টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বেড়েছে রাজস্ব, বাড়ছে করদাতাও

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

অনেক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল বিদেশি সাহায্য ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন হতো না। এখন দিন বদলে গেছে।  নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। লক্ষ্য এবার ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের হিসেবে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। সেই লক্ষ্যেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটেও সেই দিক নির্দেশনা রয়েছে। ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থ্যাৎ রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক খাত থেকে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রাজস্বে শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নয় তা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে চলতি অর্থ বছরে কমপক্ষে পাঁচ লাখ নতুন করদাতা সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।যদিও অর্থবছরের প্রথম মাসেই সেই সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে এনবিআর। চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জুলাই মাসে আয়কর, শুল্ক ও মূসক তিনটি বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৮ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে। জুলাই মাসে তিনটি বিভাগে ৯ হাজার ৫০৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১০০ দশমিক ৯২ শতাংশ। যা ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব সংগ্রহের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল এনবিআর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে প্রতিষ্ঠানটি। ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করে। যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।২০১৪-১৫ অর্থবছরেও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল এনবিআর। ওই অর্থবছরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল এনবিআর। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭১২ কোটি বেশি রাজস্ব আদায় করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।যেখানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও ৪ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ্যাৎ সময়ের সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ছে।সক্ষমতা বাড়ছে করের আওতায় বৃদ্ধিতেও। নতুন করদাতা সংগ্রহে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে সাফল্য দেখিয়েছে। চলতি অর্থ-বছরের জুলাই-আগস্ট মাস শেষে সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে ১ লাখের বেশি নতুন করদাতা সংগ্রহ করেছে। মাত্র দুই মাসেই ১ লাখ ৩৫ হাজার নতুন ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ই-টিআইএন) নিয়েছেন।এনবিআরের তথ্যানুসারে, বর্তমানে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা ২১ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে ২০ লাখ ২০ হাজার ব্যক্তি পর্যায়ে এবং ৯৩ হাজার কোম্পানি ও ফার্ম ই-টিআইএন নিয়েছেন। যেখানে গত ৩০ জুন পর্য্ন্ত ই-টিআইএনধারী সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৭৯ হাজার। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ইটিআইএন রেজিস্ট্রেশন শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।সূত্র আরো জানায়, ১ লাখ ৩২ হাজার নতুন করদাতার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোম্পানি ও ফার্ম নতুন ই-টিআইএন নম্বর নিয়েছে। এনবিআর আশা করছে আয়কর রিটার্ণ দাখিল করার শেষ সময় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আরো পাঁচ লাখ মানুষ ই-টিআইএন গ্রহণ করবে। সেই সঙ্গে বাড়বে প্রকৃত করদাতা। ২০১৮-১৯ সালে সক্রিয় করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখে উন্নীত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এনবিআর।এ বিষয়ে এক আয়কর বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি যে সকল কর্মকর্তাদের মাসিক বেতন মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি তদের ই-টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকার। এছাড়া বেসরকারি কোম্পানিতে যারা ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন, মনিটরিং পদে কর্মরত তাদেরকেও ই-টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক। যা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বেতন দেওয়ার সময়ে নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কর্মকর্তাদের বেতন ওই কোম্পানি ব্যয় হিসেবে দেখাতে পারবে না। অর্থ্যাৎ করের আওতা বৃদ্ধিতে এনবিআর জোড় প্রচেষ্টা চালাবে।রাজস্ব আদায় ও করদাতা বৃদ্ধির বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে তিন লাখ নতুন করদাতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ নতুন করদাতা যোগ হয়েছে। বছর শেষে অব্যশই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাঁচ লাখ নতুন করদাতা সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছিতিনি আরো বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের মতো চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এনবিআর। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্য অতিক্রম করবো। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ অর্জনের আমরা সক্ষম হবো।প্রসঙ্গত, করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, প্রতিটি মানুষকে কর দেওয়া উচিত। পাঁচ থেকে ১০ টাকা যাই হোক না কেন দেশের উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। এটা করতে পারলে দেশে কর সংস্কৃতি তৈরি হবে। এতে কর বিষয়ে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT