টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বদলে গেছে রামুর বৌদ্ধ পল্লী। চলতি মাসে উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩
  • ১৯১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ramu-kaan
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:-বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার পর সেই ধ্বংস স্তুপের অশুভ চিহ্নও এখন আর নেই। ক্ষতিগ্রস্থ বিহারের ধ্বংস্তুপের মাঝেই তৈরী করা হয়েছে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে দৃষ্ঠি নন্দন বৌদ্ধ বিহার। তাই এখন নতুন রূপে সেজেছে রামু। সেনাবাহিনী আন্তরিকতার সাথে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বিহার নির্মানের কাজ। বিহার নির্মান এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে পুণর্বাসনের বিষয় নিয়ে কম-বেশী সবাই সন্তুষ্ঠ রামু বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এ মাসে প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকালে এসব বিহার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।রামুর উত্তম বড়–য়া নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে পবিত্র কোরান শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উগ্র ধর্মান্ধগৌষ্ঠী রামুর বারটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারও ২৬টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় অরো ছয়টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। পরদিন উখিয়া-টেকনাফে আরো কয়েকটি বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে একই ঘটনা ঘটে। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্থ বিহার পূণনির্মানের কাজ শুরু করে।  রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, বিহার নির্মাণ নিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কোনো আন্তরিকতার অভাব নেই। তাঁর নির্দেশে সেনাবাহিনী খুব সুন্দর করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিহারগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।ওই কালো রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহারে দূর্বৃত্তরা আগুণ লাগিয়ে দিলেও ‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে’র ১শ ফুট দীর্ঘ বৌদ্ধমূর্তির বড় কোন ক্ষতিসাধন করতে পারেনি। তবে পেছনের ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় লাখ খানেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে তৈরী করা হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে দৃষ্ঠি নন্দন দো’তলা পাকা বিহার। শুধু তাই নয়, আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিহারের আঙ্গিনাকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে ।স  এতে বৌদ্ধরা খুবই খুশি । প্রধানমন্ত্রীর এ মহানুভবতার প্রতিদান দিতে  অপেক্ষায় রয়েছেন রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়। উপরের কথাগুলো বললেন‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে’র পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ূয়া।
গতকাল সকালে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার ঘুরে দেখা যায়,এখানেও ওঠেছে তিনতলা সুরম্য ভবন। জানা গেল,ক্ষতিগ্রস্থ ১২টি বিহারের মধ্যে সবচে বেশী টাকা ব্যয় করা হচ্ছে এই বিহারে । উদ্বোধনের সময় প্রধান মন্ত্রী এখানে অবশ্যই আসবেন।তাই স্থানীয় বৌদ্ধরা খুব খুশি। বর্তমানে এ বিহারের প্রায় ৯৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দেওয়ালে প্রলেপ (প্লাষ্টার) লাগানোর কাজ। প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। আর শ্রমিকদের তদারকি করছেন সেনা সদস্যরা।
এছাড়াও শ্রীকুল গ্রামের লাল চিং,সাদা চিং,অপর্ণা চরণ চিং এবং মৈত্রী বিহারের কাজও প্রায় শেষের পথে। সাদা চিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে । লালচিং-এর  বাইরের রঙের কাজও শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভেতরটা রাঙানোর কাজ। পাশের মৈত্রী বিহার এবং  অপর্ণাচরণ চিংসহ  একইস্থানে পাশাপাশি চারটি বিহারে এই কম্পাউনটিও অসাধারণ লাগছে। সেই কাল রাতের ধ্বংসযজ্ঞের অশুভ চিহ্নও এখানে আর নেই। মাত্র ৯ মাসেই সেনাবাহিনী সেই ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন ও সুরম্য অট্টালিকা।
রামু মৈত্রী বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়–য়া জানান, রামু সহিংসতার পর রাত-দিন পরিশ্রম করে সেনা বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ক্ষতিগ্রস্থ বিহারগুলোর নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হামলার ঘটনার সঠিক বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকা থেকেই যায়।
রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ঐক্য ও কল্যাণ পরিষদ ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়–য়া জানালেন, বিহার নির্মাণ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায় সন্তুষ্ট। কিন্তু ঘটনায় জড়িতরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদেরকে গ্রেফতার না করায় বৌদ্ধদের মাঝে আস্থার সংকট কাটছেনা।
সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি’র (প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল জুলফিকার রহমান জানান, ১২টি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বৌদ্ধ স্থাপত্য অনুসরণ করে বিহারগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্মিত বিহারের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি জানান,  এ মাসে প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকালে নব নির্মিত এসব বিহার উদ্বোধন করার কথা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT