টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বিপর্যস্ত হেফাজত, নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩
  • ১২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

image_24694_0প্রথম আলো: সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন এর নেতা-কর্মীরা। সংগঠনের আমির শাহ আহমদ শফী ছাড়া বাকি প্রায় সব দায়িত্বশীল নেতা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। বন্ধ রেখেছেন তাঁদের মুঠোফোনও।
৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি শেষে রাজধানীতে সহিংস ঘটনায় দায়ের করা ১৬টি মামলায় হেফাজতের ১৭৫ জন নেতাকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাও রয়েছেন। এরই মধ্যে সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে ১১টি মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে শাহ আহমদ শফীকে কোনো মামলায় আসামি করা হয়নি।
হেফাজতের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, মামলার আসামি হওয়া হেফাজত নেতাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। অতীতে এ ধরনের মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো বা তা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা না থাকায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
রোববারের পর থেকে পুরান ঢাকার ৫৭, কাজী রিয়াজউদ্দীন সড়কে লালবাগ মাদ্রাসায় অবস্থিত হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কার্যালয়টিও এখন বন্ধ রয়েছে। রোববার মধ্য রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানের পর সোমবার ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লালবাগ মাদ্রাসা ঘেরাও করে। তখন এ মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন আহমদ শফীও। তাঁকে এখান থেকেই পুলিশ চট্টগ্রামগামী বিমানে তুলে দেয়। এ মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে হেফাজতের নেতারা লালবাগ মাদ্রাসাও এড়িয়ে চলছেন।
সংগঠনটির একাধিক সূত্র জানায়, রোববার দিনভর সহিংসতা ও গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কর্মীদের হতাহতের ঘটনায় হেফাজতের নেতারা একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ ও সন্ত্রস্ত। তবে, ঘটনার পরদিন সংবাদমাধ্যমে রাজধানীর পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, বায়তুল মোকাররম ও মতিঝিল এলাকার ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখে হেফাজতের অনেক নেতা অবাক হয়েছেন। এসব ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সে প্রশ্নও তুলছেন।
হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মোহাম্মদপুর জামেয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহফুজুল হক গত মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হেফাজতের কর্মীদের পক্ষে এ ধরনের নৃশংসতা চালানো সম্ভব নয়। হামলাকারীদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায়, এরা কারা।’ তিনি দাবি করেন, হেফাজতে ইসলাম দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। অহিংস কর্মসূচির কারণে অল্প দিনের মধ্যে সবার কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়। এটি নষ্ট করার জন্যই সরকার পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করে হেফাজতের ওপর দায় চাপিয়েছে।
মাহফুজুল হক প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে। রাজধানীতে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাঁকেও আসামি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, উদ্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুদিন সময় নেবেন হেফাজতের নেতারা। এই মুহূর্তে মামলার আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সক্রিয় হওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে, আগামী রোববার সংগঠনের ডাকা হরতাল কর্মসূচি সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
হেফাজতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, প্রশাসনের চাপের মুখে সংগঠনের প্রধান শাহ আহমদ শফী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় ফেরার পর বাইরের কারও সঙ্গে তেমন কথাবার্তা বলছেন না। গত মঙ্গলবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত হননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক আশরাফ আলী নিজামপুরী বক্তব্য দেন। এ সময় সংগঠনের নায়েবে আমির সামছুল আলম ও মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মালেক হালিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই তিনজনও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা একাধিক মামলায় আসামি।
মহানগর কমিটির সভা: এ পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল লালবাগ মাদ্রাসায় হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির সভা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা ফারুক আহমদ, আবুল ফারাহ আমিনী, নাছির উদ্দীন, কাজী আজিজুল হক, আবদুল আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সভায় দাবি করা হয়, মতিঝিলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে মধ্যরাতে ইমানদার জনতার ওপর নারকীয় অভিযান চালিয়ে ‘তিন হাজার’ মুসলমানকে শহীদ করেও দানব সরকারের রক্তপিপাসা মেটেনি। তারা আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে আসামি করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশের আপামর জনতার কাছে এর জন্য অবশ্যই তাদের একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT