টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ভাঙ্গা কালভার্ট ভাঙ্গা রাস্তা দ্বীপবাসীর অচলাবস্থা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৩
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শহীদুল ইসলাম কাজল,=OLYMPUS DIGITAL CAMERA

মহেশখালী উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ন প্রধান দু সড়ক (এলজিইড়ি)“র জনতাবাজার শাপলাপুর-গোরকঘাটা ও (সওজ)“র জনতাবাজার-কালারমারছড়া-গোরকঘাটা সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে দ্বীপের প্রায় সাড়ে তিন লাখ জনগন।  উপজেলা প্রশাসনের সব কিছু মূল ভু-খন্ডের একেবারে দক্ষিনে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর মহেশখালীর বিচ্ছিন্ন দুটি উপদ্বীপ ধলঘাট, মাতারবাড়ি সহ পাচঁটি ইউনিয়নের জনগন বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনের যোগাযোগ করে থাকেন। এ অবস্থায় ভাঙ্গা কালভার্ট ও খানা খদ্দে ভরা (সওজ)“র ২৭ কিঃমিঃ সড়কের করুণ অবস্থার কারনে প্রতিনিয়ত অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে (এলজিইড়ি)“র জনতা বাজার-গোরকঘাটা সড়কের অনেকাংশে পাহাড়ি ঢলের কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হলেও মেরামতের দ্রƒত কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রধান দু সড়কই মহেশখালীবাসীর মরণ ফাঁেদ পরিনত হয়েছে।
বিগত তিন/ চার বছরে প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মান ও সড়কের কোন মেরাত না হওয়ায় দু সড়কে যাতায়তে এক ঘন্টা সময়ের দূরত্বে দুই/ আড়াই ঘন্টা সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বর্তমানে সওজ’র আওতায় পাঁচটি কালভার্ট নির্মান কাজ চললেও কাজে ধীর গতি,অনিয়ম ও সরকারী  তেমন কোন তদারকী না থাকায় যেনতেন ভাবে চলছে নির্মান কাজ এমন অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। বিশেষ করে নির্মানাধীন কালভার্ট সংলগ্ন বিকল্প সড়কের নাজুঁক অবস্থা, পরিবহন চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় অপচয়ের গ্যাড়াকলে পড়ে অন্তহীন দূর্ভোগে মহেশখালীবাসি। হোয়ানক, হরিয়ার ছড়া বেইলি সেতু সহ কয়েকটি  নড়বড়ে কালভার্টের কাজ না হওয়ায় বর্তমানে নির্মানাধীন কালভার্ট গুলোর কাজ শেষ হলেও মহেশখালীর সরাসি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হবে । অনেক  সময় যানবাহন পাশ কাটাতে গিয়ে (ওভারটেক) খাদে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান, জীপ গাড়ী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসান রাশেল।  সড়কের এ অবস্থার কারনে জনগনের যেমন অতিরিক্ত ভাড়া ও সময়ের অপচয় হচ্ছে তেমনি ভাবে গাড়ীর মূল্যবান  যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েগাড়ী মালিকদের ক্ষতি হচ্ছে ।
ভাঙ্গা সড়ক ও কালভার্টের অজুহাত দেখিয়ে মহেশখালীর পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের হলেও এ নিয়ে প্রশাসনের মাথাব্যথা না থাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে পরিবহন সেক্টর। অথচ পার্শ্ববর্তী উপজেলা চকরিয়ায় একই পরিমান দূরত্বের গাড়ী ভাড়া ত্রিশ/ পচিশ টাকা হলেও মহেশখালালীতে একশ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে দেড়শত টাকা। বর্তমানে অতিরিক্ত ভাড়া অতীতের রেকর্ড চাড়িয়ে গেলেও দেখার যেন কেউ নেই। এছাড়া কয়েকটি বেইলি সেতুর মাঝখানে দীর্ঘ দিন থেকে গর্ত ও পাশের রেলিংয়ের অংশ কয়েক বছর পূর্বে ভেঙে পড়ায়  অনেক সময় যানবাহনের চাকা আটকে সেতুর উপর ফাংচার হয়ে পড়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা যান চলাচল ব্যহত হয়। জানা যায়,ভাঙ্গা কালভার্ট ও গর্তে ভরা সড়কের ফলে মহেশখালীতে মালামাল নিয়ে আসতে কয়েকবার গাড়ী পরিবর্তন করতে হয়, এঅবস্থায় বর্তমানে চট্রগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মহেশখালীতে সরাসরি মালবাহী গাড়ী অনেকটা কমে গেছে বলে জানান মহেশখালী সেতুর ইজারাদার এমরান।
ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে মহেশখালী বাসীকে। সড়ক ও জনপথ (সওজ)“র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, জন দূর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে কালভার্টের কাজ অল্প সময়ে শেষ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অতি ঝুকিপূর্ন ৪ কিঃ মিঃ সড়ক ও ভাঙ্গা অংশের মেরামতের জন্য ২(দুই) কোটি টাকা বরাদ্ধ নিয়ে কাজ চলছে বলে জানালেও এ সামান্য বরাদ্ধ নিয়ে লন্ডভন্ড সড়কের কাজ কতটাই হবে এমন প্রশ্ন মহেশখালীর সর্বত্রই। অন্যদিকে (এলজিইড়ি)“র মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, শাপলাপুর-জনতাবাজার সড়কের ভাঙ্গা অংশের মেরামতের প্রয়োজনীয় বরাদ্ধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্ধ আসলে যথা সময়ে কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT