টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পর্যটনকে এগিয়ে নিতে আগামীতে পর্যটন মেলায় অংশ নিতে হবে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩
  • ১৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

imagesঢাকা: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আকতারুজ জামান খান কবির বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে করা প্রপাগান্ডা পর্যটনে একটি বড় বাধা। তাই অ্যাগ্রেসিভ ক্যাম্পেইনে গেলে চলবে না। তবে এসব প্রপাগান্ডার পরও দেশের পর্যটন নিয়ে তিনি আশাহত নন।

তিনি বলেন, পর্যটকরা প্রতিনিয়তই নিত্য নতুন পর্যটন স্পট খুঁজছেন। যুদ্ধরত ইসরায়েল, লেবানন কিংবা মিয়ানমারেও পর্যটক যাচ্ছে। তারা পর্যটন উম্মুক্ত করে দিয়েছে। আমরাও রি-ব্র্যান্ডিংয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছি। বেসিক কাজ করছি। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে ঘিরে বিশ্ব এরিনাতে বাংলাদেশকে দেখতে পাবে বিশ্ববাসী।

সম্প্রতি বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আকতারুজ জামান খান কবির।
undefined
তিনি বলেন, পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে এটি। এটি অনেক বড় খাত। যারাই দেশে আসবে তারাই পর্যটক। সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সম্ভব এই খাতে। সেমি স্কিল ও ননস্কিলদেরও পর্যটন খাতে কাজে লাগানো যায়। পর্যটনের কারণে দেশের মানুষেরও পর্যটকের প্রতি মানসিকতা বদলাচ্ছে।

আকতারুজ জামান খান কবির বলেন, আমাদের অনাবিস্কৃত পর্যটনে অনেক স্পট রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়। তাই যত দ্রুত এসব স্থানে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হবে ততই সুবিধা হবে। সম্প্রতি একজন জাপানি নারী পর্যটককে অনুমতি দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পর্যটনের জন্য নেতিবাচক।

জাতীয় পর্যটন সংস্থার প্রধান নির্বাহী বলেন, আমরা ট্যুরিস্ট স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) করার উদ্যোগ নিয়েছি। ভারত এখনো ট্যুরিস্ট স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) করে নি। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। পর্যটনের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসবো। বিমানবন্দরে প্রবাসীদেরও দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসকে নিয়েও বসবো।

তিনি বলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে অগ্রানোগ্রাম পাস হলে নতুন করে লোক নিয়োগ দিতে পারবে ট্যুরিজম বোর্ড। এই অর্গানোগ্রামে ৩৯টি পদ থাকবে। এর বাইরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও কিছু কাজ করা হবে।

ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও মনে করেন, প্রায় দুই বছরে সরকার ও সরকারের বাইরের দূরত্ব দূর করতে পেরেছেন। আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এ ধরনেরর আরো অনেক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে পর্যটন এগিয়ে যাবে। সবাইকে নিয়ে কাজ করে আরো সামনে এগোতে চান তিনি।

তিনি বলেন, পর্যটনের জন্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। সংস্কৃতি ও এর উদ্দেশ্যেকে নিয়ে সামনে চলতে হবে। পেছনের দিকে যেন ফিরে যেতে না হয়। সংবাদকর্মীরাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তারা সমস্যা তুলে ধরবেন। আমরা যে কোনও তথ্য পেলেই শেয়ার করি। তাই তথ্য নিয়ে কোন বিভ্রান্তি থাকবে না।

ইকো-ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গ্রামের প্রতি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ রয়েছে। একটি গ্রামে ১০টি বাড়িকে আমরা ঠিক করে দিতে পারি। যারা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এতে ওই সব বাড়ির মালিকদের যেমন আয় হবে, তেমনি দেশও উপকৃত হবে। সিলেটের লাউয়াছড়ায় এ ধরণের পর্যটন রয়েছে।

। ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। বিদেশি মিশনগুলোকে দেশের পর্যটন তুলে ধরতে কাজ করতে হবে বলে মত দেন আকতারুজ জামান খান কবির।

তিনি জানান, জুনের মধ্যে ট্যুরিস্ট আইকন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ট্যুরিস্ট আইকন হবে একটি। যেমন পেট্রোনাস টাওয়ার বললেই আমরা মালয়েশিয়াকে বুঝি, আইফেল টাওয়ার বললে প্যারিস, স্ট্যাচু অব লিবার্টি বললে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাজমহলের কথা বলা হলে ভারতকেই বোঝানো হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আমাদের শহীদ মিনার আইকন হতে পারে নিজের ব্যক্তিগত ভাবে মনে করেন। এক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, এটি আমাদের গর্ব। ভাষার জন্য এদেশের দামাল ছেলেরা জীবন দিয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিশ্ব দরবারেও সহজেই এটিকে পৌঁছে দেওয়া যাবে।

হরতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের হোটেল, মোটেল ও ট্যুরিজম ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রাজনীতিবিদও রয়েছেন। তাদের বহু হোটেল আছে। তাই তারাই যেন এই ব্যবসা নিরাপদ রাখেন। হরতালের কারণে পর্যটকরা কম এলে তারাই ক্ষতির শিকার হবেন। পর্যটনকে অত্যাবশ্যকীয় একটি সেবা খাত হিসেবে গণ্য করতে হবে। যাতে করে হরতালের আওতামুক্ত থাকে পর্যটকরা। এজন্য পর্যটকবাহী যানবাহনগুলোকে হরতালের বাইরে রাখলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে। এটি করার এখনই সময়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT