টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পাঁচ মাস ধরে সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুকিঁ নিয়ে যাচ্ছে পর্যটক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবুল আলী , টেকনাফ **

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে পযর্টকবাহী জাহাজ চলাচল। এ সুযোগে এই নৌপথে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। বিকল্প উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিন যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’ ও ‘এলসিটি কুতুবদিয়া’ নামের দুটি জাহাজকে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে সারা বছর চলাচলের অনুমতি দেয়। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় ও ঝড়ের আশঙ্কায় চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল থেকে টেকনাফ উপজেলা ও কক্সবাজার প্রশাসন জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। ওই দুটি জাহাজ ছাড়া পর্যটন মৌসুমে এই নৌপথে আরও পাঁচটি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৫-২০টি ট্রলারে করে প্রতিদিন পযর্টকসহ স্থানীয় লোকজন টেকনাফ থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিন যাওয়া-আসা করছেন।
কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, সারা বছর তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও, পযর্টকদের নিরাপত্তার কারণে সাধারণত জুন-জুলাই মাসে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ওই সময় সাগর উত্তাল থাকে। কিন্তু এখন সাগর শান্ত রয়েছে। পযর্টন মৌসুম শুরু হচ্ছে, এরপরও প্রশাসন জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিচ্ছে না।
গত বুধবার সকালে টেকনাফের কায়ুকখালীয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেন্ট মার্টিন যাওয়ার জন্য এফবি মহিউদ্দিন নামের একটি ট্রলারে ১১ জন নারীসহ ৮৩ যাত্রী তোলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন পযর্টক। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা সের্ন্ট মাটিনে যাচ্ছেন বলে জানান।
রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ভ্রমণে আসা পযর্টক এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, সাগর এখন স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। এখন জাহাজ চলাচলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সেন্ট মার্টিন যাওয়ার বিকল্প আর কোনো উপায় না থাকায় তিনি ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাচ্ছেন বলে জানান। সৈয়দ আকবর নামের আরেক পর্যটক বলেন, ট্রলারে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট, বয়া বা অন্যান্য সরঞ্জাম নেই।
সেন্ট মার্টিন উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মোতালেব এবং ছৈয়দ আলমও ছিলেন ওই ট্রলারে। তাঁরা জানান, পারিবারিক একটি কাজে টেকনাফে এসেছিলেন। তখন ট্রলারে তেমন চাপ ছিল না। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় ট্রলারের মালামালসহ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. নাফিউর রহমান বলেন, ট্রলারে করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এলাকাবাসী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিউল আলম  বলেন, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী ট্রলারগুলোর অনুমোদন এবং ফিটনেস সনদ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। ট্রলারে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহাজে চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। তাই পযর্টকের নিরাপত্তার কারণে জাহাজ চলাচলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সাগর শান্ত থাকলে ও আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT