টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় কক্সবাজারবাসি : পর্যটন শিল্প বান্ধব সব উন্নয়ন কর্মকান্ডে ধীরগতি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে,
ক্ষমতার মেয়াদ শেষের আগেই প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত কক্সবাজারের সব উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাস্তবায়ন চায় কক্সবাজারবাসি। বিশেষ করে দোহাজারি-গুমধুম রেল লাইন, আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দর স্থাপন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন ও কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরীকৃত জনবলের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির আশ্বাসসহ খোদ প্রধানমন্ত্রী যেসব পর্যটন বান্ধব উন্নয়ন কর্মকান্ডের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তার সময়মত বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছেন এখন জেলাবাসি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল জেলা আওয়ামীলীগ, অঙ্গ এবং বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী বলছেন, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলোতে সব বিএনপি-জামায়াতের এমপি হওয়ার কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। উপযুক্ত তদবিরের অভাব, স্থানীয় আ’লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মেধাহীন রাজনীতিই এর জন্য দায়ী। কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই আন্তরিক কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ সামগ্রিক কল্যাণকর সমস্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে জনসাধারণকে সেবা দিতে। কিন্তু দূর্ভাগ্য রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কক্সবাজারকে এগিয়ে নিতে স্থানীয়ভাবে মেধাবি ও গ্রহণযোগ্য দলীয় নেতার অভাব রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগন মনে করছেন, এই অবস্থায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গৃহিত সব পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মনিটরিং প্রয়োজন। কেননা, তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় কেবল পারবে, কক্সবাজার ও পর্যটনের বৃহৎ স্বার্থ সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকা ফাইলগুলো মূল্যায়ন করে সঠিক সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবতা দেখাতে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মহাজোট সরকারের হাতে থাকা সামনের এই সময়গুলোতে কক্সবাজারে অন্তত প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলো শেষ করতে না পারলে আগামি জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় জনসাধারণ এর চরম প্রতিশোধ নেবে। এতে করে বিএনপি জামায়াতের দূর্গ হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজার জেলায় আওয়ামীলীগের প্রাপ্ত একমাত্র আসনটিও হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। দলীয় সুত্র আশা করছে, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত কক্সবাজারের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো শেষ করতে পারলে আগামি নির্বাচনে তারা জেলার চার সংসদীয় আসনের ৩টিতেই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরিকৃত জনবলের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির একটি ফাইল দীর্ঘদিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আটকে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমাদের দেশের অন্যান্য স্থানে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ হাজার ৯শ ৯৫ জন মিলে ১ জন পুলিশ পেলেও মৌসুমে কক্সবাজারে প্রতি ২০ হাজার জনগণের বিপরীতে ১ জন পুলিশ পায় কিনা সন্দেহ রয়েছে। তাই ঠাঁইহীন পর্যটক আর কক্সবাজারের মূল জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছে না জেলা পুলিশ। একারণে কক্সবাজার জেলার পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমানে মঞ্জুরিকৃত জনবল দ্বারা এতবড় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন, অপরাধ দমন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলা, ভিভিআইপি-ভিআইপিদের নিরাপত্তাসহ জেলাবাসির কাক্সিক্ষত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, জেলা পুলিশ ও পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনেক চিঠি চালাচালির পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের অসহযোগিতার কারণে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরীকৃত জনবলের যে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন ও অর্থমন্ত্রণালয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টার অভাবে  জনগুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগটির সুফল পাচ্ছেন না কক্সবাজারবাসিসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
এজন্য অবশ্যই কক্সবাজারবাসি জরুরিভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উচ্চ মহলের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, সচেতন মহলের আশংকা, অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হবে না। এতে করে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলে কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন, অপরাধ দমন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আধুনিক-মানসম্মত পুলিশি সেবা প্রদান, যথাযথ ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, ভিভিআইপি ও ভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ উপযুক্ত পুলিশি সেবা পাবেনা সাধারণ জনগণ।
সুত্র মতে,  রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার জেলায় দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের জনবল সংকট খুবই প্রকট। আমাদের দেশের অন্যান্য স্থানে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ হাজার ৯শ ৯৫ জন মিলে ১ জন পুলিশ পেলেও মৌসুমে কক্সবাজারে প্রতি ২০ হাজার জনগণের বিপরীতে ১ জন পুলিশ পায় কিনা সন্দেহ রয়েছে। ফলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের মারাত্মক ক্ষতি ছাড়া স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বাড়ছে। একারণে নিরাপত্তার অজুহাতে বিদেশি পর্যটকও কক্সবাজারে দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার চেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে জনবল অতি নগন্য হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
কক্সবাজারের সাবেক পুলিশ সুপার সেলিম মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কক্সবাজার থাকাকালে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমান মঞ্জুরিকৃত জনবলের অতিরিক্ত বিভিন্ন পদবীর জনবলের পদ সৃষ্টির লক্ষে বর্তমান জনবল এবং প্রস্তাবিত জনবলের অর্গ্রানোগ্রাম প্রেরণ করেছিলাম। ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে মোঃ আতিকুল ইসলাম, বিপিএম-বার, পিপিএম, এআইজি (আরএন্ডএম) মহোদয় বিষয়টি বিবেচনা করে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ছিলেন। এরপর বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে আমি জানিনা।
কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া জানিয়েছেন, ব্যাপক জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় কারণে অত্র জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার ও অতিরিক্ত পদ সৃজনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক। এ বিষয়ে এখন আমাদের করণীয় কিছু নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালেয়র পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে অন্তত কক্সবাজারের পর্যটনের স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শুধু কক্সবাজার নয়, উপকারটি হত দেশের জন্য। আশা করা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর জরুরিভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের লক্ষে প্রয়োজনীয় পদবির পদগুলো সৃজন করবেন।
এদিকে, কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের জন্য অপার সম্ভাবনা দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত শুধু নয় মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিনকে ঘিরে রেখেছে সুবিশাল সাগরের ফের্নিল ঢেউ। যা পৃথিবীর কোন দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এ রকম অনাবিল সাগর বেষ্টিত জলধারা চাইলেও কেউ কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করতে পারবে না। এছাড়া দু’ধারে পাহাড় আর সবুজের সমাবেশ কক্সবাজারকে করেছে অনন্য রূপসী। রয়েছে বিশাল পাহাড়ের মাঝখানে ঝর্ণার জলরাশি। যা ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের সহসা আকৃষ্ট করে। তাছাড়া মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, মারমা, গারো সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির মিলন বাঁধন ও তাদের সাহিত্য সংস্কৃতির ঐতিহ্য লালন-পালন ও প্রদর্শন সবাইকে অভিভূত করতে পারে অমনি। কক্সবাজার জেলার প্রত্যেক পথ যেতেই চোখে পড়বে খাল-নদী আর ধু ধু বিলে সাদা সোনা লবণ এবং ধান ফলের সবুজ পাতার মর্মর শব্দ যেকোন সুন্দর মানুষের মনকে আলোড়িত করে। কিন্তু এ অপার সম্ভাবনাময় জেলা কক্সবাজার পড়ে আছে যেনতেনভাবে। যেটিকে সরকারের পক্ষ থেকে একটু নজর বাড়ালে বাংলাদেশের পর্যটন  শিল্পে এই কক্সবাজার হবে বিশ্বের জন্য গ্রীন মডেল, এমনই বলেছে পর্যটন বিশ্লেষকরা। তবে শোনা যায়, বর্তমান সরকার কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন থেকে হলেও এখনো পর্যন্ত তার কার্যকারিতায় ধীরগতি অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর্যটন এলাকাকে ৪টি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বছরেই এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যটন কর্পোরেশনের সহায়তায় সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সুত্র জানায়,  দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মাস্টার প্ল্যানের নক্শা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ৪ ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। যেখানে প্রতিটি ভাগে পৃথক বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে হোটেল শৈবাল থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্টে হচ্ছে এক্সক্লুসিভ জোন, কলাতলি পয়েন্টে হবে স্পোর্টস জোন, লাবণী পয়েন্টে বিনোদন জোন এবং কলাতলি ও লাবণী পয়েন্টের মাঝে থাকবে সুইমিং জোন। এ জোনে সৈকতের অগভীর জলে সুইমিং নেট লাগানা হবে। বিভিন্ন জোনে প্যারাসাইক্লিং, বীচ মোট সাইকেল, হটএয়ার বেলুনসহ বিনোদনের সব উপকরণ থাকবে। কক্সবাজার সৈকতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ পর্যটন হবে ‘এক্সক্লুসিভ জোন’। এতে নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া এ প্রকল্পের বাইরে কমার্শিয়াল জোন, শিক্ষা জোন, ক্রীড়া জোন ও মেরিন ড্রাইভ জোন পৃথক করা হবে। শিক্ষা জোনে সমুদ্র ও মৎস্য সম্পদ নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে। ক্রীড়া জোনে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, যেখানে ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে সবধরনের খেলাধুলার সুবিধা থাকবে। আর যোগাযোগের জন্য বিমান, রেল ও সড়ক তিন ধরনের যোগাযোগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সৈকতে লাইটিং, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং জানুয়ারি থেকে কক্সবাজারের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদেশি পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হবে এক্সক্লুসিভ জোন। আর স্পোর্টস জোনের জন্য ব্যয় করা হবে ৮২ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই সমুদ্র সৈকতের পর্যটন এলাকাকে ৪টি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। প্রকল্পটি পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সাইনবোর্ড লাগানোসহ ৪টি জোনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মাকসুদুল হাসান খান বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন সুবিধা বাড়াতে গত মাসে পর্যটনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সৈকত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে সৈকতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কাজের বাস্তবায়ন করবে।
কক্সবাজারে একটি বিশেষ সফরে এসে পর্যটন মন্ত্রী কর্ণেল (অব.) ফারুখ খান এমপি বলেন, কক্সবাজারের চেহারা পাল্টিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে নিয়ে যে সমস্ত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, শুধু তাই নয় ইতোমধ্যে জাপানি একটি কোম্পানি কক্সবাজারকে আধুনিকায়ন করতে ৫০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার প্রস্তাব রেখেছে। সচেতন মহল বলছেন, বর্তমান সরকার কক্সবাজারের প্রতি আন্তরিক এটি বুঝা যায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে। কিন্তু এখনো এর কার্যকারিতার দ্বার উন্মোচিত না হওয়ায় শংকা বাড়ছে তাদের। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল জানান, কক্সবাজার যে অপার সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেটিকে ব্যবহার করতে জানলে দেশি পর্যটক নয় বিদেশি পর্যটক শুধু বাংলাদেশে আসবে কক্সবাজারের জন্য। আর সরকার গুণবে টাকা নয়, গুনবে ডলার। কথা মালায় বন্দি না থেকে কক্সবাজারের উন্নয়নের কার্যকারিতা চান এই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, রেল লাইন স্থাপনসহ মাস্টার প্ল্যান সবকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এখানে সব মহলের অংশগ্রহণ থাকার পাশাপাশি বাস্তবায়নে দ্রুতগতি খুবই প্রয়োজন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT