়নুল আবেদিন এস এম সুলতানের রঙ তুলির আঁচড়
শহীদুল্লাহ কায়সার মুনীর চোধুরীর নতুন দেখা সে ভোর
তুমি একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে বেজে উঠো সুমুধুর
তুমি রাগে অনুরাগে মুক্তি সংগ্রামে সোনা ঝরা সেই রৌদ্দুর
তুমি প্রতিটি পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার অভিমানের সংসার
তুমি ক্রন্দন তুমি হাসি তুমি জাগ্রত শহীদ মিনার
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
জন্ম দিয়েছো তুমি মাগো তাই তোমায় ভালোবাসি
আমার প্রাণের বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
প্রাণের প্রিয় মাগো তোকে বড় বেশি ভালোবাসি
দেশকে আমরা এভাবেই দেখি, ভালবাসি। আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুর পেশা কি ছিল, একজন রাজনীতিবদ এর মূল পেশা কিছু হওয়া উচিত। কারণ মানুষের পেশা ও নীতি একটাই, দুই পেশা আর দুইনীতি নিয়ে আর যাই হোক, দেশসেবা হয়না। আমরা দেখেই যাচ্ছি সংসদ এখন ব্যবসায়ীদের ভি.আই.পি ক্লাবে পরিণত। পেশা হিসেবে “রাজনীতি” এখন যেন বড় সেকেলে এবং টু-ইন-ওয়ান বা থ্রী-ইন-ওয়ান রাজনীতি আমাদের কি দিচ্ছে তাও দেখছি। দেখেই যাচ্ছি।
এই আমাদের দেশকে, এর সমান যদি কোন মানুষ সকল স্বার্থ, ধর্ম, মত, নীতির ঊর্দ্ধে উঠে ভালবেসে থাকে তা একমাত্র প্রবাসীরাই। প্রবাসীরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ প্রেমিক, এরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। দেশটা আসলে ব্যক্তির কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ, কত গভীর এবং খাঁটি প্রেমের ব্যাপার তা প্রবাসীদের মত করে কেউ দেখেনা। সময়ের প্রয়োজনে বা জীবনের প্রয়োজনেই হউক, আমার অবৈধভাবে ভারতে দীর্ঘ ২ বৎসর অবস্থানই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। কারণ জন্মভূমি ছেড়ে ভিন্ন দেশে ঐ অবস্থান না হলে, আমি হয়ত মৃত্যুর পূর্বেও বুঝতাম না দেশটা কত বড় ও মধুর। তাই আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই প্রবাসীদের শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকের আসনে বসলাম।

২য় পর্ব আসছে…

শহীদুল্লাহ শহীদ::০১৭৫৩৫০০৫৮০
E-mail: [email protected]
লেখক :একটি বেসরকারী সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা
সূত্র : বিভিন্ন ওয়েবসাইট

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

৩ responses to “ভাসছে মানবতা কাঁদছে মা”

  1. তোফায়েল আহমদ says:

    ধন্যবাদ একটু অন্য পথে হাঁটার জন্য! এটা নিশ্চয় অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে যে, একজন দুশ্চরিত্রের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাবেন। সেদিন টিআইবির মত একটা নির্মোহ প্রতিস্টান জানাল মানবপাচারের সাথে ক্ষমতাবান ব্যাক্তি ও প্রশাসনের যোগসাজেশ আছে। মানবপাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট উখিয়া-টেকনাফে বর্তমানে ক্ষমতাবান ব্যাক্তি কারা হতে পারেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

  2. Abuarman says:

    আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিব তা বলতে পারবনা।
    আর ধন্যবাদ দিয়ে ছোট ও করতে চাইনা। সত্যি রাজনীতি বিদরা যদি দেশকে এবং দেশের মানুষকে ভাল বাসত তাহলে আজ মানবতার শলীল সমধি হতনা।তাঁরা তো চেয়েছে নিজে কে! আর আমরা প্রবাসিরা সহ দেশে যারা সত্যিকার দেশ প্রেমিক তারা চাইতেছে দেশ কে।

  3. palash says:

    Osadaron likecen.apnar ai dur dristi sompponno leka jati ke jagroto korbe.tai ami kamona kori apnar ai lekar tuli colte takuk ahjibon.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT