টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধের টাকা আমলা ও জনপ্রতিনিদের পকেটে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩
  • ১৫০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফঃ

টেকনাফ সীমান্তে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাও ত্রান পূণবাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক অতি দরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধ কর্মসংস্থানের কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যাপক হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রান ও পূনবাসন মন্ত্রনালয় ৩ কোটি ৯লাখ ৫৬ হাজার ৬৭০ টাকা বরাদ্ধ দেয়। এর মধ্যে নন ওয়েজ কষ্ট খাতে ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭০ টাকাসহ অন্যান্য খাতে বরাদ্ধ দেয়। ইউনিয়নওয়ারী হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পের অধীনে ৬০৩ কার্ড, হ্নীলা, ইউনিয়নে ৭টি প্রকল্পের জন্য ৬৭০টি কার্ড, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭টি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার কার্ড, সাবরাং ইউনিয়নের জন্য ৭টি প্রকল্পের জন্য ৯ শত কার্ড, বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পের জন্য ৬শত কার্ড ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনয়নের (বঙ্গবন্দু সড়ক) ১টি প্রকল্পের জন্য ৩ শত কার্ড বরাদ্ধ দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি উক্ত ৩৪টি প্রকল্পে অধীন সোয়া ৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়।

স্থানীয় এমপি প্রধান উপদেষ্টা, উপজেলা চেয়ারম্যান উপদেষ্টা ও সভাপতি হিসাবে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মমর্তাসহ সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বমোট ৩৩ জন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রথম সভা অনুষ্টিত হয়। ৪ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক ১৭৫ টাকা করে ৪০ দিন কাজ করবে। কর্মসংস্থান কর্মসূচীর (২য় পর্যায়) বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন ভিত্তিক ট্যাগ অফিসার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, হ্নীলা ইউনিয়নে মোঃ বখতিয়ার কামাল, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মন্নান, সাবরাং ইউনিয়নে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবির, সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম ও বাহারছড়া ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল লতিফ। নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাগন নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন কাজের অগ্রগতি দেখে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোর্ট দাখিল করার কথা থাকলেও তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন এবং কাজের অগ্রগতি না দেখে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাগন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের কাজ হয়েছে মর্মে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের বরাদ্ধের টাকা তাদের পকেট ভর্তি করে থাকেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ এ চার ইউনিয়নে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসৃজন প্রকল্পের জন্য ২০ টি প্রকল্পের বিপরীত ২০৭০ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন কাজ এবং স্বল্প সংখ্যক শ্র“মিক দিয়ে প্রকল্প কাজ করার নামে সংশ্লিষ্টরা শুধু মাত্র আখের গোছাচ্ছে। সাবেক এমপি ও টেকনাফ উপজেলা আঃ লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আলী হ্নীলা জনতা ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপককে বলেন, শ্র“মিকের ন্যায্য মুজুরীর টাকা নিজেরাই ব্যাংকে এসে টাকা উত্তোলন করবে। অন্যতায় কোন ব্যক্তিকে শ্র“মিকের টাকা দিলে পরবর্র্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন তিনি। কিন্তু এর পর ও তার কথায় চিড়া ভিজছেনা। অপরদিকে বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পি আইসি মেম্বার গিয়াস উদ্দীন, সাঈয়েদ হোসেন, হোসেন আহমদ ও সেন্টমার্টিনদ্বীপের মেম্বার আব্দুর রবসহ এ চার জন মেম্বারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, এরা স্থানীয় ্ এমপির প্রভাব দেখিয়ে প্রকল্পের সমুদয় অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধের টাকা আতœসাৎ করে ফেলে। এরা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে কাগজে কলমে ঠিক রাখলেও বাস্তবে এর সাথে কোন মিলামিল নেই। যাহা সরেজমিন পরিদর্শন করলে দুর্নীতির তলের বিড়াল হার হয়ে আসবে।  সরকারী পরিপত্র অনোযায়ী শ্রমিকেরা তাদের মজুরির টাকা স্ব-স্ব ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করার বিধান থাকলেও উক্ত টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পি,আই,সি তাদের টাকা তুলে নেয়। যার কারণে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার অতি দরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধের টাকা যে উদ্দেশে প্রদান করেছে। তাহা সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হয়ত এনিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নিবাচনে তার উপর বিরোধ প্রভাব পড়বে। টেকনাফ সীমান্ত এলাকা অধিকাংশ গরীব মেহনতি এবং অলস প্রকৃতির মানুষ এবং তারা কর্মের অভাবে অনেকে অর্ধাহারে ও অনাহারে দিনাতি পাত করছে। কাজেই সরকারের এই মহতি উদ্দ্যোগ থেকে চীরতরে বঞ্চিত  হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে দায়িত্বে নিয়োজিত ফিল্ড সুপার ভাইজার (পিজিপি) মোঃ শাহিন ৩৪টি প্রকল্পে সরেজমিন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষন না করে চোখ বন্ধ করে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে শ্রমিকের টাকা ভাগাভাগিকরে আতœসাৎ করেছে। যাহা প্রকল্প এলাকায় সচেতন মহলের মধ্যে এসব প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছে। পরিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে- ব্যাংক ম্যানেজারগন শ্রমিকের মজুরির টাকা শ্রমিকের হাতে দেওয়ার বিধান থাকলেও তারা এই নিয়ম মানচেন না। গত ২৯ মে অতি দরিদ্রর কর্মসংস্থান কর্মসূজনের প্রকল্পের ২য় কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT