টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের পাওয়া ইলিশের স্বাদ বঞ্চিত টেকনাফবাসী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৩
  • ১৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

dfgdfgdftrter copyনুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ:::বঙ্গোপসাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। অথচ টেকনাফ বাজারে ইলিশের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গাড়ি বোঝাই চোরাইপথে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপো করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। ফলে ইলিশের স্বাদ পাচ্ছে না টেকনাফবাসী।  ভরা মৌসুমেও টেকনাফবাসীর ভাগ্যে জুটছে না রূপালী ইলিশ। টেকনাফসহ উপকূলের হাট বাজারে কিছু ইলিশের দেখা মিললেও তার দাম আকাশছোঁয়া। বিভিন্ন মাছ ব্যাবসায়ী এবং আড়ৎদাররের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়- ইলিশ মাছ একটি মাছপাচারকারী সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাচ্ছে এবং সিন্ডিকেট চক্রটি নদী থেকে ইলিশ এনে বরফজাত করে রেখে দিচ্ছে টেকনাফ  উপজেলার বিভিন্ন হিমায়িত মাছ কোম্পানরির কোল্ড স্টোজরে। রমজানকে সামনে রেখে এই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রটি এসব ইলিশ কোল্ড স্টোজরে জমা করছে। পরে চিংড়ি ও মলাঢেলা মাছের গাড়িতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, মলাঢেলা মাছের গাড়িতে চোরাই পথে পাচার বন্ধ হলে টেকনাফে ইলিশের দাম কমে আসবে। বিশেষ অনুসন্ধানীতে জানা যায়, সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়লেও মহাজন আর দাদনদাররের কারণে এসব মাছ বাজার পর্যন্ত আসতে পারে না।একটি সিন্ডিকেট চক্রের ফাঁদে মাছ শিকারের পর তা নদী থেকেই প্রক্রিয়াজাতকরনের  মাধ্যমে দূরদূরান্তে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সমুদ্র থেকে যেসব  ট্রলারে মাছ নিয়ে শাহপরীরদ্বীপ, নয়াপাড়া, টেকনাফ ও সী-বীচ এলাকার ঘাটে আসে তা নামার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের বাজারে ঢোকার আগইে ট্রাক যোগে টেকনাফ  থেকে চলে যাচ্ছে । মাঝে মধ্যে দুই একটি চালান আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও অদৃশ্য কারণে পাচারকারীরা পার পেয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, টেকনাফ বাজারের চেয়ে ঢাকার বাজারে ইলিশের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইলিশ ধরলেও সে ইলিশ ভাগ্যে জোটেনা উপকূলসহ টেকনাফবাসীর ভাগ্যে। চলতি র্অথ বছরে ইলিশ কালোবাজারির হওয়ার কারণে এ রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে এ অঞ্চলের ইলিশের দাম বেশি। ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও টেকনাফ থেকে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ইলিশ ঢাকায় পাচার হচ্ছে। আবার অনেকেই মাছ ক্রয় করে কোল্ড স্টোরজে মজুদ করে রাখছেন। তাই স্থানীয় বাজারে মাছের দাম অনেক বেশি। তিনি আরও জানান, রপ্তানি বন্ধের পর কয়েকদিন মণ প্রতি যে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে। এখন সে ইলিশ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে টেকনাফ বাজারের কয়েকটি মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের বাজারে ইলিশের দাম চড়া। খুচরা বাজারে  কয়েক দিন আগেও মাঝারি সাইজের যে মাছ কেজি প্রতি ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকায় বিক্রি হত। সেই ইলিশ এখন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪শ’ থেকে ১৮শ’ টাকায়। ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা কেজি দরে। তবে, কেউ কেউ জানিয়েছেন, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ইলিশের দাম আরও একবার বেড়েছে। সন্ধ্যা বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা আলাউদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে আপে করে জানান, আগে টেকনাফ বাজারগুলোতে ইলিশ মাছ মাইকিং করে বিক্রি করা হতো। যা পাওয়া যাচ্ছে তা আবার মধ্যবিত্তদের ক্রয় মতার বাইরে। কেজি নিচে যেসব ইলিশ তা র্বতমানে বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা দরে।এছাড়া এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকা র্পযন্ত। ইলিশ রপ্তানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। তিনি মনে করেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে । যাতে চোরাইভাবে ইলিশ পাচার বন্ধ হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT