টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ফিরে দেখা-২০১০-টেকনাফে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসে নিহতদের ৩য় বার্ষিকী আজ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Teknaf_pic_14-06-13হেলাল উদ্দিন,টেকনাফ॥সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে স্মরণকালের ভয়াবহ বর্ষণ, ভূ-কম্পন, পাহাড় ধ্বস ও বন্যার পানিতে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী আজ। অথচ এখনো সংশ্লিষ্ট এলাকায় থেমে নেই পাহাড় কাটার মহোৎসব এবং বহাল তবিয়তে রয়েছে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ করুণ ট্র্যাজেডির চিত্র ধারণ করে পাহাড়ের তলদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করার জন্য কোন ধরনের কর্মসূচী পালন করা হচেছ না। এছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ কোটি কোটি টাকার সম্পদ রাস্তাঘাট, বেড়ী বাঁধ, চিংড়ী ঘের, বসতবাড়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা পূণঃনির্মাণ করে জীবন চলা শুরু করলেও নিহত পরিবার সমূহ শোকের ছায়া থেকে আড়াল হতে পারেনি। এ উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়নি।
গত ২০১০সালের ১৪ জুন থেকে সকাল থেকে রাতভর টানা বর্ষণ স্থায়ী হয়ে ১৫ জুন ভোর রাতের দিকে ভূ-কম্পন হলে বৃষ্টিপাতের গড় প্রবল আকার ধারণ করে। অভিজ্ঞ মহল এ বৃষ্টিপাতকে স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টিপাত বলে আখ্যায়িত করেছে। উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও টেকনাফ সদরে পাহাড় ধ্বসে পাদদেশে বসবাসরত জনতার বসত-বাড়ীর উপর পাহাড় ধ্বসে পড়লে ঘুমিয়ে থাকা বিভিন্ন পরিবারের  অসংখ্য লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়ে।  উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ, ও স্থানীয় লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে মৃত উদ্ধার করে। তারা হল টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়ার ফকিরামুরা ও ওরুমজুরা নামক এলাকার ৩ পরিবারের মো: হাসেমের মেয়ে কুলসুমা আকতার (৭), নুর কলিম (৩), আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩০), পুত্র আব্দুর রাজ্জাক (১১), মেয়ে শিউলি আক্তার (৮), শামীমা আক্তার (৫), মোহাম্মদ শফির স্ত্রী বেলুজা খাতুন (৩০), ও শিশু পুত্র পুতিন্ন্যা (২), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া (মুরা পাড়া) এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩৫), লায়লা বেগম (২৮), নাছিমা আক্তার (৫), ১০ মাসের শিশু পুত্র নুরুল আবছার, রঙ্গিখালী কোনার পাড়া এলাকার সোলতান আহমদের পুত্র প্রতিবন্ধী নুরুন্নবী (২৫), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা, লম্বাবিল, তুলাতলী, আমতলীর সাবেক ইউপি মেম্বার কর্বি আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী নাজমা (৩৫), ২ সন্তান আব্দুল্লাহ ফায়সাল (১৫), ইমতিয়াজ হাসান (২), দিলীপ বড়–য়া (৪২), স্ত্রী সেবিকা বড়–য়া (৩২), মুজিবুর রহমানের ২ সন্তান শাবনুর (৩), সাঈদুর রহমান (১), হোয়াইক্যং এর নজির আহমদের বাড়ীতে বেড়াতে আসা সিলেট বামই হবিগঞ্জ এলাকার মুজিবুল হক (৪২), আব্দুল জব্বার প্রকাশ কালূ খলিফা (৮০), তার পুত্র বধু দেলোয়ারা (২৬), নাতী ইব্রাহীম(৩), কাটাখালীর কবির আহমদের পুত্র মো: আলম (৪), কেরুনতলী এলাকার ছৈয়দ আলমের পুত্র (১৪), সরোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম (৪০), পুত্র সন্তান গোলাম আকবর (১০), আলী আকবর (১২), কন্যা মর্জিনা (১২), লম্বাবিল এলাকার রশিদ আহমদের স্ত্রী সাবেকুন্নাহার (২৫), কন্যা ইসমত আরা (৩), ওমর মিয়া (৪০)প্রমুখ নিহত হয়। ২০১২ সালের ১৫জুন আজ এ ট্র্যাজেডির ৩য় বার্ষিকী পূর্ণ হচেছ। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের স্বরণ ও আতœীয়-স্বজনদের স্বান্তনা দেয়ার কেউ নেই । এ কারণে নিহতের পরিবারে চাপা ক্ষোভের সুর বাজছে। এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুচ বলেন, হৃদয় বিদারক এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। ঐ ঘটনায় নিহতদের আতœার শান্তি কামনা করছি এবং তাদের পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচিছ। আগামীতে এ জাতীয় দূর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করতে ইতিমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি।
###########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT