টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে ৪ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড টেকনাফ হাসপাতালে ‘মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ’ বান্দরবানে রোহিঙ্গা ‘ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রামুতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু দেশের ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: গ্রেডিং বিহীন সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলা বাতিল চাওয়া আবেদনের শুনানি ১০ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর উদ্যোগঃ নগদ’এ ক্যাশ আউট হাজারে ৯.৯৯ টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন

বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে আসছে ইয়াবা : রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বান্দরবানে মায়ানমারের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার থেকে অবাধে আসছে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আসা এসব মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আনাচে-কানাচে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ১৭২ কিলেমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে, যার অধিকাংশ এখনো অরক্ষিত। দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি’র) নিরাপত্তা চৌকি (ভিওপি) রয়েছে মাত্র ১৫টি। তবে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীতে ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান ধরা পড়ায় মায়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানেও সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি ১৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মাহাবুবুর রহমান। তিনি এ প্রতিবেদককে আরো জানান, পাহাড়ি সীমান্তপথে ইয়াবা’র বড় চালান আসার কোনো খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। শরীরের সাথে বেঁধে অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গারা কিছু কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট সড়কপথে নিয়ে আসে বলে খবর রয়েছে আমাদের কাছে। ওইপথগুলো বন্ধ করতে নতুনভাবে সীমান্তে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে বিজিবি টহল।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, চাকঢালা, আশারতলী, দৌছড়ি, বাইশফাঁড়ি এবং কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তপথ ধরে মায়ানমার থেকে অবাধে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ছে এসব অনুপ্রবেশকারীদের সাথে আনা ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- জনপ্রতিনিধিসহ সীমান্তে বসবাসকারী প্রভাবশালী একটি চক্র রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর অবৈধ ওই রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের সময় সাথে করে নিয়ে আসছে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, মদ, গাঁজাসহ নানধরনের মাদকদ্রব্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- মাত্র ১০ টাকার অঘোষিত পাসপোর্টে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা মাদকদ্রব্য ছাড়াও সীমান্ত পথে নিয়ে আসছে মায়ানমারের গরু, লু্‌ঙ্গীসহ বার্মিজ কাপড়-চোপড়। বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে মূল্যবান সার এবং জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সীমান্তবর্তী তুমব্রু এবং রেজু বাজার হচ্ছে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের বেচা-কেনার হাট। প্রতিদিন মায়ানমারের লোকজন অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ওই দু’টি বাজারে নিয়ে আসছে নানাধরনের মাদকদ্রব্য এবং ফেরার সময় বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান তেল ও সার।
বিষয়টি স্বীকার করে সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া প্রতিবেদককে জানান, একথা সত্য। তবে এখন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সম্প্রতি ইয়াবাসহ কয়েকজন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে বিজিবি। প্রচলতি আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সীমান্তবাসীরা সম্মিলিতভাবে তাদের অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় পণ্য পাচার বন্ধের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, এদেশে অবৈধভাবে প্রায় পৌনে ৪ লাখ মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বসবাস করছেন। যার মধ্যে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে বিগত দেড় বছরে। অবৈধ অনুপ্রবেবশের পর ওইসব রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে। অর্থ উপার্জনের নামে মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা মাদকদ্রব্য পাচারসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপেও জড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে- রোহিঙ্গা নাগরিকদের পুশব্যাকের নামেও চলছে বাণিজ্য। সংঘবদ্ধ একটি চক্র রোহিঙ্গাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অপরদিকে ‘১৭, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ অধিনায়ক লে: কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, চোরা চালান বন্ধে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটকে ধরতে সোর্সগুলোকে আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইয়াবাসহ সম্প্রতি কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বড় চালানগুলো মূলত সমুদ্র পথে বেশি আসে তবে স্থলপথে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু চালান আসলেও তা পরিমাণে কম।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT