টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ফান্দে পড়ে ইমন-জিনাতের বিয়ে মুক্তি পাননি ইমন একদিনের রিমান্ড

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ২২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান…..বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রেমিকা ধর্ষণ মামলায় আটক জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমন ও প্রেমিকা জিনাত কবিরের পারস্পরিক সম্পর্ক অবশেষে বিয়েতে পরিণত হয়। শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তা শেষে গতকাল সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে রাজধানীর রমনা থানায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের স্বজন ও পুলিশ এসময় উপস্থিতি ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিষ্টি বিতরণ হয়। ফান্দে পড়ে বগা কান্দার মত অনেকটা ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে অনুষ্ঠিত উক্ত বিয়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন জিনাত কবীর নিজেই। কিন্তু দূর্ভাগ্য এই নববধূর, নিজের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার শেষে আদালত প্রাঙ্গনে দিনভর নতুন স্বামীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত রমনা থানা পুলিশের মাদক সংক্রান্ত দায়েরকৃত অপর এক মামলায় আদালত তাকে কারাগারে রেখেই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। ফলে কেঁচু কুঁড়তে গিয়ে সাপের সন্ধান মেলা এই নবদম্পতির বিয়ে হল, কিন্তু আনুষ্ঠানিক বাসর হল না। বেরসিক পুলিশের আইনের ফান্দে পড়েই স্বামী শওকত আলী ইমন এখনো আটক রয়েছেন জেলখানায়। তবে প্রেমিকার ইতিহাসে ক্ষমা ও ভালবাসার দৃষ্টান্ত রাখা জিনাত কবির এখন বসে নেই। স্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বামী শওকত আলী ইমন কে ছাড়িয়ে আনতে। কিন্তু কি আর হবে! নারী নির্যাতন মামলা প্রত্যাহার হলেও শওকত আলী ইমনতো বর্তমানে মাদক আইনে পুলিশের রুজুকৃত মামলার আসামি।

জিনাত কবির জানান, এমনটাই হবে ভাবিনি। পুলিশকে অভিযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত একদিক দিয়ে লাভ হলেও অপরদিকে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহ¯পতিবার বিকেলে নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত দু’টি পৃথক মামলায় আদালতে হাজির করা হয় ইমনকে। নারী নির্যাতন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী শরীফুল ইসলাম ইমনকে ৫ দিন রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে আবেদন করেন প্রথমে।

ইমনের পক্ষে এই মামলার শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গাজী শাহ আলম ও মাহবুব হোসেন জয়। আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, “মামলার বাদী জিনাত কবির ও আসামি ইমনের বিয়ে আগেই হয়েছিল। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি না হওয়ায় জিনাত ক্ষুব্ধ হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন, তার জামিনে আপত্তি নেই।”

আসামিকে এ সময় রিমান্ডে নেওয়ার বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান আইনজীবীদ্বয়। বিয়ের কাবিননামা ও বিবাহের সমর্থনে করা হলফনামাও আদালতে দাখিল করেন তারা। এ সময় জিনাত কবিরও আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি আদালতে বলেন, “আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই মামলাটি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কম্প্রোমাইজ করে ফেলেছি। তার জামিন হলে আমার কোনো আপত্তি নাই।

জিনাতের আইনজীবী নুর ইসলাম খানও ‘ইমনের জামিনে আপত্তি নাই’ মর্মে আদালতকে জানান। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম ইমনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে দু’দিনের মধ্যে জেলগেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে পুলিশকে অনুমতি দেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পরই মাদকের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট এমএ সালামের আদালতে নেওয়া হয় ইমনকে। সেখানে মাদকের মামলায় ইমনকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ওই মামলায় একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১টায় ধর্ষণের অভিযোগে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন ইমনের মেয়ে বন্ধু জিনাত কবির। জিনাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানার ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিজের বাসা থেকে ইমনকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ও ৬ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ইমনের নামে নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

জিনাত বলেন “যেহেতু সে ভুল বুঝতে পেরেছে, আমাকে বিয়ে করে আমার সম্মান দিয়েছে তাই আমি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’ আমার উচিত স্বামী হিসেবে এখন ইমনকে ‘সেভ’ করা।’

কাবিননামায় ইমনের জন্মতারিখ দেওয়া হয়েছে ৩ মার্চ, ১৯৭১ এবং জিনাতের জন্মতারিখ দেয়া হয়েছে ২১ মে, ১৯৮৭।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT