টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পুলিশের দুই এডিসির মারামারি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুলাই, ২০১৩
  • ১৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

dsffsনিজস্ব প্রতিবেদক:::মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ডিসির অফিসে দুই এডিসির মধ্যে মারামারি হয়েছে্‌। এ সময় দুজনই পরস্পরের দিকে পিস্তল তাক করেন বলে জানা গেছে। দুই এডিসির সঙ্গে তাদের  ব্যক্তিগত রক্ষীরাও জড়িয়ে পড়লে সেখানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায়  এডিসি শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে অন্য এডিসি  শফিকুল ইসলাম বহাল আছেন।

ঘটনা তদন্তে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের দুজন যুগ্ম কমিশনারকে প্রধান করে দুটি  তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গুলশান ডিসি অফিস সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে গুলশান বিভাগের ডিসি লুৎফুল কবীরের কক্ষে  ওই দুই এডিসিসহ একটি বৈঠক চলছিল। এ সময় এডিসি শাহনেওয়াজ ও শফিকুল ইসলাম কথা-কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু করেন। কোমর থেকে অস্ত্র বের করে দুই এডিসি পরস্পরের দিকে তাক করেন। এ সময় কক্ষ থেকে ডিসি বের হয়ে যান। এই সংঘর্ষে দুই এডিসির ব্যক্তিগত রক্ষীরাও জড়িয়ে পড়লে অফিসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই এডিসিকে নিবৃত করে নিজ নিজ কক্ষে নিয়ে যান।সংঘর্ষে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।

জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে দুই এডিসি  লিখিতভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন। দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ট্রাফিক মীর রেজাউল আলম ও জয়েন্ট কমিশনার ক্রাইম শাহাবু্দ্দিন খান তদন্ত করছেন।

সূত্র জানায়, তদন্তে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে এডিসি শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপর এডিসি শফিক এখনো বহাল আছেন। তিনি গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও ডিবির প্রভাশালী যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের ভায়রা ভাই।

এডিসি শাহনেওয়াজ মারামারি ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঘটনাটি জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। এটি তদন্ত চলছে। দুপুরে আমাকে প্রত্যাহারের জন্য হেডকোয়ার্টার থেকে বলা হয়েছে।”

এডিসি শফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ডিএমপির মুখপাত্র ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নতুন বার্তা ডটকমকে জানান, দুই এডিসির মধ্যে একটি ছোট বিষয় নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শাহাবুদ্দিন খান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “সিনিয়র-জুনিয়র দুই এডিসির মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। পুলিশের ছোট ঘটনাও বেশি ছড়ায়। এ ঘটনাটি বড় কিছু  নয়।”

তবে গুলশান বিভাগের ডিসি লুৎফুল কবীর এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেন।    অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশের ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার আনুকূল্য দেখিয়ে  গুলশান জোনে এসি হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর আবার সেখানেই তাকে এডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পুলিশের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের ভায়রাভাই ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম তদবির করে গুলশানের এডিসি হিসেবে পদায়ন পান। এরপর থেকেই এই দুই এডিসির মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT