হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদরোহিঙ্গা

নড়াইলে রোহিঙ্গা আতঙ্ক, ভয়ে বাড়ি থেকেই বের হচ্ছে না শিশুরা

সমকাল পত্রিকা ::  অপনড়াইল জুড়ে এখন রোহিঙ্গা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুজব রটেছে, রোহিঙ্গারা মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

রোহিঙ্গা আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। ভয়ে অনেক শিশু ঘর থেকেও বের হচ্ছে না। অনেক দরিদ্র পরিবারের লোকজন এখন রাতে বারান্দায় রাতযাপন বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো গ্রামের নারীরা ভয়ে রাতে সেহেরির রান্নাও বন্ধ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ এবং অনুষ্ঠানের মাইকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। গ্রামে, হাট-বাজারে নতুন কোনো মানুষ দেখলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে বা ঠিকমতো জবাব দিতে না পারলে তাদের মারধর করে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১৫ মে সদরের মুলিয়া বাজার থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে জসিম নামে এক যুবককে আটকের পর এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে সদর থানার ওসি মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, সে রহিঙ্গা নয়, মানসিকভাবে সে ভারসাম্যহীন। রোববার রাত ১০টার দিকে কালিয়া-নড়াইল সড়কে আখলিয়া বাজার থেকে ষাটোর্ধ্ব এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে এলাকাবাসী ধরে মারধর করে স্থানীয় একটি ক্লাবে আটকে রাখে। পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চাঁচুড়ী ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস মুন্সী বলেন, গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় আমবাড়ি মসজিদ থেকে ঘোষণা করা হয়, রোহিঙ্গারা শিশুদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই যারযার ছেলে-মেয়েদের সাবধান রাখতে বলা হয়।

কালিয়ার মনোরঞ্জন কাপুড়িয়া কলেজের আয়া পুরুলিয়া গ্রামের পলি বেগম বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের ভয়ে রাতের সেহেরির রান্না পর্যন্ত করছেন না।

সদরের টাবরা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি কলেজের লাইব্রেরিয়ান নিউটন মল্লিক বলেন, গ্রামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে ৮০টি মানুষের মাথার প্রয়োজন। এ কাজে রোহিঙ্গাদের দয়িত্ব দেওয়ায় তারা বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সুযোগ বুঝে মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

শহরের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকার কলেজ শিক্ষক মায়া রানী অধিকারী জানান, সদরের মুলিয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে গত ১৬ মে এক মেলায় মাইকে ঘোষণা করা হয়, রোহিঙ্গারা ছেলে-মেয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সন্তানদের সাবধানে রাখবেন। একা একা কোথাও যেতে দেবেন না।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন পিপিএম(বার) বলেন, রোহিঙ্গা আতঙ্ক সম্পূর্ণই গুজব। তিনি গুজবে কান না দিতে স্থানীয় জনগণকে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন মসজিদের ইমামের মাধ্যমে জুম্মার নামাজের পূর্বে সবাইকে সচেতন করা যায় কিনা সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করব।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.