টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বঙ্গোপসাগর ও নদীতে মাছ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মাছ ধরতে ব্যস্ত জেলেরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৮৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :::

আর মাত্র ক’দিন পর বঙ্গোপসাগরসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ২২ দিনের জন্য। তাই শেষ মুহুর্তে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে ব্যস্ত কক্সবাজারের জেলেরা। যেন মাছধরার জন্য ট্রলারগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাগরে। কক্সবাজার শহর সংলগ্ন সমুদ্র সৈকত থেকে সাগরে মাছ ধরার মনোরম দৃশ্য ও ট্রলারের সারি দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সময়েই আগেই সমুদ্রে মাছ ধরা শেষ করতে চান কক্সবাজারের জেলে-বহদ্দাররা। কারণ আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এই সময়ে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়বে নদী মোহনায় এসে। এরপরই চলে যাবে গভীর সাগরে। বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধির জন্য সরকার গত ৬ বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে আসছে। এ বছরও এর ব্যত্যয় ঘটছে না। তাই অনুকূল আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে শেষ মুহুর্তে মাছ ধরতে ব্যস্ত জেলেরা।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৫ হাজার এবং সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। যার প্রায় ৯৫ ভাগই এখন সাগরে মাছ ধরতে ব্যস্ত। এরমধ্যে বিহিন্দি জালের বোট সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি এবং ইলিশ জালের বোট গভীর সাগরে মাছ ধরছে। আর এসব ট্রলারের প্রতিটিতে রয়েছে ১৬ থেকে ২২ জন করে জেলে।
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, বর্তমানে অনুকূল আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে পুরোদমে মাছ শিকার চলছে। কক্সবাজার জেলার লক্ষাধিক জেলেসহ সারাদেশের ৫ লক্ষাধিক জেলে এখন সাগরে মাছ ধরতে ব্যস্ত।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, উপকূলবর্তী সমুদ্রে মাছ ধরার বিহিন্দি জাল বা ‘খুঁড়ি জালের’ ট্রলারগুলো দিনে গিয়ে দিনেই মাছ ধরে ফিরে আসছে। মূলত এসব বোটগুলো সাগর থেকে এক প্রকার চিংড়ি ধরে। যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘করত্যা ইছা’ বলা হয়। সেসাথে এই ট্রলারের জালে আরো ধরা পড়ে রূপচান্দা, ছুরি, ফাইস্যা, মাইট্টা, গরুমাছ, লইট্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আবার এক সপ্তাহ বা পক্ষকালের রসদ নিয়ে সাগরে যাওয়া ট্রলারগুলো ইলিশসহ অন্যান্য বড় প্রজাতির মাছগুলো ধরে থাকে। যা বাজারে দামে বিক্রি হয়।
কক্সবাজার শহরের ফিশারীঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জানান, বঙ্গোপসাগরে এখন পুরোদমে মাছ শিকার চলছে। এ কারণে বাজারেও সুলভ মূল্যে নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র শহরের মৎস্য ফিশারীঘাটে প্রতিদিন মাছবোঝাই ট্রলার ভীড় করছে। এতে মৎস্য ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের দিন কাটছে ব্যস্ততার সাথে।
কক্সবাজার দরিয়ানগর এলাকার ট্রলার মালিক নজির আলম জানান, প্রতিদিন ভোররাত থেকে বিহিন্দি জালের বোট এবং ককশিটের তৈরী বোটগুলো সাগরে গিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। এসব বোট সকালে গিয়ে বিকালেই ঘাটে ফিরে আসে। এসব বোটে ধরা পড়া মাছের মধ্যে লইট্টা মাছ বেশি হলেও পোয়া, বাইলাসহ আরো কিছু প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।
গতকাল বুধবার বিকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে অসংখ্য ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে দেখা গেছে। দূর থেকে এসব ট্রলার দেখতে পিঁপড়ার মত মনে হলেও সাগরজুড়ে ট্রলারের মাছধরার মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে। আবার রাতের বেলায় ট্রলারের আলোতে সাগরে সৃষ্টি হচ্ছে এক অন্যরকম আবহ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT