টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

নির্ভরযোগ্যদের হাতেই কৃষি ব্যাংকের বলি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: ২০১০ সালে কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেডকে ৩২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঋণ দেয় কৃষি ব্যাংক। বড় অংকের এ ঋণ দেয়ার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এক টাকাও আদায় করতে পারেনি কৃষি ব্যাংক। এ ঋণ অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট রেটিং করে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং (এনসিআর)  লিমিটেড।

প্রায় একই সময়ে কৃষি ব্যাংকের লোকাল প্রিন্সিপাল অফিস থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ পায় ডেল্টা ব্লেন্ডেড ইয়ার্ন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদের নামে দেয়া এ ঋণের পুরোটাই এখন মন্দমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে ঋণ নিয়ে ব্যাংকটির প্রায়  ২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কৃষিনির্ভর ব্যাংকিং থেকে সরে বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকে পড়ায় এ বিপত্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। আর এসব ঋণ দেয়া হয় কৃষি ব্যাংকের তত্কালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মোখতার হোসেনের সময়। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান এনসিআরের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ মোখতার হোসেনকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মোখতার হোসেন এমডি পদে যোগদানের একদিন আগে ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা প্রায় ছয় বছর এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ মোখতার হোসেন যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের ব্যাংকিং ছিল মূলত কৃষকনির্ভর। খাদ্যশস্য উত্পাদন, কৃষিভিত্তিক শিল্প-প্রকল্প, প্রকল্পের চলতি মূলধন, এসএমই, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, মাইক্রো ক্রেডিট, কনজিউমার ক্রেডিট এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকাণ্ডে ঋণ প্রদান করে আসছিল ব্যাংকটি। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ঋণ। এসব ঋণের সিংহভাগই  পরে খেলাপি হয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পাড়ি দিয়ে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২২ কোটি টাকায়, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৩৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে কৃষি ব্যাংক। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে ব্যাংকটি। ধারাবাহিক লোকসানের মুখে থাকা কৃষি ব্যাংকের বর্তমানে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি রয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কৃষি ব্যাংককে ২ হাজার ১৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার।

কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বণিক বার্তাকে বলেন, কৃষি ব্যাংক শুধু কৃষি খাতের জন্য নির্ধারিত থাকলেই ভালো হতো। ১৯৭৬ সাল থেকেই কৃষি ব্যাংক পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ব্যাংকটির সব চেয়ারম্যান ও এমডির মেয়াদেই আমদানি-রফতানিতে ঋণ দেয়া হয়েছে। আমদানি-রফতানি খাতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো তহবিল সংরক্ষণ করতে হয় না। কিন্তু এ খাত থেকে ভালো মুনাফা করা যায়। এজন্য আমরা ভেবেছিলাম, এ খাত থেকে কিছু টাকা আয় করলে কৃষি খাতে কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু দেখা গেল এ খাত থেকে খুব বেশি আয় হয়নি, বরং কিছু টাকা আটকে গেছে। এজন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখতার হোসেনকে বলে আমি বৈদেশিক বাণিজ্যে ঋণ বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, শুধু যে আমদানি-রফতানি খাতে ঋণ দেয়ার কারণে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে তা নয়, বরং আমাদের বোর্ডের গঠনকৃত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে ব্যাংকটির শাখা ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পর্যায়ে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, ঊর্ধ্বতনদের থেকে সাড়া না পেলে অধস্তন পর্যায়ে দুর্নীতি হওয়ার কথা নয়।

ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান কিংবা পরিচালকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্যই সাধারণত রাখেন না। ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কোনো প্রতিষ্ঠানকে ক্রেডিট রেটিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা এমডির কোনো ভূমিকা থাকে না।

কৃষি ব্যাংক থেকে ১৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক পাঠানের নামে অনুমোদনকৃত ব্যাংকটির কারওয়ান বাজার শাখা হতে দেয়া বড় অংকের এ ঋণ থেকে কোনো অর্থই আদায় করতে পারেনি কৃষি ব্যাংক। বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

একইভাবে ব্যাংকটির চট্টগ্রাম ষোলশহর শাখা আনিকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলীর নামে ঋণ অনুমোদন করে ১০১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আনিকা এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকেও কোনো অর্থ আদায় করতে পারেনি ব্যাংকটি। পুরো ঋণই মন্দমানের খেলাপি হয়ে গেছে।

কৃষি খাতকে সম্প্রসারিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় আরো রয়েছে ষোলশহর শাখার গ্রাহক এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের পাওনা ৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া রহমান ট্রেডিংয়ের কাছে পাওনা ৬২ কোটি ৭২ লাখ ও মনোব্যাগ লিমিটেডের কাছে ৫২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এসব ঋণও মন্দমানে খেলাপি হয়ে গেছে।

কৃষি ব্যাংকের বনানী করপোরেট শাখা থেকে ১১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণের নামে লোপাট করেছেন মো. ওয়াহিদুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী। ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের নামে ৫১ কোটি ৬০ লাখ, অটো ডিফাইনের নামে ৩২ কোটি ৯২ লাখ ও ফিয়াজ ট্রেডিংয়ের নামে নেয়া ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণের পুরোটাই এখন খেলাপি। এ নিয়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করেছে কৃষি ব্যাংক।

কৃষি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশনের বিনিময়ে মোখতার হোসেন কৃষি ব্যাংকের অর্থ দেশের আর্থিক খাতের দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বৈদেশিক বাণিজ্যিক খাতে বিতরণকৃত ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে গেছে, যা কখনো আদায় করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। শীর্ষ ২০ খেলাপির সিংহভাগই মোখতার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন।

বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেও মোখতার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে কৃষি ব্যাংক রফতানি খাতে ঋণ বিতরণ করে ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা আরো বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৫১ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এসব ঋণ বিতরণ করা হয় এমডি মোখতার হোসেনের সময়। তার বিদায়ের পর কৃষি ব্যাংকের রফতানি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। পরে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা আরো কমে মাত্র ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে মোখতার হোসেন অস্বাভাবিক হারে ঋণ দিয়েছেন আমদানি খাতে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আমদানি খাতে কৃষি ব্যাংক ঋণ দেয় ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তা ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৯৭ কোটি টাকায়। এর পর লাগামহীন গতিতে কৃষি ব্যাংক আমদানি খাতে ঋণ বিতরণ করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এ খাতে ঋণ বিতরণের হার ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬২ শতাংশ বেড়ে এ খাতে ঋণ ৫ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এর পরের অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা আমদানি খাতে ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকটি। যদিও মোখতার হোসেন এমডি পদ থেকে বিদায় নেয়ার পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ খাতে ঋণ বিতরণ ২ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।

মোখতার হোসেনের মেয়াদকালে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে ব্যাংকটির আমানত ও সামগ্রিক ঋণ বিতরণ। ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। অথচ মোখতার হোসেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ ছিল ৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। অথচ মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণ ১৫ হাজার ৪২১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ইউসুফ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর প্রায় ১৪ শতাংশ সুদে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, কৃষি খাতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। ১৪ শতাংশ সুদে সংগ্রহ করা আমানতের বিপরীতে কীভাবে আমরা ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দেব! সংগৃহীত উচ্চ সুদের আমানত ও বড় অংকের খেলাপি ঋণের কারণে কৃষি ব্যাংক মুনাফার মুখ দেখছে না।

তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংকের বিরুদ্ধে গত দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ তুলতে পারবে না। কিন্তু এর মানে এ নয় যে, কৃষি ব্যাংক লাভজনক হয়ে যাবে। কারণ অতীতের ভুলের মাশুল টানতে গিয়ে দিন দিন মূলধন ঘাটতি বেড়েই যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে লোকসানের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অকৃষি খাতে ঋণ দেয়ার জন্য কৃষি ব্যাংকের জন্ম হয়নি।

ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা কৃষি ব্যাংক ২০০০-০১ অর্থবছরে ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা মুনাফা করে। এর পরের অর্থবছরে ১৯৮ কোটি টাকা লোকসান হয় ব্যাংকটির। এর পর থেকে লোকসানের পরিমাণ প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার নিচে থাকলেও ২০১২-১৩ অর্থবছরে কৃষি ব্যাংকের লোকসান দাঁড়ায় ৩৮৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৯৫ কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৩৪ কোটি ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬০৫ কোটি টাকার লোকসান হয় কৃষি ব্যাংকের। গত চার বছরে কৃষি ব্যাংকের লোকসানের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে সাবেক এমডি মোখতার হোসেনের আগ্রাসী ব্যাংকিং দায়ী বলে মনে করেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে কৃষি ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। পরের পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়। যদিও মোখতার হোসেন বিদায় নেয়ার পরের অর্থবছরে কস্ট অব ফান্ড বৃদ্ধি না পেয়ে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও ব্যাংকটির কস্ট অব ফান্ড বাড়েনি বলে বর্তমান এমডি এম এ ইউসুফের দাবি।

কৃষি ব্যাংকের তথ্যমতে, সারা দেশে ব্যাংকটির বর্তমানে শাখা রয়েছে ১ হাজার ২৯টি। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে এসে ২৩১টি শাখাই লোকসানি শাখায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য চালু করা সব ক’টি শাখাই লোকসানিতে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT