টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পর্যটনে কক্সবাজার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩
  • ৫৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

vvvঅধ্যাপক নুর আহমদ এডভোকেট:
জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হিসেবে বই এর পরেই ভ্রমনের স্থান। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে অধুনা পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় ব্যবসা হিসেবে গড়ে উঠেছে। জ্ঞানার্জন ও আবিস্কারের তৃষ্ণায় বহু পর্যটক প্রাচীনকালেও যথেষ্ট কষ্ট স্বীকার করে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন। আধুনিক পর্যটন বিভিন্ন জাতীর মধ্যে সভ্যতা, সাংস্কৃতি, কৃষ্টি প্রভৃতির বিনিময় ছাড়াও অসংখ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়ক।
অনাদিকাল হতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বাহু-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে প্রকৃতির লীলা-নিকেতন এ ‘কক্সবাজার’। কোন গোধূলী-লগ্নে সাগরতীরে দাঁড়িয়ে বেলাশেষে সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য যে একবার প্রাণভরে উপভোগ করেছে তার চিত্তপটে এ মোহনীয় স্মৃতি চির-জাগরুক থাকবে।
বিমান পথ, জল পথ ও স্থল পথে কক্সবাজার আসা যায়। সব শ্রেণীর পর্যটকদের উপযোগী বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, কটেজ ইত্যাদিতে থাকা-খাওয়ার আধুনিক ব্যবস্থা একে অধিকতর সৌন্দর্য-মন্ডিত ও আকর্ষনীয় করে তোলেছে। তাছাড়া সমুদ্র-সৈকতের জন্যেও কক্সবাজার অদ্বিতীয় স্থান।
বিশাল সবুজ বনভূমি কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যে ‘খেদার’ মাধ্যমে পোষ্য হস্তী দ্বারা বন্য হস্তী ধরার রোমাঞ্চকর দৃশ্যে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা বিমোহিত হয়।
প্রাচীন স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির, প্যাগোড়া,বৌদ্ধ দেবের মূর্তি প্রভৃতি আজো তৎকালীন শিল্পীদের দক্ষতা ও সৌন্দর্যবোধের পরিচয় বহন করছে।
কক্সবাজারের স্বকীয়তা ও বৈচিত্রের কারণে চলচ্চিত্র শিল্পীগণ এখানে যথেষ্ট ফিল্ম চিত্রায়িত করে থাকেন। তাছাড়া শিকার ও বনভোজনের উপযুক্ত পরিবেশ এখানে বিরাজমান। তাই পর্যটকগণ এখানে  এসে ভ্রমনের চরম আনন্দ উপভোগ করেন এবং সবিশেষ পরিতৃপ্ত হন।
পর্যটকদের জন্য যেসব আকর্ষনীয় স্থান, দর্শনীয় জিনিসপত্র ও সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।
সমুদ্র সৈকতঃ পর্যটন কর্পোরেশনের সবে ধন নীলমণি এ কক্সবাজার তথা সমুদ্র সৈকত। স্বাস্থ্য গড়ার নির্মল-ফুরফুরে বিশুদ্ধ হাওয়া, সম্মুখেই বিশাল সমুদ্র-ভাবতেই মাথা ঝিম্ ধরে যায়। একটার পর একটা ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে পায়ের কাছে- মাথা কুড়ছে যেন সৈকতের সাথে লাগোয়া পাহাড়ের গায়ে। সাথে নিয়ে আস্ছে অসংখ্য ঝিনুক। এখানে চারপাশে যেন রূপালী তুষারপাত হচ্ছে। চাঁদের আলো সৈকত, ঢেউয়ের ফুঁসে উঠা সব মিলিয়ে সত্যিই এক মনোহরণ দৃশ্য। তাছাড়া খোলা আকাঁশের নীচে দাঁড়িয়ে একটানা ঢেউয়ের গর্জন শুনলে যে কেউ বিমোহিত হবেই। ভোরে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ভীড় একটু বেশী। তাঁরা ওখানে স্বপরিবারে ঢ়জ্ঝ¡ব করে, ঝিনুক কুঁড়ায় এবং হৈ-হল্লোড়, দৌড়- ঝাপের সাথে সাথে কাঁচ-ভাঙ্গা হাসিতে ঢলে পড়ে পরস্পরের গায়ের উপর। আবার বিকিনি পরে সৈকতে শুয়ে শরীর তাতায় অনেকে কেউবা আবার সৈকতে নানান কথা লিখে বেড়ায় কাঠি বা আঙ্গুল দিয়ে। বিকেলে আবার সৈকতে অসংখ্য পর্যটক আসে। মেঘমুক্ত আকাশে গোধুলী-লগ্নের সূর্যাস্তের দৃশ্যে দেখে পর্যটকগণ অনাবিল প্রশান্তি বোধ করেন।তখন আকাশ রক্তিম রঙ বদলে ক্রমে ধুসর বর্ণ ধারণ করেÑ যেন এক স্বর্গীয় আভা ছড়ায়। সূর্যাস্ত বেলায় এ অপরূপ দৃশ্যে পর্যটকগণ যখন মোহাচ্ছন্ন, স্বপ্নাচ্ছন্ন তখন আস্তে আস্তে সৈকতের কোলাহল কমতে থাকেÑসর্বত্র বিরাজ করে সতেজ ও প্রফুল্লভাব। তাছাড়া সূর্যাস্তকালীন সময়ে যখন সাগর বক্ষে পাল তোলা ও ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলো মৃদু-মন্ডুগতিতে তর তর করে এগিয়ে যায় তখন আরেক সৌন্দর্যের ও অপূর্ব দৃশ্যের অবতারনা হয়। তখন সূর্যাস্তের যে ¢ঢ়জ্ঝে জ্যোতি চতুর্দিকে উদ্ভাসিত তা দৃষ্টিকে ঝলসে দেয় না বরং আকর্ষন করে। সূর্যাস্তের এ মহেন্দ্রক্ষনের পরে সাগরতীরে ক্রমে নেমে আসে আঁধার, স্তব্ধতা ও প্রশান্তি। মিট-মিট করে দেখা দিতে থাকে আকাশের তারাগুলোÑ বাড়তে থাকে ঢেউয়ের গর্জন-সত্যি বড় সুন্দর, বড়ই মধুর সে দৃশ্য।
হিমছড়ি ঃ কক্সবাজার শহর থেকে ১০/১১ মাইল দক্ষিণে সাগরের তীর ঘেঁসে অবস্থান করছে আরো একটি প্রাকৃতিক লীলাভূমি, অন্যতম স্যুটিং ও পিকনিক স্পট ‘হিমছড়ি’। পাহাড়ের গা ঘেঁসে হিমশীতল পানির ছরা (ঝর্ণা) প্রবাহিত হয় বলেই হয়তো কোন সৌখিন ব্যক্তি এর নাম রেখেছিলেন ‘হিমছড়ি’। এখানকার পর্যটকদের অভিমত যে, ক্যালিফোর্নিয়ার ‘গোল্ডেন সী-বীচ’ লেবাননের বৈরুত শহরের প্রান্তে ভূুমধ্যসাগরীয় সৈকত, যুগোশ¬াভিয়ার ‘ওবেনিক বীচ’ করাচীর ‘হকস্বে’ ও ‘ক্লিপটন বীচ’,ইন্দোনেশিয়ার ‘ড্রীমল্যাণ্ড বীচ’, এ সমস্ত বীচের তুলনায় ‘কক্সবাজার সী-বীচ’ অধিকতর আকর্ষনীয় ও প্রাণবন্ত। কিন্তু তার চেয়ে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় এ ‘হিমছড়ি’। এখানে রয়েছে দীগন্ত জুড়ে ফেনায়িত নীল জলরাশি, চক্চকে বালুকা-রাশি, অসংখ্য ক্ষুদে পাহাড় ও পাহাড়ের পাশ ঘেঁসে সবুজ ঝাউগাছের সারি। হিমছড়ির দৃশ্য দেখলে যেন হৃদয়ে জল-ছাপ বসে যায়। ভাটার সময় যখন চর প্রশস্ত ও শক্ত হয় তখন জীপে করে হিমছড়ি যাবার পথে অসংখ্য লাল কাঁকড়া বা ‘রেডকেব’ চোখে পড়ে। কেহ কেহ এসব কাঁকড়ার পেছ্েন ছোটে। তখন এরা চুরাবালির গর্তের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আবার যখন এরা নিরাপদ সময়ে বেরিয়ে আসে তখন দূর হতে মনে হয় যেন সৈকতে ‘বারটা ফুলের বাগান’ সৃষ্টি হয়েছে বা কেউ লাল গালিছা পেতে রেখেছে। হিমছড়িতে এসে কবি-সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পীরা খুঁজে পান তাঁদের চিন্তার উপাদান। আর চিত্র-নির্মাতা ও চিত্র-শিল্পীরা খুঁজে পান তাঁদের কল্পিত দৃশ্যের মুর্তায়িত রূপ। তাছাড়া হিমছড়ির পাশ ধরে যে সব পাহাড় আছে সেখানে বিভিন্ন রকম পশু-পাখি শিকার করে ভ্রমনকে অধিকতর উপভোগ করা যায়।
উলে¬খ্য বীচ সংলগ্ন রেষ্ট হাউসের কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ক্যাং এর মতো মনোরম করে একটি ‘সৈকত বাংলো’ তৈরী করা হয়ের্ছিলো। এ বাংলোর ঝুলন্ত প্রশান্ত বারান্দায় বসে শীতের সকালে বিশিষ্ট মেহমান বা পর্যটকেরা রোদ পোহাতেন এবং বিকেলে নয়নাভিরাম সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করে নয়ন-মন সার্থক করতেন। কিন্তু বর্তমানে এর কোন অস্থিত্ব নেই। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আরো বেশী উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হিমছড়ি ও সৈকতের পাশে এ ধরনের বাংলো নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ঝিনুক মার্কেট ঃ পর্যটকদের আরেকটি আকর্ষনীয় স্থান হচ্ছে ‘ঝিনুক মার্কেট’। সৈকত সংলগ্ন রেষ্ট হাউসের উত্তর-পূর্ব কোণায় একটি (পুরাতন) এবং মোটেল ‘লাবনী’ পয়েণ্টে আরেকটি ঝিনুক মার্কেট অবস্থিত। দু’টিতে ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০/৬০টি দোকান রয়েছে।
উলে¬খ্য, এক সময় পুরো সৈকতটাই ঝিনুকে পরিপূর্ণ ছিলো। বর্তমানে টেকনাফ থানার সেণ্ট-মার্টিন দ্বীপ, মহেশখালী থানার সোনাদিয়া দ্বীপ প্রভৃতি স্থানে প্রচুর ঝিনুক পাওয়া যায়। উপকূলবর্তী এলাকার লোকজন বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও প্রবাল কুড়িয়ে ঝিনুক-ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রী করে। তন্মধ্যে কাটা শামুক, শঙ্খ কড়ি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, মুক্তা, মুক্তার পে¬ইট ইত্যাদি উলে¬খযোগ্য। এ সবের তৈরী প্রায় ৬০/৭০ ধরনের সামগ্রী স্থানীয় ঝিনুক মার্কেটে পাওয়া যায়। তন্মমধ্যে, বিভিন্ন ধরনের পুতুল, জীব-জন্তু, কলমদান, ষ্ট্রে, আগরবাতি দান, ফুলের টব, বিভিন্ন গাছ, নাম ফলক, গলার মালা, কানফুল, চাবির রিং, হাতের চুড়ি, ঝুড়ি সহ নারী ও বাড়ীর শোভাবর্ধনের আরো অনেক সামগ্রী সবিশেষ উলে¬খযোগ্য।
বার্মিজ মার্কেট ঃ পর্যটকদের যে জায়গায় না গেলে ভ্রমন অসম্পূর্ন থেকে যায় তার নাম কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেট। কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়া অংশে বেশ কয়েকটি ভবনে এ মার্কেট অবস্থিত। এখানে কয়েকশত দোকানে আকর্ষণীয় সব জিনিস পত্র বিক্রি করা হয় যা পর্যটকদের প্রলুব্দ করে। এর অণ্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে অধিকাংশ দোকান রাখাইন রমনীরা পরিচালনা করে থাকে।
আবাসিক ব্যবস্থা ঃ অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র এ কক্সবাজারে সর্বস্তরের পর্যটকদের থাকা-খাবার উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে। পূরাতন ঝিনুক মার্কেটের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় রয়েছে ‘সী-বীচ রেস্ট হাউস’ নামে পরিচিত একটি রেষ্ট হাউস। এটি একটি উন্নত মানের বিশ্রামাগার। এর নিচ তলায় ১০টি রুম ও ডাইনিং হল সহ রান্নাঘর এবং দুতলায় রয়েছে দুটো স্যুট্। প্রতিটি কক্ষ আধুনিক আসবাবপত্রে সজ্জিত। এর সামনে আছে একটি লন-টেনিস মাঠ বর্তমানে এ রেষ্ট হাউসের সামনে গড়ে তোলা ঝাউ-বাগান এর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলেছে।
এ রেষ্ট হাউসের দক্ষিণ পাশে বরাবর সাগরের তীর ঘেঁসে অবস্থান করছে মনোরম ৫টি কটেজ। চারটি করে শোবার ঘর, একটি করে খাবার ও রান্নাঘর সহ এসব কটেজও আধুনিক আসবাবপত্রে সু-সজ্জিত। কটেজগুলোর নামও খুব সুন্দর। ক) তপতী, খ) তরঙ্গ, গ) তন্ময়, ঘ) তটিনি এবং ঙ) তনিমা।এসবের কিছু দক্ষিণে পশ্চিম দিকের পাহাড়ের পটভূমিকায় সমুদ্রকে সামনে রেখে দাঁড়িয়ে আছে আরো তিনটি মোটেল। এগুলো পূর্বে ১, ২ ও ৩ নং মোটেল নামে চিহ্নিত ছিলো। এখন নাম হলো- লাবনী, প্রবাল ও উপল। লাবনী মোটেলে রয়েছে আটটি স্যুট্। অভিনব পদ্ধতিতে নির্মিত একতলা বিশিষ্ট এ মোটেলও আধুনিক আসবাবপত্রে সজ্জিত। আর ‘প্রবাল’ ও ‘উপল’ এ মোটেল দু’টি তিনতলা। এদের নীচে আছে গাড়ী বারান্দা এবং সামনে বড় খোলা মাঠ। এদের তলায় ২টি করে স্যুট্ রয়েছে এবং প্রধান ডাইনিং হল ছাড়াও একটি করে কপি পান কক্ষ রয়েছে। তাছাড়া রয়েছে উপরে ও নীচে খোলা বারান্দাযুক্ত ‘সাগরিকা ক্যাণ্টিন’। সেখান থেকে সাগরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সর্বাধুনিক এ রেষ্টুরেন্টের উত্তর পাশে রয়েছে ষাটের দশকের গোড়ার দিকে খননকৃত একটি বড় দীঘি। চতুর্পাশ্বে সারিবদ্ধ নারিকেল গাছ ও ফাঁকে ফাঁকে বসার পাকা বেঞ্চ এ দীঘির সৌন্দর্য বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ এলাকার একটি পাহাড়ের চূড়ায় সরকারী ‘সার্কিট হাউসের’ অবস্থান। দেশী-বিদেশী সরকারী উর্ধতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট অতিথিগণ এখানে অবস্থান করেন। উঁচু জায়গায় অবস্থিত বলে এখান থেকে প্রায় সমগ্র কক্সবাজার শহর এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্যাবলী দৃষ্টিগোচর হয়। এতে চারটি শোবার ঘর, একটি ড্রইং রুম ও একটি ডাইনিং রুম রয়েছে। এর পূর্বদিকের বারান্দায় বসে পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য ও পশ্চিমের বারান্দায় বসে নয়নাভিরাম সাগরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আর এর কয়েক গজ দক্ষিণেই রয়েছে শত শত বছরের পুরনো একটি ‘প্যাগোডা’Ñ যার শীর্ষে রাত্রে একটি বাতি জ্বলতে দেখা যায়। এ সার্কিট হাউসটিতে উলে¬খযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক প্রধান মন্ত্রী মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম আইয়ুব খান, বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও বিশ্রাম গ্রহণ করেছেন।
উক্ত সার্কিট হাউস সম্পর্কে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের একটি মন্তব্য এখানে উলে¬খযোগ্য। তিনি যাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে   পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কক্সবাজার ভ্রমনে এসে এখানেই বিশ্রাম নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর পলিটিক্যাল অটোবায়োগ্রাফী “প্রভু নয় বন্ধু’ পুস্তকের শুরুতেই উলে¬খ করেন- “আমার জীবন সব সময় ব্যস্ততায় ও কর্মপ্রবাহে পরিপূর্ণ ছিল। একটি দিনের কথা সব সময় মনে পড়ে। কর্মহীন অবসর আমার ছিলো না বলে¬ই হয়। কক্সবাজারের সার্কিট হাউসের আঙ্গিনায় কোন এক সন্ধ্যায় এক ঘণ্টার জন্যে একাকী বসে ছিলাম। আমি চুপচাপ বসে আমার চারিদিকের নিস্তব্ধতাকে যেন শুষে নিচ্ছিলাম। আর দুরে সমুদ্রের ঢেউগুলো বঙ্গোপসাগরের কোমল বেলা ভূমিতে নিঃশব্দে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছিলো। এক মুহুর্তের জন্যে জীবনের কলরোল থেমে গিয়েছিলো। বিশ্রামের জন্যে ঐ সময়টুকু এবং ঐ স্থানের কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে।”
পর্যটকদের আবাসিক সুবিধা দানের লক্ষ্যে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে নির্মিত মোটেল “শৈবাল’ গত ২০শে জানুয়ারী ১৯৮৩ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লেঃজেঃহোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ।তাছাড়া গত ৫ই মার্চ’১৯৮২ সালে লাবনী পয়েণ্টে উদ্বোধন করা হয় এদেশের ছাত্র যুব সমাজের জন্যে স্বল্প খরচে আবাসিক সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত “যুব পান্থশালা”। তদুপরি বেসরকারী পর্যায়েও শহরে বিভিন্ন মানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উন্নতমানের আবাসিক হোটেল ও গেষ্ট হাউস নিয়ে কলাতলীতে গড়ে উঠেছে বিশেষ পর্যটন জোন। বেসরকারীভাবে নির্মিত এসব আবাসিক সু-ব্যবস্থার কারণে কক্সবাজার এখন পর্যটকদের তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছে।
রামুঃ কক্সবাজার শহরের আশে-পাশেও পর্যটকদের জন্যে বেশ আর্কষণনীয় কয়েকটি স্থান রয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে নয় মাইল পূর্বে অবস্থিত রামু উপজেলা বৌদ্ধ-কৃষ্টির জন্যে প্রসিদ্ধ। ওখানকার ক্যাং, বৌদ্ধ মন্দির, প্যাগোডা, মঠ, স্বর্ণ সহ বিভিন্ন ধাতুর তৈরী বুদ্ধ মুর্তি গুলো দেখতে দেখতে প্রাচীন বৌদ্ধ যুগে ফিরে যায় মন। বাঁকখালী নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরে রক্ষিত ১৩ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জ নির্মিত বৌদ্ধ র্মূর্তিই এতদঞ্চলের বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি।
সোনাদিয়াঃ- কক্সবাজারের বিপরীতে উপকূলবর্তী একটি ছোট্ট দ্বীপ সোনাদিয়া যাযাবর পাখীর স্বর্গ। এ মনোরম দ্বীপের পশ্চিমাংশে বালুকাময় সৈকত ঝিনুকের জন্যে বিখ্যাত।
মহেশখালীঃ কক্সবাজার শহরের ৬ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মহেশখালী দ্বীপের পাহাড়ের উপর অবস্থিত বিখ্যাত তীর্থস্থান ‘আদিনাথের মন্দির’ পর্যটকদের জন্যে আরো একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান।
টেকনাফ ঃ কক্সবাজার শহর হতে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে নাফ নদীর তীরে এ ছোট্ট পাহাড়ী শহর অবস্থিত। টেকনাফে নৌকা ভ্রমন ও সীমান্ত এলাকার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করে পর্যটকগণ মোহিত হন।
সেণ্টমার্টিনঃ সত্যিকার ভাবে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে টেকনাফের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট স্বপ্নের মতো দ্বীপ সেণ্টমার্টিন-এ। অধিকাংশ এলাকা নারিকেল গাছে পুর্ণ এ দ্বীপের আশে পাশে ডলফিন সহ অসংখ্য রকমের মাছ ও প্রবাল-ঝিনুকের সমারোহ সমুদ্র বিজ্ঞানী ও ভু-বিজ্ঞানীদের প্রলুব্ধ করে সহজেই। মৎস্য শিকার ও সামুদ্রিক বিষয়াদি সম্পর্কিত গবেষণার অন্যতম আকর এ সেণ্টমার্টিন-এ পর্যটকদের জন্যেও রয়েছে অতুলনীয় ও অপূর্ব সৌন্দর্যের সমারোহ।
লেখক ঃ কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর,
গ্রন্থকার -কক্সবাজারের ইতিহাস ; আইন ও বিচার; মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT