টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে ভেঙ্গে যাচ্ছে বেড়ীবাধঁ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ = প্রতি বৎসর পর্যটক মৌসুম শুরু হলে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে শুরু হয় পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এ জাহাজের প্রচন্ড ঢেউর তোড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে টেকনাফ পৌর এলাকার নাইট্যংপাড়া হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বেড়ীবাধঁ। ফলে বর্ষা, পূর্ণিমা ও আমবশ্যা শুরু হলে জোয়ারের পানি ভাঙ্গা বেড়ীবাধঁ দিয়ে পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, চৌধুরী পাড়া, জালিয়া পাড়া, সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের সিকদার পাড়া হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকা জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ করে। ভেসে নিয়ে যায় চিংড়িঘের, লবণ ক্ষেত, ফসলি জমি, সড়কপথ ও ঘরবাড়ি। এলাকার লোকজন জানায়, প্রতিবছর শীত মৌসুম শুরু হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখার জন্য দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নামে টেকনাফে। একে পুজিঁ করে এক শ্রেণীর জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ পর্যটক আনা নেওয়ার জন্য টেকনাফে বড় বড় জাহাজ নিয়ে আসে। এ জাহাজ গুলো ৪/৫ হাজার পর্যটক যাত্রী বুঝাই করে সকালে সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায় আবার বিকেলে টেকনাফে চলে আসে। এ জাহাজ গুলো হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া জেটিঘাট হতে ছাড়ে। জাহাজ গুলো সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সময় এমন ভাবে গতি বাড়ায় যার ফলে নাফনদীতে পাহাড় সমান ঢেউ উঠে। যে ঢেউ গুলো টেকনাফের বেড়ীবাধেঁদের উপর আছড়িয়ে পড়ে। ফলে বেড়িবাধেঁর ভাঙ্গন শুরু হয়। প্রথম প্রথম পর্যটক বহনের জন্য ২/৩টি জাহাজ চলাচল করলেও ইদানিং এর সংখ্যা বেড়ে ৮/৯ টি হয়েছে। প্রতিদিন ৮/৯ টি জাহাজ চলাচলের কারনে প্রতিরক্ষা বেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে যাচ্ছে। এর এক মাত্র কারন জাহাজ গুলো বেড়ীবাধঁ ঘেষে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলাচল করছে। জাহাজ গুলোর ঢেউর কারনে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধঁ প্রতিবছর পুনঃ মেরামত না হওয়ায় ভগ্নাংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শত শত একর চিংড়িঘের, লবণ মাঠ, ফসলি জমি ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। জেলেরা জানায়, শুধু ঘরবাড়ি কেন আমরা যারা প্রতিদিন নাফনদীতে মাছ আহরণ করে নিজেদের সংসার চলায় এ জাহাজ চলাচলের কারনে জাল বসাতে পারি না। ফলে পর্যটন মৌসুমে আমাদের পরিবারে নেমে আসে হতাশার চিহ্ন। অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাতে হয়। আর্ন্তজাতিক নাফদনী বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত পয়েন্টে। এ নাফনদীর বেশীর ভাগই অংশ পেয়েছে মিয়ানমার। কম অংশ পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে পর্যটকবাহী জাহাজ গুলো নাফনদীর মাঝ পথ দিয়ে যেতে না পারায় বেশীর ভাগই বাংলাদেশের কূল ঘেষে চলাচল করে। এর ফলে বেশী ভেঙ্গে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের বেড়ীবাধঁ সমূহ। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বেড়ীবাধঁ রক্ষার জন্য ৬/৭ বছর পূর্বে বিপুল টাকা ব্যয়ে সেন্টমার্টিন পর্যটক আনা নেওয়ার জন্য শাহপরীর দ্বীপে প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জেটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এ জেটি নির্মিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ জেটি দিয়ে সেন্টমার্টিন পর্যটক যাতায়ত করে নি। ফলে প্রতি বছর বেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে গিয়ে বাংলাদেশেল দু-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।###

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT