টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ, ২ পুলিশ ক্লোজড

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫
  • ৮৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ…

বগুড়ার গাবতলীতে পুলিশী নির্যাতনে মোকলেছার রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ধার করে। পরে তাদের বগুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার মরিয়া ছয় মাইল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।  দুই পুলিশ সদস্য হলেন-গাবতলী থানার এএসআই আব্দুস সবুর ও কনস্টেবল আব্দুর রহমান।

স্থানীয়রা জানায়, গাবতলীর দড়িপাড়া গ্রামের মোকলেছার রহমানের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তার ছোট ভাই মজনু মিয়ার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে মজনু গত ১৪ অক্টোবর বুধবার তার বড় ভাই মোকলেছারের বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দেওয়ার পর দুপুরে গাবতলী থানার এএসআই আব্দুস সবুর ও কনস্টেবল আব্দুর রহমান মোকলেছার রমানকে গ্রেফতারের জন্য দড়িপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে যান। সেই সেময় মোকলেছার রহমান পাশের মরিয়া ছয়মাইল গ্রামে স্থানীয় এক কবিরাজের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে মজনু দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে মোকলেছার রহমানের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন।
মরিয়া ছয়মাইল এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর জানান, মজনু মিয়া দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে যোহরের নামাজের পর পরই তাদের গ্রামে আসেন। দুই পুলিশ সদস্যের একজন সাদা পোশাকে ছিলেন। ওই গ্রামের মোমিন নামে এক কবিরাজের বাড়ির সামনে মোকলেছার রহমানকে দেখে তার ভাই মজনু পুলিশকে চিনিয়ে দেন। এর পরই পুলিশ মোকলেছার রহমানের পথরোধ করে তার নাম জানতে চান। মোকলেছার রহমান নিজের নাম বলতেই পুলিশ তার চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের এলোপাথারি লাথির আঘাতে মোকলেছার রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ওই ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ জনতা দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে ঘরে আটকে রাখেন। মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন।
খবর পেয়ে গাবতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গ্রামবাসীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বগুড়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ চাওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলের নেতৃত্বে বগুড়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং তারাও গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।  তখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের অবরুদ্ধ দুই সদস্যকে মুক্ত করতে না পারলেও নিহত মোকলেছার রহমানের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে গাবতলী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের উপস্থিতিতে অবরুদ্ধ ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।
গাবতলী থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন জানান, মোকলেছার রহমানের বিরুদ্ধে তার ভাই একটা অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করতে যান এএসআই আব্দুস সবুর। সঙ্গে কনস্টেবল আব্দুর রহমান ছিলেন।ওসি বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি তদন্তের প্রয়োজনে তারা হয়তো মোকলেছার রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে তার মৃত্যু হয়। তবে কিভাবে মোকলেছারের মৃত্যু হলো সেটা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।’বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, লাশের সুরতহাল এবং ময়না তদন্তে রিপোর্ট পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা তদন্ত রিপোর্ট না পাচ্ছি ততক্ষণ এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে আপাতত আমরা ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করেছি।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT