টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৩
  • ১২৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

fffffffজনসংখ্যার হিসাবে বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত প্রধান ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ছয় কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সেবা আওতার বাইরে ছিল, যা মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামের মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ এবং শহরের ৮৮ শতাংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল। এছাড়াও ১৯৯০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা ২২ শতাংশ বেড়ে ৫৫ শতাংশ হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরিচালতি এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থা দুটি জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের ১৭০টি দেশের ওপর সমীক্ষা চালায়। পরে গত মঙ্গলবার ‘গ্লে-াবাল ট্র্যাকিং ফ্রেমওয়ার্ক’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস- প্রেসিডেন্ট র‌্যাচেল কাইট বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বাড়ছে। কাজেই এর ব্যবহার করতে হবে আরো টেকসই উপায়ে, আরো দক্ষতার সঙ্গে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, যা ২০০৯ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ। সরকারের দাবি, গত চার বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৮ হাজার ৫২৫ মেগাওয়াট হয়েছে। এই সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার নতুন গ্রাহককে।
বিশ্বের বিদ্যুৎ সেবাবঞ্চিত শীর্ষ ২০ দেশের তালিকার প্রথমেই রয়েছে ভারত, যার ৩০ কোটি ৬২ লাখ মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। এই পরেই রয়েছে নাইজেরিয়া, যেখানে আট কোটি ২৪ লাখ মানুষের কাছে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। এ তালিকায় মিয়ানমার দশম, আফগানিস্তান দ্বাদশ ও পাকিস্তান  ষোড়শ অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১০ সালে বাংলাদেশের গ্রামের মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ এবং শহরের ৮৮ শতাংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল। গত ২০ বছরে জনবহুল যেসব  দেশে বিদ্যুতায়ন বেড়েছে, তার প্রধান ২০ দেশের তালিকায় ১২টিই এশিয়ার। এই সময়ে বিদ্যুতের আওতায় আসা বিশ্বের ১৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩০ কোটি এসব দেশেরই বাসিন্দা। এই সময়ে ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতা বাড়িয়েছে। এই ২০ বছরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সেবা বছরে তিন শতাংশ হারে বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষের বাস গ্রামে। আলোচ্য ২০ বছরে বিশ্বের ১৭০ কোটি মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। আর এই সময়ে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েছে ১৬০ কোটি। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুতায়নের গতি দ্বিগুণ করতে হবে বলে মত দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা ও গৃহস্থালীতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিস্তার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘কিছুটা’ উন্নতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার ২০টি দেশে, যাদের তিন চতুর্থাংশ আবার কাঠসহ প্রথাগত জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ জ্বালানি ভোগকারী প্রভাবশালী দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩৬ শতাংশ করতে হবে এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে। ২০১১ সালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের গৃহীত ‘সবার জন্য টেকসই জ্বালানি’ পদক্ষেপের তিনটি লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রথম এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করেছে ১৫টি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। এই পদক্ষেপের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব দেশের জন্য জ্বালানিপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা এবং জ্বালানি দক্ষতার দ্বিগুণ উন্নতির লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজকে নিয়ে এই উদ্যোগে কাজ করছে বিশ্ব ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ দ্বিগুণের  বেশি বাড়াতে হবে। সামষ্টিক জ্বালানি নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে যাবতীয় অর্থনৈতিক প্রণোদনা, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমানো ও কার্বনের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো থাকবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT