টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রশাসনের মনিটরিং ও নজরদারীর অভাব, টেকনাফে পর্যটক ও ভোক্তা সাধারণ প্রতারণা এবং হয়রানীর শিকার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ/পণ্যে ভেজাল, অতিরিক্ত মূল্য, প্রতারণা, ওজনে কারচুপি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, প্রশাসনের বাজার মণিটরিং এর অভাব ইত্যাদি কারণে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হাট-বাজার গুলোতে পর্যটক ও ভোক্তা সাধারণের উপর চলছে অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটকাটা বাণিজ্য । এতে পর্যটক ও ভোক্তা সাধারণ প্রতিনিয়ত প্রতারণা এবং হয়রানীর শিকার হচ্ছেন । জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে এসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে টেকনাফ উপজেলা । বিষয়টি বর্তমানে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে সরকারী চাকুরীজীবি, শ্রমজীবি, পর্যটকসহ সকলের মূখে মূখে সমালোচিত হচ্ছে । অথচ এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার । তবে গত ২৪ জানুয়ারী অনুষ্টিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সামছুল ইসলাম মেহেদী বলেছেন- বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ, এব্যাপারে প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে । টেকনাফ সীমান্ত এলাকার হাট-বাজারগুলো অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে । অতিরিক্ত মূল্যে বাজার নিলাম, অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে বাজার পরিচালনা, পেশীশক্তির প্রভাব, অতিরিক্ত হাসিল আদায়, পণ্য আনা-নেয়ার পথে হাসিল আদায়, ব্যবসায়ীদের উপর রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, পণ্য পরিবহণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচার, পণ্য গোদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, হাট-বাজারগুলোতে মাস্তানদের দৌরাতœ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বাজার স্থাপন, পৌর এলাকাসহ সর্বত্র ভাড়া বাসাসমূহে রোহিঙ্গাদের আধিক্য, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া ইত্যাদি অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাট-বাজার গুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের আরকান রাজ্যের প্রায় ১৪ লাখ বাসিন্দা বাংলাদেশী পণ্যের উপর নির্ভরশীল । বিভিন্ন সুযোগে সীমান্তের ২৮ টি পয়েন্ট দিয়ে ৫৭ আইটেমের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাওয়ায় এর খেসারত দিতে হচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের পর্যটক তথা সাধারণ ভোক্তা ও বাসিন্দাদের । ইয়াবা ব্যবসার সুবাধে কালো টাকার বদৌলতে এবং চোরাকারবারীদের কাছে ইচ্ছামত দামে পণ্য বিক্রি করতে পারায় ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ও পর্যটকদের তেমন কদর করেননা । তাছাড়া দোকান গুলোতে পণ্যমূল্যের তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা । নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার নিয়ম থাকলেও তা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে । কালে-ভদ্রে প্রশাসন পৌর এলাকার কয়েকটি দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দায় সারছেন । ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও পর্যটন শহর টেকনাফের হাট-বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে । এতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে পর্যটকসহ ভোক্তা সাধারণ । ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং এর যথাযথ ও নিয়মিত প্রয়োগ না থাকায় প্রতারণার শিকার পর্যটকসহ ভোক্তা সাধারণ প্রশাসনের উপর চরমভাবে অসন্তষ্ট । তাঁদের মতে প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষ ও ভোক্তাদের উপর স্টিমরোলার চালানো অব্যাহত রেখেছেন । আবার মোবাইল কোর্ট চালানোর পর পরই পণ্যের দাম বেড়ে যায় । তাঁদের ভাষায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নাকি এব্যবস্থা করা হয় । বর্তমানে পর্যটন মৌসূম চলছে । দেশী-বিদেশী পর্যটক, ভিআইপি, ভিভিআইপি, শিক্ষার্থী পর্যটন মৌসূম ছাড়াও সারা বছর টেকনাফ এবং দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে আসেন । তাঁরা টেকনাফে যেকোন পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজার দর নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একজন ইন্সপেক্টর কাগজে-কলমে পোষ্টিং দেয়া আছে । খাদ্য অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত পদে যুগ যুগ ধরে কেউ নেই । পুরো কক্্রবাজার জেলায় এপদে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন । বাজার নিয়ন্ত্রণহীনতার ব্যাপার আরও আছে । টেকনাফ উপজেলার হাট-বাজারগুলো নিয়মমাফিক প্রতি বছর নিলাম হয় । কিন্ত কোনটিতেই প্রকৃত ইজারাদার কাজ করেননা । চড়া দামে একাধিক হাত বদল হয়ে যায় ।এভাবে বহুমূখী চাপগুলো গিয়ে পড়ে এবং হয়রানী ও প্রতারণার শিকার হয়ে নীরবে সহ্য করে মাশুল দিতে হচ্ছে পর্যটকসহ সাধারণ ভোক্তাদের । ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT