টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বাংলাদেশ-মায়ানমার ৫ দিনব্যাপী বৈঠক শেষ : রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সুষ্পষ্ট ঘোষণা নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৩
  • ১০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ  ডেঙ্ক  *** বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন ঘোষনা ছাড়াই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পররাষ্ট্র পর্যায়ের ৫ দিন ব্যাপি বৈঠক। বরাবরের ন্যায় শুধু আশ্বাসেই মেলেছে। ২০০৫ সালে সর্বশেষ এক পরিবারের দুইজন শরণার্থী প্রত্যবাসনের মধ্য দিয়ে সাড়ে আট বছর ধরে পুরোপুরি শরণার্থী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আর এ সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট অন্তত লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বেআইনী অনুপ্রবেশ ঘটেছে। উক্ত সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিজিবি প্রায় সাড়ে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশ কালে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশী পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত ১২ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত মিয়ানমার সফর করেন। উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দুই দিনের বৈঠক হয় মিয়ানমার রাজধানী নেপিড়োতে। উক্ত বৈঠকে দুইদেশের মধ্যকার ব্যবসা বাণিজ্য, সীমান্ত সমস্যা, মাদক ও মানব পাচার, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগসহ বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমার টাইমস অনলাইন মিডিয়ায় স্বাক্ষাৎকারে জানান। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পূর্বেকারের ন্যায় আশ্বাস দেন বলে জানান। সফরের এক পর্যায়ে দাঙ্গা কবলিত রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিটওয়ে অঞ্চলে মুসলিম ও রাখাইনদের মধ্যে সংগঠিত দাঙ্গা কবলিত এলাকা ও অভ্যন্তরীন রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় শিবিরি গুলো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরির্দশন করান।
অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু শিবির গুলোতে আশ্রয় নেওয়াদের পুনবাসন কার্যক্রম দেখানো হয় বলে কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং যুগ্ন সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন জানান। তিনি আরো জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের কথা জানালে, মিয়ানমার প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে আন্তরিকতা দেখালেও তাদের অভ্যন্তরীন দাঙ্গা নিরসন, উদ্বাস্তদের পুর্নবাসন, আইন শৃংখলা উন্নতি ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলে কৌশলে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন কিছু বলেনি। এতে পরিষ্কার যে বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া নিবন্ধিত প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু হবে তার কোন সুস্পষ্ট আলো দেখা যাচ্ছে না।
এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারাও তাদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসকে ঘিরে কক্সাবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন বা ইউএনএইচসিআর গৃহিত নানা কর্মসূচী বর্জন করে রোহিঙ্গারা। তারা কুতুপালং শরণার্থী শিবির ইনচার্জ ও সরকারের সহকারী সচিবের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি গোলাম আব্বাসের নিকট তাদের বিভিন্ন সমস্যা সম্বলিত দাবী দাওয়ার স্মারকলিপি পেশ করেন। ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রতিনিধির পর্যায় ক্রমে পরীক্ষা নিরীক্ষান্তে সমস্যাবলি সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পরও অধিকাংশ রোহিঙ্গা কর্মসূচী বর্জন করেন।
রোহিঙ্গাদের দাবী দাওয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত অসংখ্য রোহিঙ্গা ও তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়ে ইউএনএইচসিআর সহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কি চিন্তা ভাবনা তা স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে হবে। তাছাড়া ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন দাতা ও সাহায্য সংস্থা কর্তৃক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ এনজিওগুলো সঠিক ভাবে রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজে লাগাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেন।
কক্সাবাজার ভিত্তিক রোহিঙ্গা শরণার্থী অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের মানুষের জীবন মান ও মৌলিক অধিকার-অর্জন সমূহ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে অনতি বিলম্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করার দাবী জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT