টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি স্বাক্ষর আজ : অপরাধী হস্তান্তর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৫০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। আজ সোমবার \’অপরাধী বহিঃসমর্পণ\’ চুক্তি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আইনি জটিলতা থাকবে না। তবে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে যদি বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে সে ক্ষেত্রে অপরাধীকে ওই সময় ফেরত দেওয়া যাবে না_এমন বিষয়ও চুক্তিতে থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, “যে চুক্তিটি হচ্ছে এটিকে বাংলায় \’অপরাধী বহিঃসমর্পণ চুক্তি\’ নামে অভিহিত করা হবে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে ঢাকায় আসবেন। তাঁর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ কর্মকর্তার আসার কথা রয়েছে। আজ বিকেল ৩টায় রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ৪টা ৩৫ মিনিটে একই হোটেলের বলরুমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একই স্থানে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
গতকাল সকালে মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, সোমবার চুক্তিটি হবে। তিনি বলেন, \’চুক্তি হলে এ দেশেরই লাভ বেশি। এ দেশের যত লোক ভারতে আছে অপরাধী হিসেবে, তার তুলনায় ভারতের অনেক কম লোক বাংলাদেশে আছে। তাই বাংলাদেশের বেশি অপরাধী যদি আমরা আনতে পারি, তাতে আমাদেরই লাভ।\’
বিজিবি সূত্র জানায়, প্রতিবছরই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের অপরাধীদের নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু চুক্তি না থাকার কারণে অপরাধীকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল ভেবে সহজেই ভারতে চলে যেত। গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, \’এই চুক্তিটি দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল। চুক্তিটি হলে বাংলাদেশের জন্য খুবই ভালো হবে।\’ একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চুক্তি হওয়ার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। অপরাধী গ্রেপ্তারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য অনেক উপকার হবে।
কী থাকছে চুক্তিতে : বহিঃসমর্পণ চুক্তি-সংশ্লিষ্ট ঢাকার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, এ চুক্তির আওতায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এক দেশ অন্য দেশকে অপরাধীদের সমর্পণের দাবি জানাতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বন্দি বা সাজাপ্রাপ্ত হওয়া আবশ্যক নয়। তবে অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো আইনগত ব্যবস্থা থাকতে হবে।
জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককেই সরকার সমর্পণ করতে বাধ্য থাকবে না। এ ক্ষেত্রে একটি নূ্যনতম মাত্রা ঠিক করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হয়, যে অপরাধের কারণে সেই দেশের আইন অনুযায়ী তাকে অন্তত এক বছরের সাজা ভোগ করতে হতে পারে, সে ক্ষেত্রেই তাকে সমর্পণ করতে সরকার বাধ্য থাকবে।
এ ছাড়া সরকার যদি মনে করে যে কোনো ব্যক্তিকে সমর্পণের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে, সে ক্ষেত্রে সরকার সমর্পণ না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT