টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বাণিজ্যিক ভাবে কাকন চাষে…বদলে দিতে পারে পাহাড়ের অর্থনীতি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩
  • ৫০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Alikadam (Bandarban) news pic 30,4,13এস,এম,জুয়েল,আলীকদম (বান্দরবান) …তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ে উৎপাদিত কাকনের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পার্বত্যাঞ্চল ও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে সুস্বাদু খাবারে কাকন অতি পরিচিত একটি নাম। আদিবাসীদের সমাজিক উৎসব পার্বণে অতিথি আপ্যায়নে অনেক দিন থেকে কাকনের পায়েশ পরিবেশনে রেওয়াজ আছে। চট্টগ্রামের মানুষের কাছেও এখন কাকন একটি সুস্বাদু খাবারের তালিকায় স্থান করেছে। পাহাড়ী বাঙালীর বিভিন্ন উৎসব পার্বণে কাকনের পায়েশ অতিথি আপ্যায়নে খ্যাতি রয়েছে। পাহাড়ে জুম চাষের সাথে বাণিজ্যিক ভাবে কাকনের উৎপাদন বাড়ানো গেলে অপার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে জুমচাষীরা। তবে পাহাড়ে সেই ধরণে উদ্যোগ নেই এখনো।
স্থানীয় জুমচাষীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ী ঢালু জমিতে জুমে ধান চাষের সাথে মিশ্র শস্য হিসেবে কাকন চাষ করে আসছেন তারা। কাকনকে স্থানীয়রা (কৈন চউল) নামে চেনেন। তবে ঠিক কখন থেকে পার্বত্য এলাকায় কাকনের চাষ শুরু হয় তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি কেউ। তারা জানান, উত্তরসুরীদের ধারাবাহিকতায় কাকনের চাষ করে আসছেন। বৈশাখে জুমে ধানবীজ বুননের সময় কাকন বীজ ছিটানো হয়। বৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে কাকন বীজ গজিয়ে উঠে। দেখতে সরষে দানার মত। আদিবাসীদের কাছে এটি এক প্রকার ধান হিসেবে পরিচিত। কাকন গাছ সাধারণত ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা দেখা যায়। পাতা আখ পাতার আকৃতি। বাতাস পেলে হেলিয়ে নুয়ে পড়ে। মাটির সাথে দোল খায়। জুমে ধান পাকার সাথে সাথে কাকন পাকা শুরু হয়। তবে জুমের ধান কাটার পর কাকন ঘরে তুলেন চাষীরা।
জুমচাষী সিন্দুমনি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বর্তমানে বাজারে কাকন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে কাকন উৎপাদন হয় না। বাজারে কাকন চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ধানের সাথে কাকনের মিশ্র চাষের ফলে জুমে আলাদা জমির প্রয়োজন হয়না চাষীদের। তাই সহজে চাষ করা যায়।
স্থানীয় জিন্দামনি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিভিন্ন উৎসব পার্বনে অনেকে বাজারের সেমাই কিনতে পারেনা। কাকন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। পাহাড়ে আদিবাসীদের কাকন চালে অতিথি আপ্যায়ন একটি আলাদা খ্যাতি রয়েছে। সিদ্ধ করে দুধ ও চিনি মিশিয়ে পায়েশ তৈরী করে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। স্বাদও হয় ভাল। ভোজন রসিকদের কাছেও সুস্বাদু খাবারের তালিকা নাম লিখিয়েছে কাকন। বিশেষ করে আদিবাসীদের উৎসব পার্বণে তো কথায় নেই।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন উৎসব পার্বণ ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য তারা কাকন চাষ করে থাকেন। পাহাড়ে যেভাবে কাকনের চাহিদা রয়েছে একই ভাবে সমতলেও এর চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে কাকন চাষের উদ্যোগ নেয়া হলে বদলে দিতে পারে পাহাড়ে অর্থনীতির চিত্র।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT