হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারজাতীয়

বিমানে কোটি টাকার নিয়োগ-বাণিজ্য কক্সবাজার-ঢাকা রুটে যাত্রী হয়রানি

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার..…..চরম অনিয়ম অব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের পকেট কাটাসহ নানান ধান্ধা ফিকিরে চলছে কক্সবাজার-ঢাকা অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল। দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত বিমান যাত্রীরা পাচ্ছেননা উপযুক্ত সেবা। ঘাটে ঘাটে প্রতারিত হচ্ছেন সবাই। বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষ এজন্যই দায়ী বলে মনে করেছেন ভুক্তভোগীরা। সুত্র জানায়, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বিকাশ এবং রাজধানীর সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে সরকার এই রুটে বিমান ব্যবসায়ীদের নানা সুযোগ সুবিধা দিলেও রিজেন্ট এবং ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে বর্তমানে গলাকাটা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। তারা কক্সবাজার টু ঢাকা কিংবা ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টিকেটের মূল্য দেখালেও কার্যত এই দু’টি বিমান কর্তৃপক্ষ বার বার চেষ্টা করে নানা কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিতে। ফলে রিজেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সে জনপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ভ্রমণের যে সুযোগটি কাগজে কলমে আছে, তার সুফল খুব একটা বেশি ভোগ করতে পারেনা সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, এই রুটে বিমান চলাচলের জন্য কর্তৃপক্ষ কয়েক ক্যাটাগরিতে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করলেও সেরকম কোন সুযোগ সুবিধা পাননা যাত্রীরা। ৫ হাজার টাকায় টিকেট নেওয়া যাত্রী ও ৭ হাজার টাকায় টিকেট নেওয়া যাত্রীদের জন্য বিমানের ভিতরে নেই আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারস্থ হোটেল কল্লোলে অবস্থিত রিজেন্ট এয়ার লাইন্সের একজন টিকেট বিক্রেতার সাথে আলাপে জানা গেছে, ভুতের গল্পের মত কাহিনী। তিনি জানান, এই এয়ারলাইন্সে যারা আগে টিকেট নেন কেবল তারাই ৫ হাজার টাকায় ঢাকায় যেতে পারেন। পরবর্তীতে যারা আসেন তাদেরকে একটু বেশি টাকা দিয়ে যেতে হয়।

তবে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের এরকম আচরণকে অসহায় যাত্রীরা সুযোগের সদব্যবহার বলে দাবি করে জানান, যদিওবা কর্তৃপক্ষ ৫ হাজার টাকায় ঢাকা যাওয়ার কথা বলেন, কিন্তু এই সুবিধাটি কারা ভোগ করছেন তা বুঝা মুশকিল। কারণ এখানে ৫ হাজার টাকা মূল্যের টিকেট চাইলেই কর্তৃপক্ষের সাফ জবাব এটি নাই। যেতে হবে অন্য প্রাইজে। মানে ৬ অথবা ৭ হাজার টাকা দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এই রুটের বিমান যাত্রীদের। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পৃথিবীর সব বিমানে ভাড়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হলেও এই রুটের যাত্রীদের সবসময় সেই সুবিধা বঞ্চিত করছে বিমান কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, কক্সবাজার-ঢাকা অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত এই দু’টি বিমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তারা সুযোগ বুঝে বিমান বন্দর অভ্যন্তরে যাত্রীদের সাথে যেনতেন আচরণও করে। কোন কারণে সাধারণ যাত্রীদের লাগেজে একটু মালামাল বেশি হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ তার জন্য অতিরিক্ত চার্জ হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে ইতোপূর্বে এই রুটে চলাচলরত রিজেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বনাম যাত্রীদের সাথে বহু অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে বিমানের শুধু এই অনিয়ম নয়, জানা গেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে বর্তমানে অনিয়ম দুর্নীতির উৎসব চলছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন বাণিজ্য। অনলাইন সংবাদ সংস্থা বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছেÑ দৈনিকভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের অনেকটা জিম্মি করেই বিমানের মানবসম্পদ বিভাগের কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করছে। জীবিকার তাগিদে অসহায় কর্মীরা এই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিমানের প্রভাবশালী একটি চক্র। এই নিয়োগ বাণিজ্যের অর্থের একটি বড় অংশ বিমানের শীর্ষকর্তা-ব্যক্তিরাও পাচ্ছেন। কঠিন সব শর্ত দিয়ে এসব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। এই শর্তের একটু ব্যত্যয় ঘটলে চাকরিও হারাতে হয়। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ এ ধরনের অভিযোগ আনলে বিমান কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। বিমানের এ বক্তব্যের ব্যাপারে ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, যাদেরকে তারা অর্থ দিয়ে চাকরি নেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এই সাহস কার? তবে বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ীভিত্তিতে চাকরি করার কারণে এসব কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে চাকরি পেলেই রেহাই মেলে না বিমানকর্মীদের। শোকজ, পদোন্নতি, বদলি, বিভাগ পরিবর্তনের নামেই আদায় করা হয় বিপুল অংকের টাকা। পদে পদে এদের ওপর চাকরি হারানোর হুমকিও থাকে সারাক্ষণ।
সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের প্রধান সদস্য বিমানের একজন পরিচালক। যিনি আবার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সে চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের ডানহাত হিসেবে পরিচিত। বিমান সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিমানে অতিরিক্ত লোকবল রয়েছেÑ এ অভিযোগ তুলে তা কমানোর নির্দেশনা দেয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বিমান স্বেচ্ছায় অবসর প্রকল্পের আওতায় (ভিআরএস) ১৮৭৬ কর্মীকে ছাঁটাই করে। এর পরপরই বিমান ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের প্রায় অর্ধেক জনবলকে দৈনিক ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ক্যাজুয়াল ও ডেইলি বেসিস (দৈনিকভিত্তিতে) বিমানের ১৩৬৮ জন কর্মী কাজ করছে। জীবনের মাঝপথে এসে চাকরি হারানো কর্মীরা খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার মতো তখন দৈনিকভিত্তিক চাকরিতে যোগ দেয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং শাখার এক কর্মী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মাঝ বয়সে এসে স্থায়ী চাকরি হারানোর কষ্ট কেউ বুঝবে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে তখন দৈনিকভিত্তিক নিয়োগেই চাকরি নিতে বাধ্য হই। আর এজন্য বিমানের উচ্চপদস্থদের ঘুষ দিতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানের মানবসম্পদ বিভাগই এসব নিয়োগ বাণিজ্যের কাজটি সম্পন্ন করে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একটি বড় অংশ কাজ করে বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারে (বিএফসিসি)। বিএফসিসিতে তিন ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়। ৫৮ জন স্থায়ী বাদে বাকি ৩৩৮ জনই চাকরি করে চুক্তি ভিত্তিতে। এর মধ্যে প্রতি ৩ মাস অন্তর, ১ বছর অন্তর এবং ২ বছর অন্তর চুক্তি হয় কর্মীদের সঙ্গে।

সূত্র জানায়, বিএফসিসিতে এই নিয়োগ বাণিজ্য চলে মানবসম্পদ বিভাগের আলী নিয়াজের মাধ্যমে। তিনি ১১ বছর ধরে এই পদে কাজ করছেন। আলী নিয়াজ নিজেও চুক্তিভিত্তিক হিসেবে চাকরি করেন। অথচ তিনি এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম হোতা। বিমানের পরিচালক, প্রশাসনের ঘনিষ্ট হওয়ায় তার ব্যাপারে কেউ কথা বলার সাহস করে না। আলী নিয়াজের মতো বিমানের ট্রান্সপোর্ট, কার্গোসহ প্রতিটি বিভাগের মানবসম্পদ বিভাগের মাধ্যমেই নিয়োগ বাণিজ্য চলে।

সর্বশেষ বিএফসিসিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে। এদেরকে কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি, লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষেই এসব নিয়োগ দেয়া হতো; কিন্তু সাম্প্রতিককালে নিয়োগ পাওয়া ৮০ জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি মানা হয়নি। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারেই বিমানের লোকবল কমানো হয়েছিলো; কিন্তু চাহিদা থাকায় পরবর্তীতে ক্যাজুয়াল ও দৈনিকভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ করা হয়। তবে এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। আর এর সঙ্গে বিমানের উচ্চ-পর্যায়ের কেউ জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ এ ধরনের লেনদেনের অভিযোগও করেনি। আর সত্যিই যদি কেউ এ অভিযোগ বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গোচরে আনে তাহলে এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.