টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পানির দামে সবজি, টমেটো ফেলে দিচ্ছেন চাষীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ৬৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: উত্তরাঞ্চলে সবজির বড় মোকাম রাজশাহী। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি সরবরাহ করা হয়। আর শীত মৌসুমেই এ অঞ্চলের চাষীরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু গত ১০ দিন থেকে রাজশাহীতে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। আর দাম না পেয়ে টমেটো ফেলে দিচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষীরা।

সারা দেশের মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অর্ধেকের বেশি টমেটো চাষ হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দাম পেলেও বর্তমান বাজারে টমেটোর দাম ৫ টাকা কেজি। আবার অনেক চাষী টমেটো বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে চাষীদের অনেকেই টমেটো ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে চাষীরা কম দামে টমেটো বিক্রি করলেও সাধারণ ক্রেতারা বেশি দামে বাজার থেকে টমেটো কিনছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকার চাষী আজমল হক সুমন বলেন, মৌসুমের শুরুতে মাত্র কয়েক দিন টমেটোর দাম ভালো পেয়েছি। বর্তমানে বাজারে কেজিপ্রতি টমেটো ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হলেও চাষীরা সে দাম পাচ্ছেন না। চাষীরা আড়তদারদের কাছে কেজি প্রতি মাত্র ৫ টাকা দামে টমেটো বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ জমি থেকে টমেটো তোলার জন্য শ্রমিককে টাকা আরও বেশি দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। কোনো কৃষকই এবার উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন না। ফলে  গোদাগাড়ীর টমেটো চাষীরা আমার মতো সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

জেলার মোহনপুর এবং পবা উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ হয়। মোহনপুর উপজেলার কপি চাষী আবদুল কাদের জানান, মৌগাছি বাজারে সবজির বড় মোকাম রয়েছে। এ মোকাম থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি সরবরাহ করা হয়। মোকামে এখন চাষীরা প্রতি পিস বাঁধা ও ফুলকপি ৪-৫ টাকা দামে বিক্রি করছেন। এত কম দামে এ এলাকার চাষীরা কখনও কপি বিক্রি করেননি। একইভাবে মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩-৪ টাকা কেজি দরে। ফলে এ এলাকার কপি এবং মুলা চাষীরা এ মৌসুমে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে পেঁপে এবং শিম চাষ হয়। উপজেলা সদরের শিমচাষী শফিকুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলের সিম চাষীরা বর্তমানে আড়তদারদের কাছে কেজিপ্রতি সিম ৮-১০ টাকা দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ মাসখানেক আগেও ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেছেন। এছাড়া পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭-৮ টাকা কেজি দরে। পেঁপেও মাসখানেক আগে চাষীরা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। একইভাবে বেগুনের দামও কমেছে।

রাজশাহীতে সবজির বড় মোকাম মহানগরীর উপকণ্ঠ খড়খড়ি এলাকায়। এ মোকামের আড়তদার সাহেব আলী বলেন, বর্তমানে সারাদেশেই সবজির দাম কম। এ কারণে রাজশাহীর আড়তদাররাও চাষীদের কাছে কম দামে সবজি কিনছেন। এছাড়া এ মৌসুমে সবজির আবাদ বেশি হয়েছে। ফলনও বেড়েছে। সবমিলিয়ে এবার সবজির দাম কম। তবে বেশি দামে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রোববার দুপুরে মহানগরীর সবচেয়ে বড় সবজির বাজার মাস্টারপাড়ায় সবজি কিনছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আলিমুল হক। তিনি বলেন, কম দামের কারণে চাষীরা টমেটো ফেলে দিলেও সাধারণ ক্রেতারা ২০-২৫ টাকা কেজি দরে টমেটো কিনছেন। শিমও কিনতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। চাষীরা দাম না পেলেও আড়তদার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সাধারণ ক্রেতারা বেশি দামে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ সময়ে রাজশাহীতে সবজির দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেন তিনি

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT