টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পার্বত্য চট্টগ্রামকে খ্রিস্টান রাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন- আল্লামা শফী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৩
  • ১৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয়, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের এক যৌথ জরুরি সভা ২৪ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জরুরি সভায় সারাদেশে নাস্তিক্যবাদবিরোধী চলমান গণআন্দোলনে হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা, ৫ মে ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা, শোহাদায়ে কেরাম, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ আহত নেতাকর্মীদের সুচিকিৎসা, সারা দেশে নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও ভবিষ্যত কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম আরম্ভ হয়।

দারুল উলূম হাটহাজারী মিলনায়তনে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর আল্লামা আবদুল মালেক হালিম, আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, আল্লামা মুহাম্মদ ইদরিস, আল্লামা সালাহুদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিমুদ্দিন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ইলিয়াস উসমানী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদীবাজার, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আবুদল জব্বার, মাওলানা নুরুল ইসলাম নানুপুর, মাওলানা ইসহাক রাঙ্গুনিয়া, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরিস, আমীরের একান্ত সচিব মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা মুফতি আবদুল ওয়াহহাব, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা মুহাম্মদ সোহাইল, মাওলানা আহমদ শফী, হাফেজ মুহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।

সভাপতির ভাষণে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, চারিদিকে হাজারো অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য, নেতাকর্মীদের নামে নানান অপবাদ সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। আমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের সম্মান রক্ষার্থে খানকাহ্ ও কুরআন-হাদিসের দরসগাহ ছেড়ে রাজপথে নেমেছি। কোনো হুমকি, নির্যাতন, মামলা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্র আমাদেরকে ঈমান রক্ষার আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় ইসলামবিদ্বেষী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এদেশের নবীপ্রেমিক আলিম-ওলামা ও তাওহীদি জনতা জীবনবাজি রেখে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আমীরে হেফাজত বলেন, বর্তমান ইসলামবিদ্বেষী অপশক্তির চেয়ে বৃহৎ শক্তি বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তিকে ওলামায়ে কেরাম উপমহাদেশকে বিতাড়িত করেছে। তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সদস্য সচিব, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সন্তান মাওলানা মামুনুল হক, লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি ইমরান মাজহারীসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের কতিপয় মন্ত্রী ও ধর্মবিদ্বেষী রাজনীতিক কওমী মাদরাসায় চাঁদা না জনগণকে প্ররোচনা দেবার জবাবে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, বাংলাদেশের হাজার হাজার কওমী মাদরাসা সরকারের এক টাকাও আর্থিক সহায়তা ছাড়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহযোগিতায় যুগযুগ ধরে সমাজে শিক্ষার আলো বিস্তার ও আদর্শ নাগরিক তৈরির খেদমত করে যাচ্ছে। কওমী মাদরাসাগুলো আছে বলেই এদেশে এখনও মুসলমানিত্ব আছে। মুসলমানদের লক্ষ্য লক্ষ্য সন্তান এসব প্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া করে দেশ-বিদেশ ইসলামের প্রচার-প্রসারে ছড়িয়ে পড়ছে। যারা পবিত্র জাতীয় সংসদে শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করে তারা প্রকৃতপক্ষে ফেরআউন ও আবু জাহলের উত্তরসূরি।

দেশে বিরাজমান, অশান্তি, জনদুর্ভোগ, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন। যে জাতিকে চারিত্রিক স্খলন, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও জুলুম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে শান্তি-স্বস্তি, কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার পরিবর্তে নৈরাজ্য, অরাজকতা, দুর্যোগ ও আল্লাহর গজব তাদেরকে গ্রাস করে। এ সময় পুরো জাতীয় মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখী হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া এবং ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভার সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
১. পবিত্র মাহে রমজানের পর জ্বিলকদ মাসের প্রথম সপ্তাহে সারাদেশে ওলামা-পীর- মাশায়েখ ও হেফাজতে ইসলামের জেলা-মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
২. ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি জেলা-উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে আলোচনা-সভা, সেমিনার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা।
৩. আগামী ২০ শে রমজান এ’তেকাফের পূর্বে প্রত্যেক শাখায়/ইউনিটে ইফতার মাহফিল আয়োজন করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
৪. যেসব মহানগর ও জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠিত হয়নি, সেখানে কমিটি গঠন করা এবং পূর্বগঠিত কমিটিসমূহের তালিকা হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল উলূম হাটহাজারীর মাসিক মুঈনুল ইসলাম কার্যালয়ের ঠিকানায় প্রেরণ করার জন্য দায়িত্বশীলদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়।

আল্লামা আহমদ শফী আরও বলেন, আজ আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অবিচার মহামারী আকার ধারণ করেছে। দুর্ভোগ, হাহাকার ও অশান্তির আগুন সবকিছু জ্বালিয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। মানুষের অন্তর থেকে তাকওয়া-পরহেযগারী, মানবিকতা, পরিমিতিবোধ, ন্যায়-নীতি, হালাল-হারামের ভেদবুদ্ধি, ন্যায়-অন্যায়ের বিচারবোধ লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুর চেয়ে অধম হয়ে উঠছে। খুন-হত্যা, গুম, রাহাজানী ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মানুষের হৃদয়ে মানুষের প্রতি ন্যুনতম মমত্ববোধ নেই। তিনি বলেন, আজ কারো জানমাল, ইজ্জত-আব্র“ অন্যের কাছে নিরাপদ নয়। পরস্পরের রক্তপাত ও জীবনহানি ঘটিয়ে হলেও নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অশুভ প্রবণতা সর্বত্র বিরাজ করছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর জন্য আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে যাবতীয় অন্যায় ও পাপাচার থেকে মুক্ত থেকে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আমাদের ঈমানী শক্তিকে বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষ যখন তাকওয়াবান হবে কোনো দুর্নীতি ও অন্যায় তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

সভা শেষে মুনাজাতে তিনি শোহাদায়ে কেরাম ও আহতদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়া করে বলেন যারা হেফাজতে ইসলামের এই আন্দোলনে শাহাদাত বরণ করে শহীদের মর্যাদা লাভ করেছেন। আহত ও পঙ্গু হয়েছেন আল্লাহ সকলকে কবুল করুন। তাদের মর্যাদা বুলন্দ করে ইহ ও পরকালীন জীবন শান্তি ও চূড়ান্ত সফলতা দান করবেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের পবিত্র জমিন থেকে নাস্তিক-মুরতাদ ও ইসলামবিদ্বেষীদের শক্তিকে খতম করুন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT