টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন মহাজোট আমলে হচ্ছে না!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ জুন, ২০১৩
  • ১৬০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

roodটেকনাফ নিউজ ডেস্ক…বন্ধুপ্রতিম পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জিইয়ে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সহ বিদ্যমান সীমান্ত বানিজ্যের আরো সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে উখিয়ার সীমান্তের ধুমধুমে এশিয়ান হাইওয়ের ফলক উন্মোচন করা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। ইতি মধ্যে দাহাজারী ঘুমধুম রেললাইন বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ সহ যাবতীয় কার্যক্রম চলমান থাকলেও মৈত্রিক সড়ক বাস্তবায়নের ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি হয়ে যাওয়ার ফলে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে। আদৌ উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়কি না তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে বিরাজ করছে উদ্যোগ উৎকন্ঠা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ মিয়ানমার দু’দেশের মধ্যে সরাসরী সড়ক যোগাযোগের পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, মিট্যুয়ে ইয়াংগুন হয়ে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্তির পরিকল্পনা ছিল। যে কারণে প্রস্তাবিত মৈত্রী সড়কে এশিয়ান হাইওয়ে হিসাবে সংশিষ্টরা চিহ্নিত করেছে। পরবর্তীতে উক্ত সড়কটি ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, কম্বুডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যএশিয়া বিভিন্ন দেশের রাজধানীর সাথে সংযুক্ত হওয়ার কথা এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের মধ্যে একাধিকবার উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক, কুটনৈতিক, সফল ও মতবিনিময় সভা সম্পন্ন হয়।

২০০৪ সালের এপ্রিলে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী জেনারেল থিন নিউন্টের নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত সমযোতা স্মারকে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তৎমধ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রধান্য পায়। উক্ত প্রকল্পের আওতায় রামু, ঘুমধুম, মিয়ানমারের তুমব্র“ হয়ে বলি বাজার ক্যাকটাউ পর্যন্ত মোট ১৫৩ কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়ন প্রকল্প কে ৩টি প্রকল্পে ভাগ করা হয়। সমযোতা স্মারক অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশী প্রকৌশলী তত্বাবধানে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মিয়ানমারের অংশে তুমব্র“ বলি বাজার ২০ কিলোমিটার সড়ক ২টি বড় সেতু ও ৯০টি কালভার্ট নির্মান করে দেওয়ার কথা। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা তহবিলে মিয়ানমারের বলি বাজার হয়ে ক্যাকটাউ পর্যন্ট ১১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মান বাবদ ৭শত ৭০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্ধ ধরা হয়েছে। বাকী ২৩ কিলোমিটার সড়ক বাংলাদেশের ঘুমধুম হয়ে রামু বাইপাস পর্যন্ত ৬৯ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্ধে সড়ক নির্মানের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

২০০৫ সালের ফেব্র“য়ারী মাসে বাংলাদেশে সফররত মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিনিধি দলে নেতৃত্বদানকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ নিয়ন্ড উয়ন ও বাংলাদেশের তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বাংলাদেশ মিয়ানমার দু’দেশের সংযোগস্থ ঘুমধুমের জিরো পয়েন্টে ৪৩ কিলোমিটার মৈত্রী সড়কের ফলক উন্মোচন করে ব্রিজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর উক্ত প্রকল্পের ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি হয়ে যায়। দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ মৈত্রীক সড়কের কার্যক্রম বন্ধ রেখে দোহাজারি ঘুমধুম রেললাইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে চুল ছেড়া বিশেষন চলছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে রেললাইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বানিজ্যক ক্ষেত্রে সরকার, দেশ তথা জাতী আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে সরকার এ খাতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হত। সমাধান হতো দীর্ঘদিনের জিইয়ে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT